English Version
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১২:৫৬

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর তিন প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর তিন প্রস্তাব

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিন দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের সদর দপ্তরে জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাইকমিশনার আয়োজিত 'শরণার্থী বিষয়ক বৈশ্বিক প্রভাবের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক : এ মডেল ফর গ্রেটার সলিডারিটি এন্ড কো-অপারেশন' শীর্ষক সভায় তিনি প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন।

প্রস্তাবগুলো হলো-

প্রথম, মিয়ানমারকে অবশ্যই বৈষম্যমূলক আইন ও নীতি বিলোপ এবং রোহিঙ্গাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধ ও তাদের দেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হবে।

দ্বিতীয়, মিয়ানমারকে অবশ্যই সকল রোহিঙ্গার নাগরিকত্ব প্রদানের সঠিক উপায়, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। প্রয়োজনে বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় মিয়ানমারের ভেতরে ‘সেফ জোন’ তৈরি করতে হবে।

তৃতীয়, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য রোধে অপরাধীদের জবাবদিহিতা, বিচার, বিশেষ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের সুপারিশমালার আলোকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গারা শতাব্দী ধরে বসবাস করে আসছিল, তাদেরকে সেখান থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত করা হয়েছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিতাড়িত এই ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিলেও নাগরিকদের চাহিদা মেটাতে গিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যার বিরূপ প্রভাব আমাদের সমাজ, পরিবেশ ও অর্থনীতির উপর পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, জোরপূর্বক স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে দায়িত্বশীল সরকার হিসাবে আমরা আমাদের সীমানা খুলে দিয়েছি। আমরা কেবল তাদের জীবনই রক্ষা করিনি, আমরা রাখাইন অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছি।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমার সরকারই তৈরি করেছে এবং মিয়ানমারকে এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও নিরাপত্তা এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে স্থায়ীভাবে ফেরত নেয়া দেখতে চায়।

ভূমির অপ্রতুলতা এবং অন্যান্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত প্রভাবের বিষয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নতুন করে উন্নয়ন করা দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে তারা উন্নত জীবন ধারণের পরিবেশ ও জীবিকার সুযোগ পাবে।’

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা দরকার জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশকে সাহায্য করার আহ্বান জানান।