উচ্চ সুদে ৬ বোয়িং বিমান কিনছে সরকার
বিমান বাংলাদেশ তাদের বহরে আরও ৬টি বিমান যোগ করতে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এ বোয়িং বিমানগুলো কেনা হবে। এ জন্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশনসহ (এইচএসবিসি) বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৩৭০ মিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ড্রিমলাইনার বোয়িং বিমান কিনছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। আর এসব বিমান কেনার জন্য বাংলাদেশকে সুদ দিতে হবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ হারে। ১২ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
সুদের এ হারকে হার্ড টার্ম লোন বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এ সুদের হার অতি উচ্চপর্যায়ে। বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে যে ঋণ নিয়ে থাকে, তার সুদ হার কম থাকে। আর পরিশোধের সময়ও পাওয়া যায় বেশি। কিন্তু বোয়িং বিমান কিনতে সুদ কেন বেশি হচ্ছে, তা ক্ষতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে দুর্নীতি হওয়ার সুয়োগ থাকে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন। তবে এ সুদের হার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, হার্ডলোনে সুদ সব সময় একটু বেশি হয়। এ ঋণের সুদ হার হবে লন্ডন ইন্টার ব্যাংকের (লাইবর) রেটের সঙ্গে প্লাস ২ দশমিক ১৬ শতাংশ। অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ জানিয়েছেন, দেশীয় অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রুটে যাত্রীর চাপের কথা বিবেচনা করেই কঠিন শর্তের ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, মোট ছয়টি বোয়িং কেনার পর্যায়ে রয়েছে।
তবে চলতি বছরেই দুই বিমান আসবে। অত্যাধুনিক এসব বোয়িং বিমানের নাম দেওয়া হয়েছে ড্রিমলাইনার। শতকরা ২০ ভাগ জ্বালানি সাশ্রয়ী বিমানের নতুন সংযোজন ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে থাকছে ২৪টি বিজনেস ক্লাস এবং ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাসসহ সর্বমোট ২৭১টি আসন। তুলনামূলক বড় জানালা নির্জন ও শান্ত কেবিন, মুড লাইট ইত্যাদি কারণে এ উড়োজাহাজে ভ্রমণকারী যাত্রীরা পাবেন সতেজ ও আনন্দময় অভিজ্ঞতা। ড্রিমলাইনার বিমানে ওয়াই-ফাই, মোবাইলে কথা বলা, ক্লাসিক থেকে ব্লকবাস্টার মুভি; বিভিন্ন ঘরানার মিউজিক, ভিডিও গেমসের সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা। থাকবে টিভি চ্যানেলের লাইভ স্ট্রিমিং। অনলাইন কেনাকাটার সুবিধা। আরও কত কী? এমন সব সুবিধা নিশ্চিত করে আরামদায়ক ভ্রমণে এবার একমুঠো স্বপ্ন দেখছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। সূত্র জানায়, বিমান সংকটের কারণে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রুটে যাত্রী চাহিদা বাড়লেও রুটগুলোতে ফ্লাইট বাড়াতে পারছিল না রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ কারণে তারা এবার রুট বাড়ানোর লক্ষ্যে পরিকল্পনা করছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সংস্থাটি নতুন আরেকটি ড্যাশ-৮ মডেলের উড়োজাহাজ লিজে আনার পরিকল্পনা করছে। ড্যাশ উড়োজাহাজটি আনা হচ্ছে কানাডা থেকে। যে ড্যাশ উড়োজাহাজটি আসছে সেটির মাধ্যমে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যাত্রী পরিবহন শুরু করতে পারবে বলে আশাবাদী বিমান বাংলাদেশ। বিমান বাংলাদেশ সূত্র জানায়, বর্তমান বিমানের থাকা মাত্র দুটি ড্যাশ দিয়ে যাত্রী পরিবহনে হিমশিম খেতে হয়। অনেক সময় একটি রক্ষণাবেক্ষণে দিলে অনেক সমস্যায় পড়তে হয় বিমানকে।
অনেক সময় ফ্লাইট বাতিল বা সময়ও পরিবর্তন করতে হয়। এসব বিপত্তি থেকে উত্তরণের জন্যই এবার উড়োজাহাজ যুক্তের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। জানা যায়, বিমানের বর্তমানে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং দুটি ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ উড়োজাহাজ রয়েছে। এসব উড়োজাহাজ দিয়ে চলছে ১৫টি আন্তর্জাতিক ও সাতটি অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার কাজ। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে তা বাড়িয়ে ২০ ও ৭টিতে উন্নীত করা যাবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক রুট ইয়াঙ্গুন ও কলকাতার ফ্লাইটও বাড়বে বলে জানা গেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ বর্তমানে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রুটে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্দেশে বিমানের বহরে ৬টি উড়োজাহাজ যুক্ত হতে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিগত ৪৬ বছরে বিমান বাংলাদেশ ৫ কোটি ২৫ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে বিমান নিট মুনাফা করেছে ৪৭ কোটি টাকা। একই সময়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ৩৮১ কোটি টাকা রাজস্ব প্রদান করেছে। নতুন ড্রিমলাইনার যোগ হলে এ খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।


