English Version
আপডেট : ২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ২২:১০

তারেক ইস্যুতে বিএনপিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ

অনলাইন ডেস্ক
তারেক ইস্যুতে বিএনপিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নাগরিকত্ব ইস্যুতে লিগ্যাল নোটিশ প্রসঙ্গে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। সোমাবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রতিমন্ত্রীর নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ চ্যালেঞ্জ জানান তিনি। 

তারেক রহমান পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য জমা দিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশ্নকারী সাংবাদিককে বলেন, আপনাকে কী বললাম, আপনি তো বুঝলেন না। সে (তারেক রহমান)আবেদনও করেনি যে আমি রিনিউ করতে চাই। যদি করে থাকে আমি উল্টো চ্যালেঞ্জ দিলাম জাতীয়তাবাদী দলকে আপনারা সে কাগজ দয়া করে দেখান, যদি রিসিপ্ট কপি থাকে দেখান।

বিএনপির লিগ্যাল নোটিশের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‌আমি কোনো নোটিশ পাইনি। আই ওয়েলকাম ইট। এটা শুনে ভালো লাগছে যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বাংলাদেশের আদালতে আশ্রয় নেয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে। কিন্তু সেই সঙ্গে আমার এই প্রশ্ন, এই আদালত তারেক রহমানকে খুঁজে বেড়াচ্ছে সেই আদালতের আশ্রয় নিলে আদালত তাকে আশ্রয় দেবে কিনা?

তারেক রহমানের পাঠানো লিগ্যাল নোটিশ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শাহরিয়ার আলম বলেন, তিনি (তারেক রহমান)বাংলাদেশি পাসপোর্ট সারেন্ডার করেছেন।

নাগরিকত্ব ছেড়ে দিতে হলে কি কোনো আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় জানতে চাইলে শাহরিয়ার আলম বলেন, আমি জানি না। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব অতদূর পড়ে নাই, ওটা আইনমন্ত্রীর বিষয়।

আরেক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা যতদূর জানি ২০১৪ সালের ২ জুনের পর তারেক রহমান আন্তর্জাতিক কোনো সফর বা অন্য কোনো দেশে যাননি।

তিনি আরও জানান, বিদেশে থাকা অবস্থায় মেয়াদ শেষে হলে তো দেশে ফেরত আসতে পারছেন না।

বাংলাদেশের পাসপোর্টের জন্য আবেদন করলে কী করবে? এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, আইনানুগভাবেই করবে।

তিনি আর নাগরিক নন এমন প্রশ্নে জাবাবে মন্ত্রী বলেন,আমি জানি না। আপনার একটাই ন্যাশনাল আইডেনটিফিকেশন ছিল সেটা আপনি হস্তান্তর করে দিয়েছন চার বছর আগে।

তারেককে দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, আমরা বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার মতো পরিস্থিতি হলে তাকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট দেয়া হবে। যাদের পাসপোর্ট নেই ,বিদেশে অনেকের পাসপোর্ট হারিয়ে যায়, অনেকে ফেলে দেয়,অন্যভাবে আরেক দেশে অবৈধভাবে থাকার জন্য অনেক কিছু করে। তাদের কে আমরা টেম্পোরারি ওয়ানওয়ে ট্রাভেল ইস্যু করি। আর সেটা সময় বলবে। প্রসঙ্গত, ‘তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন’— এমন বক্তব্য দেয়ায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এছাড়া প্রতিমন্ত্রীর ওই বক্তব্য প্রকাশ করায় দুটি দৈনিকের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সোমবার দুপুরে তারেক রহমানের পক্ষে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল রেজিস্ট্রি ডাকযোগে প্রতিমন্ত্রী, দৈনিক কালের কণ্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।

নোটিশে ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন’—এ খবর ‘ভিত্তিহীন’দাবি করে তা প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে।

আগামী ১০ দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এ বক্তব্য রাখা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এ বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য। ১০ দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় তাদের সবার বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করা হবে।’

গত ২১ এপ্রিল যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন।

তিনি বলেন, ‘লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে সবুজ পাসপোর্ট জমা দিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন তারেক রহমান।’

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘সেই তারেক রহমান কীভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বপালন করেন?’ এ বক্তব্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বরাত দিয়ে ২৩ এপ্রিল সোমবার দৈনিক কালের কণ্ঠ ও দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত হয়।