English Version
আপডেট : ২৮ এপ্রিল, ২০১৮ ১৯:৪২

‘বাংলাদেশি পাসপোর্টে ২ লাখ রোহিঙ্গা বিদেশে’

অনলাইন ডেস্ক
‘বাংলাদেশি পাসপোর্টে ২ লাখ রোহিঙ্গা বিদেশে’

বাংলাদেশি পরিচয়ে অন্তত দুই লাখ রোহিঙ্গা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে তারা বিদেশে গিয়ে কাজ করে মিয়ানমারে টাকা পাঠান। তাদের কারণে প্রকৃত বাংলাদেশিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি এসব তথ্য জানিয়েছেন। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশিস-(এরআবি)’ আয়োজিত ‘এসো গড়ি মাতৃভূমি’ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথিরি বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।   বিভিন্ন দেশ সফরের অভিজ্ঞতায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, বিদেশ গেলে অনেকে বাংলাদেশি পরিচয়ে দেখা করতে আসে। বাড়ি কোথায় জিজ্ঞেস করলে জানা যায়, তারা রোহিঙ্গা। মন্ত্রীর ধারণা, বাংলাদেশি পাসপোর্টে বিদেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা দুই থেকে আড়াই লাখ।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের দাবি দেশে টাকা (রেমিট্যান্স) পাঠাতে ফি কমানো হোক। বিদ্যমান ব্যবস্থায় বিদেশ থেকে দেশে টাকা পাঠাতে দেশভেদে আট শতাংশ পর্যন্ত ফি দিতে হয়। অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ ফি’র কারণে বছর বছর রেমিট্যান্স কমছে। কিন্তু অবৈধ পথে দেশে প্রচুর টাকা আসছে। ২০১৫ সালে ১৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসে বাংলাদেশে। গত বছর তা কমে দাঁড়ায় ১৩ বিলিয়ন ডলারে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে টাকা পাঠাতে উচ্চ ফি দিতে হলেও, অনেক দেশে রেমিট্যন্স ফি শূন্য।

নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, রেমিট্যান্সে ফি কমানোর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছে। যারা বৈধ পথে দেশে টাকা পাঠাবে তাদের প্রণোদনা দেওয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় রাজি হলে এ প্রণোদনা চালু করা সম্ভব হবে। বৈধ পথে দেশে টাকা পাঠাতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী।

বাংলাদেশিরা বিদেশ যেতে হয়রানি, প্রতারণার শিকার হন। জনশক্তি রপ্তানিখাত ‘সিন্ডিকেটের’ নিয়ন্ত্রণে এমন অভিযোগও রয়েছে। নুরুল ইসলাম বিএসসিও স্বীকার করেন, কিছু ক্ষেত্রে এখনো সমস্যা রয়ে গেছে। মন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে সিন্ডিকেট হয়েছে, তবে বাংলাদেশে নয়। বাংলাদেশ কর্মী পাঠানো বন্ধ করলে, কেউ যেতে পারবে না, সাধারণ শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।’ মন্ত্রী দাবি করেন, বাংলাদেশে কোন ‘সিন্ডিকেট’ নেই।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারম্যান এমএস শাকিল চৌধুরী। বক্তৃতা করেন সাবেক মন্ত্রী এসকে শহিদুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেইন জিল্লুর রহমান, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সভাপতি সফিউল আলম মহিউদ্দিন), নির্বাচন কমিশন সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্ভণর অবু হেনা রেজা হাসান প্রমুখ।

রেমিট্যান্স আহরণে সাফল্যে ইসলামী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক, সাইথইস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া এবং দি সিটি ব্যাংককে পুরস্কৃত করা হয় অনুষ্ঠানে।