English Version
আপডেট : ৪ জুলাই, ২০১৮ ২০:০১

‘২০২১ সালে পোশাক খাতের লক্ষ্যমাত্রা ৫০ বিলিয়ন ডলার’

অনলাইন ডেস্ক
‘২০২১ সালে পোশাক খাতের লক্ষ্যমাত্রা ৫০ বিলিয়ন ডলার’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮২ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত এটি। আগামী ২০২১ সাল নাগাদ এই খাতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তৈরি পোশাক রপ্তানির ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ২০১৫-১৮ মেয়াদের জন্য গৃহীত রপ্তানি-আমদানি নীতির ধারাবাহিকতায় ২০১৮-২০২১ মেয়াদের জন্য অনুরূপ নীতি প্রণয়নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ বুধবার (৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে ময়মনসিংহ-৯ আসনের আনোয়ারুল আবেদীন খানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তৈরি পোশাক খাতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পদক্ষেপসমূহ হচ্ছে- তৈরি পোশাক রপ্তানির বিদ্যমান বাজার সুসংহত ও সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ব্রাজিল, মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, চিলি এবং রাশিয়াসহ অপরাপর উন্নত দেশে বাণিজ্য প্রতিনিধি দল পাঠানো হচ্ছে। ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প স্থাপনে আর্থিক ও বিভিন্ন ধরনের উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে।’

‘বর্তমানে চাকরিতে নেই কিন্তু ভবিষৎতে এ খাতে কাজ করতে যাচ্ছে এমন যুবশ্রেণি এবং এ খাতের দক্ষ মিড লেভেল ম্যানেজার সংকট দূর করতে প্রশিক্ষণ নীতিমালা ও মডিউল প্রণয়নের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি বৃদ্ধি করে ৫ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের মজুরি ও ভাতা নির্ধারণের জন্য ‘জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫’ গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির মাধ্যমে অন্যান্য শ্রমিকদের সঙ্গে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের বেতনও খুব তাড়াতাড়ি পুনঃনির্ধারণ করা হবে।’

বগুড়া-৬ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম ওমরের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষকরাও এর বাইরে নয়। এসব শিক্ষক-কর্মচারিদের কল্যাণে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন ১০০ ভাগ, স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদার সমতা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং শিক্ষা কার্যক্রমে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা আনয়নের জন্য ২০১৫ সালের জুলাই থেকে এমপিও কার্যক্রমের বিকেন্দ্রীকরণ ও এবং অনলাইন ভিত্তিক করা হয়েছে।’

‘এছাড়া এবতেদায়ী শিক্ষকদের বেতন প্রতি মাসে ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। তাছাড়া ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত দেশের মোট ১৪২টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৪০টি বেনরকারি কলেজ সরকারি করা হয়েছে।’

‘আর যেসব উপজেলায় কোন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজ নেই সেখানে একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং একটি কলেজ সরকারিকরণের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে সরকারের। এ কার্যক্রমের আওতায় আরও ১৭৯টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ২৯৮টি কলেজ সরকারিকরণের কার্যক্রম চলছে।’

সংসদে টানা ২২ পৃষ্ঠা পড়ে শোনান প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় পার্টির এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে জাতীয় সংসদে টানা ২২ পৃষ্ঠার উত্তর পড়ে শুনিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকার কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রায় ১ ঘন্টা দাঁড়িয়ে তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের উত্তর পড়ে শুনান।

প্রায় ৩৪ পৃষ্ঠার ওই উত্তরের টানা ২২ পৃষ্ঠা পড়ার পর তিনি বাকি অংশটুকু পঠিত বলে গণ্য করার অনুরোধ জানালে স্পিকার এর অনুমতি দেন। এসময় সংসদের সভাপতিত্বে ছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ময়মনসিংহ-৮ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে এই দীর্ঘ জবাব দেন তিনি। এই ধরণের বড় উত্তরের ক্ষেত্রে এর আগে তিনি কিছু অংশ পড়ে শোনানোর পর পঠিত বলে গণ্য হওয়ার অনুরোধ করেন মন্ত্রীরা। কিন্তু এর ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটে বুধবার।

প্রশ্নের জবাব দেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্পিকার আমি এই উত্তর পুরোটায় পড়ে শুনাতে চাই। এরপর তিনি পড়তে শুরু করেন।

প্রশ্নের দীর্ঘ জবাব পেয়ে সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে ফখরুল উচ্চসিত কন্ঠে বলেন, উত্তরে আমি শুধু বলব ব্রাভো। তিনি বলেন, আমার মনে হয়েছে আমাদের বিরোধী দলীয় নেতা, মহাসচিবসহ সিনিয়র এমপিরা প্রধানমন্ত্রীর উত্তর খুব মনোযোগ সহকারে শুনেছেন। কিন্তু ওইদিকে (সরকারি দলের এমপিদের আসনের প্রতি ইঙ্গিত করে) চোখে একটু ঘুম ছিল। অনেকক্ষণ তো। এসময় সরকারি দলের এমপিরা না না বলে অস্বীকার করেন।

তিনি আরো বলেন, আমার মনে হয় যাদের জন্য এই উত্তর সেই শিক্ষা মন্ত্রীরাও অবাক হয়েছেন এত কাজ আমরা কখন করলাম!