English Version
আপডেট : ৫ আগস্ট, ২০১৮ ১৭:১১

আজও রামপুরা-ধানমণ্ডিতে উত্তেজনা

অনলাইন ডেস্ক
আজও রামপুরা-ধানমণ্ডিতে উত্তেজনা

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঢাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থানের মধ্যে ধানমণ্ডি ও রামপুরায় উত্তেজনা চলছে। ধানমণ্ডি দুই নম্বর সড়কে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে। অন্যদিকে রামপুরায় শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হয়েছে লাঠিসোঁটা হাতে একদল যুবক।শনিবার ধানমণ্ডির ২ নম্বর সড়কে জিগাতলা থেকে সিটি কলেজ পর্যন্ত সংঘর্ষ ছড়িয়েছিল।

রোববার দুপুরে কয়েকশ শিক্ষার্থী সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে জড়ো হয়ে জিগাতলার দিকে মিছিল নিয়ে রওনা হলে পুলিশ বাধা দেয়। এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ে। বেলা সাড়ে ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত সেখানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল।

এরমধ্যে দুপুর ২টার দিকে রামদা, লাঠিসোঁটা নিয়ে সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয় হেলমেট পরা একদল যুবক। সেখানে নাগরিক টেলিভিশনের গাড়ি ভাংচুর হয়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দিকে বারবার কাঁদুনে গ্যাস ছুড়লেও লাঠিসোঁটা-কিরিচ হাতে থাকা হেলমেট পরা যুবকদের আটকাতে পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

ধানমণ্ডিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের; তারা বলছেন, শনিবার সেখানে হামলার শিকার শিক্ষার্থীদের সহমর্মিতা জানাতে যাচ্ছিলেন তারা। পুলিশ তাদের বাধা দিয়েছে। এর আগে সকালে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় একদল যুবককে মোটর সাইকেল নিয়ে মহড়া চালাতে দেখা গিয়েছিল।

শিক্ষার্থীদের এক সপ্তাহের আন্দোলনের মধ্যে নাশকতাকারীরা ঢুকেছে দাবি করে রোববার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা সড়কে অবস্থান নিয়েছে।রামপুরায় বেলা পৌনে ১টার দিকে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থান নেয় একদল যুবক। মেরুল বাড্ডা থেকে রামপুরা ব্রিজের দিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে এগোতে থাকে তারা।

রামপুরা ব্রিজের কাছে তখন স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইমপেরিয়াল কলেজ, খিলগাঁও ওমেন্স স্কুল ও কলেজসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সড়কে অবস্থান করছিল।ওই যুবকদের দেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় স্টেট ইউনিভার্সিটির সামনের গাছ ও দোকান ভেঙে লাঠি ও বাঁশ নিয়ে শিক্ষার্থীরাও অবস্থান নেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রামপুরা সেতুর উপর পুলিশ অবস্থান নিয়েছে।রামপুরা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা বলেন, “শিক্ষার্থীদের একজন আহত হয়েছে এমন গুজবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। গতকাল চারজন নিহত হওয়ার গুজবের কথাও বলছে তারা। আমরা তাদের লাঠিসোঁটা ফেলে রাস্তার এক প্রান্তে অবস্থান নিতে বলেছি।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “কেউ মারা যায়নি, যদি কেউ নিহত হয়ে থাকে, তাহলে আমি নিজের পোশাক খুলে তোমাদের সাথে অবস্থান নেব।” রামপুরায় ইউনিফর্ম ও আইডি কার্ড ছাড়া কিছু তরুণকে এ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন গাড়ি ঘুরিয়ে দিতে দেখা গেছে। তারা রিকশা থেকেও যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছিল।