English Version
আপডেট : ৯ মে, ২০১৮ ১৪:৩৬

বৃষ্টি কি শান্তির পরশ, না ভোগান্তি!

অনলাইন ডেস্ক
বৃষ্টি কি শান্তির পরশ, না ভোগান্তি!

‘নীল নব ঘনে, আষাঢ় গগণে, তিল ঠাঁই আর নাহিরে, ওগো আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে।’ কবির সেই চিরচেনা চরন গুলি বৃষ্টির রূপকে যেন আরো পরিচয় করিয়ে দেয়। এ বছর বৃষ্টির আগমনটা একটু আগেই শুরু হয়েছে। বৈশাখের সাথে একই সাথে পথ চলতে শুরু করেছে সে। যখন থেকেই শুরু হয়েছে কালবৈশাখী ঝড়, তখন থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টির আগমন।

প্রকৃতি যখন তার ছন্দের পতন করে নিজেকে সাজায় অপরূপ সাজে। তখন মনে হয় প্রকৃতি যেন নববধূর সাজে সজ্জিত হয়েছে। ছয় ঋতুর আগমন প্রকৃতিকে ভিন্ন রূপে সজ্জিত করে। তেমনি গ্রীষ্মের দাবদাহ গরমের পর প্রশান্তির পরশ নিয়ে প্রকৃতিতে হাজির হয় বর্ষা। প্রকৃতিকে তার আপন সাজে সজ্জিত করে।

সকাল থেকেই আকাশটা যেন রাগ করে বসে ছিল। প্রকৃতিও দেখাচ্ছিল তার ভারী মেজাজ। বাতাসও জানিয়ে দিল আমি তোদের থেকে কম কিসের, সেও শুরু করল একরকম অবরোধ। যার ফলে সূর্যের দেখা না মিলতেই ব্যাস্ত শহরের মানুষগুলো একরকম অতিষ্ঠ হয়ে উঠল। কিন্তু কে ভাঙাবে এই তিন অভিমানির অভিমান। আর তাই অভিমান ভাঙাতেই হঠাৎ করেই কর্মব্যস্ত শহরে এক পশলা বৃষ্টি আগমন নিয়ে এলো প্রশান্তির পরশ।

এক পশলা বৃষ্টি এসে এ নগরের যান্ত্রিক মানুষের মনে কিছুটা হলেও ভালো লাগার পরশ বুলিয়েছে। যেন মরুর বুকে ফুল ফুটলো, চারিদিকে যেন প্রাণের সাড়া পড়ে গেল, ব্যস্ত শহরবাসী নিল এক দীর্ঘশ্বাস। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঝুম বৃষ্টিতে ভিজিয়েছে নগরের মানুষদের। ব্যস্ততা ভুলে অনেকেই নেমে পড়েছেন বৃষ্টি ভেজার আনন্দে। যতদূর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। একই সাথে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি! এ যেন এক অদ্ভুত সুন্দর, দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য।

বৃষ্টি যেমন মানুষের জীবনে প্রশান্তির পরশ এনে দেয়। তেমনি শহরবাসীর জন্য ভোগান্তিরও সৃষ্টি করে। রাস্তাগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়, যার ফলে মানুষকে পড়তে হয় চরম বিপাকে। শান্তিপ্রিয় মানুষও তাই শান্তির পরশকে স্বাগত জানিয়ে এই সামান্য ভোগান্তিকে গ্রহণ করে নেয়। বুধবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি পড়ে। তবে সূর্যের আগমনে ঝলমলে দিনে বৃষ্টির সেই আগমন অনেকটা ভুলিয়ে দেয়। ভাপসা গরমকে উপেক্ষা করে সকালে বৃষ্টির কারণে ভোগান্তির শিকারও হচ্ছেন অনেকে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া কর্মজীবী মানুষ। অফিসে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে। কাজ করতে হচ্ছে বৃষ্টি উপেক্ষা করে। তা ছাড়া রাজধানীর কিছু ‍কিছু এলাকার সড়কে পানি জমে যাওয়ায় সেসব এলাকায় মানুষেরও দুর্ভোগের শেষ নেই।

আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান জানান, প্রতিবছর মার্চ-মে মাস বৃষ্টির মৌসুম। এসময় বৃষ্টিপাত, বিজলী চমকানো ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলসহ পাশ্ববর্তী অঞ্চল এবং ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহে এসময় বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টি, ভারী বৃষ্টিপাত ও কালবৈশাখী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সাধারণত এ মৌসুমে বিকেলের দিকে বজ্রমেঘ তৈরি হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, অন্যদিকে আগামী তিনদিন সারাদেশে বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।