English Version
আপডেট : ২৯ এপ্রিল, ২০১৮ ১৭:৫৪

জলজট-যানজটে রাজধানী অচল

অনলাইন ডেস্ক
জলজট-যানজটে রাজধানী অচল

সামান্য কিছু সময়ের বর্ষণে রাজধানী ঢাকার পথে পথে সৃষ্টি হয়েছে জলজট। আর সে কারণে আজ রোববার বৌদ্ধ পূর্ণিমার ছুটির দিনেও বিভিন্ন সড়কে তৈরি হয়েছে যানজটের। বিভিন্ন  এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আজ সকাল থেকে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে কিছু সময়ের বর্ষণে পানি জমেছে নগরীর বিভিন্ন রাস্তায়। আবহাওয়া অফিস জানায়, বেশ কয়েক ঘণ্টার ভ্যাপসা গরমের পর হঠাৎ করেই আজ সকাল ৮টার দিকে আকাশ আঁধার করে রাজধানীতে ধেয়ে আসে কালবৈশাখী। এই ঝড়ের সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭৩ কিলোমিটার। সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টায় ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ঢাকায়। আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, ঝড়-বৃষ্টির এই প্রবণতা চলবে আরও কয়েক দিন। 

এদিকে বুদ্ধ পূর্ণিমার সরকারি ছুটি থাকায় আজ রোববার সকালে এমনিতে রাস্তা ছিল মোটামুটি ফাঁকা, লোকজন বের হয়েছে কম। তবে যারা বের হয়েছেন তারা পড়েছেন যানবাহন স্বল্পতায়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে ঢাকা ওয়াসার ড্রেনেজ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, বৃষ্টির পর কিছু এলাকায় সড়কে পানি জমার খবর তারা পেয়েছেন। তবে সেটা খুব বেশি নয়।

আজ সকালের বৃষ্টির পর মিরপুর ১০ নম্বর থেকে থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুপাশে, ১৪ নম্বর সেকশন, শেওড়াপাড়া, ইব্রাহিমপুর, কচুক্ষেত এলাকার বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায়। মিরপুরে মেট্রোরেলের কাজ চলছে বলে সড়কে গাড়ি চলার জায়গায় এমনিতেই কমে গেছে। তার মধ্যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ১০ নম্বর থেকে ফার্মগেটমুখী সড়কে দেখা যায় ব্যাপক যানজট। অনেক গাড়িকে মিরপুর ১ নম্বর ঘুরে ফার্মগেইটের দিকে যেতে দেখা যায়। পশ্চিম রাজারবাজার, ইন্দিরা রোডের বিভিন্ন সড়কে দেখা যায় নিষ্কাশন নালা থেকে উপচে ময়লা পানিতে রাস্তা সয়লাব হয়ে আছে।

জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার পূর্বপাশের রাস্তা, চন্দ্রিমা উদ্যানের মুখে এবং জাহাঙ্গীর গেট এলাকার সড়কের এক প্রান্তেও জলাবদ্ধতা দেখা যায়। পশ্চিম রাজাবাজার এলাকার বাসিন্দারা বলেন, গত কয়েক মাস ধরে রাস্তায় কাজ চলতে দেখেছি। নতুন নতুন পাইপ বসাচ্ছে। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে ভোগান্তি হলেও ভাবছিলাম এবার বুঝি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলবে। কিন্তু অবস্থা তো আগের মতই। বৃষ্টি হলেই পানি জমছে।

আজ দুপুরের দিকে ফার্মগেইট থেকে কারওয়ান বাজারে যাওয়ার সড়কেও বিভিন্ন অংশে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। ওই সময় শুক্রবাদ এলাকাতেও রাস্তায় পানি ছিল বলে জানান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ফাতেমা ইসলাম। এলাকাবসী জানান, আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে পলাশীমুখী সড়ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামের সামনের সড়ক, তেজগাঁও সাতরাস্তা থেকে মহাখালীগামী সড়কের বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে ছিল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত।  আর নাবিস্কো এলাকায় পানির কারণে যান চলাচলের জায়গা কমে আসায় সৃষ্টি হয় যানজট। অন্যদিকে বিমানবন্দর সড়কের এমইএস বাসস্ট্যান্ড ফ্লাইওভারের মুখে, বনানী কবরস্থান, আর্মি স্টেডিয়ামের সামনের সড়কে একটা অংশে পানি জমে থাকতে দেখা যায় দুপুর পর্যন্ত। ইব্রাহিমপুরের বাসিন্দারা বলেন, সারা বছরই রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলে। কিন্তু জলাবদ্ধতার কোন সমাধান হয় না, বৃষ্টি হলেই আমরা সমস্যায় পড়ি। এর কি কোনো প্রতিকার নাই?