কথার ফাঁকে চলছে চিপস, বাদাম আর জুস
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে বসেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সংলাপ শুরু হয়।
সংলাপে ১৪ দলীয় জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বিপরীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. কামাল হোসেন। এ সংলাপ শুরুর আগেই গণভবনের খাবারের মেন্যু নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হয়। অবশ্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিনয়ের সঙ্গে নৈশভোজের খাবার প্রত্যাখ্যান করে।
তারা মূলত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে সংলাপ করছে বলেই গণভবনের নৈশভোজ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়।
তাই বলে সংলাপের টেবিলে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের জন্য কোনো খাবার রাখা হয়নি, এমন নয়। তাদের সামনে রাখা হয়েছে, চিপস, বাদাম আর ফলের জুস। কথার ফাঁকে ফাঁকে এই তিন পদের খাবারে চলছে সংলাপ। ইতোমধ্যে ঐক্যফ্রন্টের ৭/৮ নেতা বক্তব্য দিয়েছেন।
দেয়া হয়েছে ড. কামাল হোসেনের প্রিয় চিজ কেক। সেখান থেকে অংশ বিশেষ তাকে মুখেও নিতে দেখা গেছে।
এই সংলাপে কামাল হোসেন ঐক্যফ্রন্টের ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমীন, সাবেক দুই সংসদ সদস্য এস এম আকরাম ও সুলতান মো. মনসুর আহমেদ, জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, তানিয়া রব, আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, আ ও ম শফিকউল্লাহ, মোকাব্বির খান, জগলুল হায়দার আফ্রিক এবং নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না।
সংলাপে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্যাহ, আবদুল মতিন খসরু, মো.আব্দুর রাজ্জাক, রমেশ চন্দ্র সেন, আনিসুল হক, মাহাবুব-উল আলম হানিফ, আবদুর রহমান, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুস সোবহান গোলাপ, শ ম রেজাউল করিম, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু, মইনুদ্দিন খান বাদল, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া।
সংলাপে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি শেষ পর্যন্ত যাননি। তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. শাহীন বলেছেন, ‘স্যার, হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এজন্য সংলাপে যেতে পারেননি।’
এর আগে সংলাপের জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের নির্ধারিত নেতারা সন্ধ্যা পৌনে ৭টার মধ্যে গণভবনে পৌঁছান।
গণভবন রওনা হওয়ার আগে বিকাল সাড়ে ৪টায় কামাল হোসেনের বাড়িতে পৌঁছে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। এর পৌনে এক ঘণ্টা পর তারা রওনা হন।
কামালের বাড়িতে বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর থাকলেও প্রতিনিধি দলে থাকা বিএনপির অন্য নেতারা ছিলেন না। তারা আলাদাভাবে গণভবনে পৌঁছান। সবাই পৌঁছে যাওয়ার ১৫ মিনিটের বেশি সময় পর গণভবনে ঢোকেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সব দলের অংশগ্রহণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে অর্থবহ সংলাপ চেয়ে গত ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন।
ওইদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা এ চিঠি পৌঁছে দেন।
সেই চিঠির বিষয়ে ২৯ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে অনির্ধারিত আলোচনা হয়। সেখানেই প্রধানমন্ত্রী সংলাপের বিষয়ে সাড়া দেন। এরপর ঐক্যফ্রন্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয়া হয়।


