English Version
আপডেট : ৬ আগস্ট, ২০১৮ ১০:৩১

অবশেষে ঢাকায় নামল বাস

অনলাইন ডেস্ক
অবশেষে ঢাকায় নামল বাস

নিরাপদ সড়কের নয়দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে নিরাপত্তার অজুহাতে গত কয়েক দিন রাজধানীসহ সারা দেশে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও আজ সকাল থেকে সড়কে দেখা মিলেছে গনপরিবহনের।

তবে বাসগুলোতে উঠতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে যাত্রীদের । গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীবাসী যে  তীব্র গণপরিবহন সঙ্কটে ভুগছিলেন আজ থেকে সেই ভোগান্তি কিছুটা দূর হবার কারনে বাসে উঠতে হিমশিম খাবার মাঝেও একধরনের স্বস্তি দেখা গেছে মানুষের মাঝে।

আজ সকাল থেকেই অফিসে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে গণপরিবহন কম থাকায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংক-বীমায় কর্মরত হাজার হাজার মানুষকে। দুয়েকটি বাস চললেও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সেগুলোতে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না।

ভোর থেকে মিরপুর-১, ১০ ও ১১, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া, পল্লবী ও কালশী সড়কে লাইসেন্সধারী গণপরিবহন দুয়েকটি চলছে। মগবাজার, মৌচাক, শান্তিনগর ও মালিবাগের সড়কগুলোতে গণপরিবহন কম দেখা গেছে। মহাখালী, গুলশান, বনানী, তেজগাঁও, নাবিস্কো, রামপুরা ও বাড্ডা এলাকার কোনো সড়কেও গণপরিবহন ছিল বললেই চলে। তবে দুয়েকটি বিআরটিসি বাস চললেও ওঠা মুশকিল।

রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড থেকে অভ্যন্তরীণ পথের বাসগুলো ছেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি দূরপাল্লার বাসগুলোও যাত্রী বহন করছে। সরকারি সড়ক পরিবহন বিআরটিসির বাসগুলোও যথারীতি চলাচল করছে।

অনেকেই রিকশা, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে করে ভেঙে ভেঙে অফিসে যাচ্ছেন। কিন্তু চাহিদার তুলনায় এসব যানবাহন কম থাকায় বেশি ভাড়া দাবি করা হচ্ছে। তার পরও অফিস ও গন্তব্যে পৌঁছাতে রাজি হচ্ছেন নগরবাসীরা। কিন্তু যাত্রীর চেয়ে যানবাহন কম হওয়ায় হুড়োহুড়ি পড়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই কুর্মিটোলায় জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ছাড়া আহত হন বেশ কয়েকজন। নিহত শিক্ষার্থীরা হল শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞানবিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মীম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তারা নৌপরিবহনমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খানের পদত্যাগ ও ৯ দফা দাবিতে টানা আট দিন ধরে আন্দোলন করেছেন। এ আন্দোলনের জের ধরে ঢাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোয় প্রথমে বাস চলাচল সীমিত হয়ে যায়। পরে বাস চলাচল একেবারেই বন্ধ করে দেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।