English Version
আপডেট : ১২ মে, ২০১৮ ১৩:৫৭

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের ঘোষণা নিয়ে প্রজ্ঞাপনের দাবিতে আগামীকাল (১৩ মে) সকাল ১১টায় সারা দেশের সকল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে বিক্ষোভ কর্মসূচীর ঘোষণা করেছে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

একইসঙ্গে সকাল ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখার কথা বলেছেন তাঁরা।

শনিবার (১২ মে) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনের’ পরবর্তী করণীয় ও চলমান সমস্যা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।

মামুন বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কাল বিক্ষোভ সমাবেশ। এ সময় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।’

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিল ঘোষণা দিলেও এখন প্রজ্ঞাপন না হওয়ার কারণে আমরা হতাশ হয়েছি। আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে আমাদের অনেক ভাইয়ের ওপর হামলা করা হচ্ছে। আমরা এর নিন্দা জানাই।

এর আগে কোটা সংস্কার ও প্রজ্ঞাপনের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের নির্দেশনা না পেয়ে আবার কর্মসূচি ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা।

গত ৮ এপ্রিল থেকে পাঁচ দিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেন। পরদিন সচিবালয়ে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেন আন্দোলনকারীরা।

বৈঠক শেষে মন্ত্রীর আশ্বাসে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনও ৭ মে পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার পর ৯ এপ্রিল রাতে আন্দোলন স্থগিত হয়ে যায়। তবে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ১০ এপ্রিল থেকে ফের আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা কোটা সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আসার দাবি জানান।

পরে ১২ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কোটা পদ্ধতি বাতিল ঘোষণা করে সব চাকরিতে শতভাগ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দেন। এর দুই সপ্তাহ পরে গত ২৬ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে কোটা বাতিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের দাবি জানান আন্দোলনকারী। না হলে ফের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন তারা।

পরদিন ২৭ এপ্রিল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। সর্বশেষ গত ২ মে সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোটা বাতিলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের ক্ষোভ থেকে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ছাত্ররা কোটা ব্যবস্থা বাতিল চেয়েছে, বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ ১০ মে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোজাম্মেল হক খান জানান, কোটা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছে।