English Version
আপডেট : ৩ নভেম্বর, ২০১৮ ১০:৫২

আজ জেলহত্যা দিবস

অনলাইন ডেস্ক
আজ জেলহত্যা দিবস

আজ ৩ নভেম্বর, জেলহত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের এ দিনে তত্কালীন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এএইচএম কামারুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে কাপুরুষোচিত ও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। চার নেতা সে সময় কারাগারে বন্দি ছিলেন। এ ঘটনার পরদিন তত্কালীন উপ-কারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

জাতি আজ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চার কাণ্ডারি ও চার জাতীয় নেতাকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের পাশাপাশি ইতিহাসের বর্বরোচিত এ কালো অধ্যায়টিকে স্মরণ করবে। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে বেশকিছু কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের উদ্যোগেও সারা দেশে দিনটি পালন করা হবে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা শহীদ জাতীয় চার নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ‘মানবতা ও গণতন্ত্রের ইতিহাসে ৩ নভেম্বর একটি কলঙ্কিত দিন। ১৯৭৫ সালের এ দিনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবর্তমানে তার ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। কারাগারের অভ্যন্তরে এ ধরনের বর্বর হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন।’

অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এ উপলক্ষে দেয়া বাণীতে বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করার পাশাপাশি জাতিকে নেতৃত্বহীন করার লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যার ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর স্বাধীনতাবিরোধী চক্র কারাবন্দি অবস্থায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর জাতীয় চার নেতার অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় তার অবর্তমানে জাতীয় চার নেতা মুজিবনগর সরকার গঠন, রণনীতি ও রণকৌশল প্রণয়ন, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ও মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা, কূটনৈতিক তত্পরতা, শরণার্থীদের তদারকিসহ মুক্তিযুদ্ধকে জনযুদ্ধে পরিণত করতে অসামান্য অবদান রাখেন।