English Version
আপডেট : ১ আগস্ট, ২০১৮ ১০:৫৭

বাস বন্ধ রেখেছেন পরিবহন মালিকরা!

অনলাইন ডেস্ক
বাস বন্ধ রেখেছেন পরিবহন মালিকরা!

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীকে পিষে মারার ঘটনার প্রতিবাদে কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। আর এ কারণে সড়ক থেকে বাস সরিয়ে নিয়েছেন পরিবহন মালিকরা। কখন থেকে যান চলাচল আবার শুরু হবে সেটাও কেউ বলতে পারছে না।

এদিকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে সড়ক আটকে থাকায় রাজধানীবাসীর স্বাভাবিক চলাচল যেমন আটকে গেছে; অন্যদিকে গণপরিবহন না পেয়েও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

রোববার (২৯ জুলাই) বিমানবন্দর সড়কে রেডিসনের বিপরীতে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর বিমানবন্দর সড়কে গাড়ি ভাঙচুরের পর রাস্তা আটকে বিক্ষোভ করেছিল শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা।

পরদিন তাদের পাশাপাশি ধানমণ্ডিতে কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরাও সড়কে নেমে বিক্ষোভ দেখায়। মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) ওই দুটি স্থানের পাশাপাশি ফার্মগেইট, মতিঝিল, শ্যামলী, জসিমউদ্দিন ও কাকরাইল এলাকায়ও সড়ক অবরোধ হয়; ভাঙচুর হয় কিছু গাড়িও।

এর মধ্যেই মঙ্গলবার দুপুর (৩১ জুলাই) থেকে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে বাসের সংখ্যা কমে যায়। মিরপুর, শ্যামলী, মহাখালী, বিজয় সরণি, উত্তরা, ফার্মগেইট এলাকা দেখা গেছে, বাসের জন্য হাজার হাজার মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন। কয়েকটি বাস এলেও তাতে ধাক্কা ধাক্কি করে সবাই উঠতে পারছেন না।

এদিকে, মিরপুর ১১ নম্বরের কালশি হয়ে বিমানবন্দর সড়কে মঙ্গলবার দেখা গেছে, অনেক মানুষ গাড়ির জন্য অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু কোনো গাড়ি না পেয়ে হেঁটেই গন্তব্যে যাচ্ছেন।

কথা হয় সৌমিত্র দাসের সঙ্গে। তিনি জানান, অবরোধ নেই। তারপরও গাড়ি কেন রাস্তায় নামেনি। নতুন করে যাত্রীদের হয়রানি করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে গাড়ির মালিক-শ্রমিকরা।

সড়কে বাসা কম থাকার ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েত উল্লাহ খান গণমাধ্যমকে জানান, ভাঙচুরের কারণে চালকরা বাস চালাতে চাইছেন না।

সড়কে বাস বের করলেই সেগুলো ভাঙচুর করা হচ্ছে। এজন্য সকালে বাস বের হলেও নিরাপত্তার কারণে বাসগুলো রাস্তা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ভয়ে বাস চালকরা রাস্তায় বাস বের করতে চাচ্ছেন না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বাস ভাঙচুরের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তিনি সড়কে শিক্ষার্থী মৃত্যুরি ঘটনায় দু:খ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে জানান, যারা এই ঘটনায় জড়িত তাদের বিচার আমরাও চাই। মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকে উত্তরা, ঢাকা কলেজের সামনে, শ্যামলী ও স্টাফ রোডে বহু গাড়ি ভাঙা হয়েছে বলে দাবি করেন এই পরিবহন শ্রমিক নেতা।