English Version
আপডেট : ৫ মে, ২০১৮ ১৫:৪৫

২৪ মে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
২৪ মে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৪ মে দুদিনের সরকারি সফরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন। বিশ্ব কবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভবন ও নিপ্পন ভবনের অনুকরণে তৈরি বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করতেই তিনি এই সফরে যাচ্ছেন। একই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

দু’দেশের কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ২৫ মে দুই দেশের দুই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে। এবছরের শেষের দিকে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ও আগামী বছরের শুরুতে ভারতের নির্বাচনের আগে

দুই দেশের মধ্যকার প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে চান। তাছাড়া অমিমাংসিত তিস্তার বিষয়েও দুই রাষ্ট্র প্রধান এবং পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, ২৪ মে শেখ হাসিনা বর্ধমানের চুরুলিয়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্থানে যাবেন এবং নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া ডিলিট উপাধি গ্রহণ করবেন। তিনি সেখানে বক্তৃতা করবেন। ২৫শে মে বিশ্বভারতীতে নির্মিত বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা। বিশ্বভারতীর সমাবর্তনে আচার্য হিসেবে মোদী উপস্থিত থাকবেন বলে বিশ্বভারতীয় উপাচার্য সবুজকলি সেন গণমাধ্যমকে জানান।

বিশ্বভারতীতে তৈরি বাংলাদেশ ভবনে অডিটোরিয়াম, মিউজিয়াম এবং গবেষণার সুবিধা থাকছে। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ ভবন। এই ভবন দুই দেশের সম্পর্কের স্মারক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গত সপ্তাহে এক প্রতিনিধিদল নিয়ে ভবনের সর্বশেষ অবস্থা দেখে এসেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই সফরে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে। ইতোমধ্যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের দ্ইু জাতীয় নির্বাচনের আগে দুই দেশের মধ্যকার প্রকল্পগুলো শেষ করতে চান। এ বিষয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ে আলোচনার পাশাপাশি দুই রাষ্ট্র প্রধান কথা বলতে চান।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশকে তিন দফায় ভারত মোট ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দেয়। ২০১১ সালে দেওয়া হয় ১০০ কোটি ডলার। তার মধ্যে ২০ কোটি ডলার ছিল অনুদান। চার বছর পর নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে ২০০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এরপর শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় ৫০০ কোটি ডলারের। এর মধ্যে ৫০ কোটি ডলার নির্ধারিত সামরিক খাতের জন্য। বাকি ৪৫০ কোটি ডলার কোন কোন খাতে ব্যবহৃত হবে, সেই রূপরেখার কিছু কিছু তৈরি। এ পর্যন্ত মাত্র ৮০ কোটি ডলারের সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। অর্থ এসেছে মাত্র ৩৮ কোটি ডলার। এসব প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে চান মোদি। তাছাড়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বার বার অর্থছাড়ের বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।