English Version
আপডেট : ১৪ অক্টোবর, ২০১৮ ১৮:৪৬

সন্ধ্যায় দেবীর বোধন, জেগে উঠবেন দশভুজা

অনলাইন ডেস্ক
সন্ধ্যায় দেবীর বোধন, জেগে উঠবেন দশভুজা

প্রতিমা তৈরি শেষ। বাহারি রং চড়েছে প্রতিমার গায়। নিপুণ শিল্পী তার তুলির আলতো ছোঁয়ায় জাগিয়ে তুলেছেন মা দুর্গাকে। জেগে উঠছেন সরস্বতী। গণেশের গায় উঠেছে নকশীদার কুচির দুধসাদা ধুতি। মা লক্ষ্মীর হাসি যেন ঝরে পড়ছে। ভোরের শিউলি ছড়াচ্ছে মোহনীয় গন্ধ। এমন শারদীয় আবহেই সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

শঙ্খ, উলুধ্বণি আর ঢাকের বাদ্যির তালে রোববার সায়ংকালে আসনে অধিষ্ঠিত হবেন দেবী দুর্গা। বোধনের ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। পঞ্জিকার সূচি অনুযায়ী, সকাল ৮টা ১৪ মিনিট থেকে ষষ্ঠী শুরু হয়ে সোমবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হবে। তাই সায়ংকালে অর্থাৎ সন্ধ্যায় দেবীর বোধন অনুষ্ঠিত হবে।

বোধন দুর্গাপূজার অন্যতম একটি আচার। ‌‘বোধন’ শব্দের অর্থ জাগরণ বা চৈতন্যপ্রাপ্ত। পূজা শুরুর আগে সন্ধ্যায় বেলশাঁখায় দেবীর বোধন দুর্গাপূজার একটি অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গ। শরৎকালের দুর্গাপূজায় এই বোধন করার বিধান রয়েছে।

বিভিন্ন পুরাণ অনুসারে, ভগবান রামচন্দ্র শরৎকালে রাক্ষসরাজ রাবণকে বধ করার উদ্দেশ্যে দুর্গাপূজা করেন। তিনি অকালে এই বোধন করেন বলেই এটি অকালবোধন নামে খ্যাত। তবে বসন্তকালে যে দুর্গাপূজা তথা বাসন্তীপূজা করা হয়, তাতে বোধন করার প্রয়োজন হয় না। এবার দেবী দুর্গা আসছেন ঘোড়ায় আর যাবেন নৌকায় চড়ে। পাঁচদিনের এ উৎসব শেষ হবে ১৯ অক্টোবর শুক্রবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে।

এদিকে এবারের দুর্গাপূজায় বিজয়া দশমী শুক্রবার হওয়ায় ওইদিন বেলা ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত শোভাযাত্রা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত শনিবার দুপুরে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন-বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, মনীন্দ্র কুমার নাথ, অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল, বিপ্লব দে, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক কিশোর রঞ্জন মন্ডল প্রমুখ।

সভায় জানানো হয়, এবার দুর্গাপূজায় সারাদেশে ৩১ হাজার ২৭২টি পূজামন্ডপে পূজা উদযাপিত হবে। গত বছর পূজামন্ডপের সংখ্যা ছিল ৩০ হাজার ৭৭টি। এবার বৃদ্ধি পেয়েছে ১ হাজার ১৯৫টি। এরমধ্যে ঢাকায় ৬ হাজার ৮০৪টি, চট্টগ্রামে ৪ হাজার ৫০৬টি, সিলেটে ২ হাজার ৩৪১টি, খুলনায় ৪ হাজার ৮৮৩টি, রাজশাহীতে ৩ হাজার ৫৪২টি, রংপুরে ৫ হাজার ৩৭১টি, বরিশালে ১ হাজার ৭২৪টি ও ময়নসিংহে ২ হাজার ১০১টি। একমাত্র সিলেট বিভাগ ছাড়া বাকি সাতটি বিভাগেই পূজামন্ডপের সংখ্যা বেড়েছে।

সভায় বক্তারা বলেন, গত সোমবার শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের শুভ সূচনা হয়েছে। এরসঙ্গে শারদোৎসবের আমেজও ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। দেবীপক্ষের সূচনালগ্নেই ঘোষিত হয়েছে আনন্দময়ীর আগমনী বার্তা। বাঙালি জীবনে ধর্মাচরণ স্ব স্ব সম্প্রদায়ের হলেও এর উৎসবের ব্যাপ্তি সার্বজনীন। বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধারায় শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের। যেমনটি ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, ঈদে মিলাদুন্নবী, বৌদ্ধপূর্ণিমা ও বড়দিন। ঐতিহ্যের এই উৎসবগুলো ধর্ম নির্বিশেষে পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনকে গভীর থেকে গভীরতর করে। পূজার মাধ্যমে এই ধারাকেই প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

তারা বলেন, আগামী শুক্রবার বিজয়া দশমী। প্রতি বছরের মতো এবারও যথানিয়মে বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা নিরঞ্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। যেহেতু শুক্রবার জুম্মার দিন তাই ওইদিন দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত শোভাযাত্রা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে রাত ১০টার মধ্যে নিরঞ্জন সম্পন্ন করার জন্য সব অঙ্গ সংগঠনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।