English Version
আপডেট : ১০ এপ্রিল, ২০১৮ ১০:৫৮

আদালতের নির্দেশেও ছোট হয়নি স্কুলব্যাগ

অনলাইন ডেস্ক
আদালতের নির্দেশেও ছোট হয়নি স্কুলব্যাগ

আদালতের নির্দেশেও ছোট হয়নি স্কুলমুখী শিশুদের বইয়ের ব্যাগ। প্রাথমিকে শিশুর শরীরের ১০ শতাংশের বেশি ওজনের ব্যাগ বহন ইস্যুতে আদালতের আদেশের গুরুতর লঙ্ঘন করছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। হাইকোর্টের আদেশের ছয় মাসের মধ্যে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের কথা। 

প্রায় দেড় বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সর্বশেষ আদেশ না মানায় হাইকোর্ট বিবাদীদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী জানিয়েছেন। এদিকে বেশি ওজনের ব্যাগ বহন শিশুর দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক অসুস্থতার কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।

২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রাথমিক স্কুলের শিশুদের শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারি স্কুলব্যাগ বহন নিষেধ করে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। রায় পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে আইন করতে আইন সচিব, শিক্ষা সচিব, গণশিক্ষা সচিবসহ বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশনাসহ এ রায় দেন।

রায়ে আইন হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রাথমিকের শিশুদের শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ওজনের ব্যাগ বহন করা যাবে না বলে নতুন সার্কুলার জারি করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরকে নির্দেশ দেয়া হয়।

৩০ দিনের মধ্যে এ সার্কুলার জারি করতে বলা হয়। এতে তদারকির জন্য সেল, ব্যর্থ হলে কী শাস্তি, তা-ও উল্লেখ করতে বলা হয়। আর তা না হলে এর দায়দায়িত্ব গণশিক্ষা সচিব ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর মহাপরিচালককে বহন করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে অভিভাবক, শিক্ষকসহ অংশীজনের সচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।

প্রাথমিকে শিশুর ব্যাগ বহনে সুনির্দিষ্ট আইন, বিধি ও নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে ২০১৫ সালে সুপ্রিমকোর্টের তিন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। তারা হলেন মাসুদ হোসেন দোলন, মোহাম্মদ জিয়াউল হক ও আনোয়ারুল করিম।

প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে প্রাথমিক স্কুলমুখী শিশুদের শরীরে ১০ শতাংশের বেশি ওজনের ব্যাগ বহন নিষেধ করে আইন প্রণয়নের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাসুদ হোসেন দোলন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। এই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট তা যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে এ রায় দেন। আদালতের নির্দেশের পর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।

এদিকে এ আদেশের পর সরকার সার্কুলার জারি করলেও তা কার্যকর হতে দেখা যায়নি। অনুসন্ধানে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণীর ২৫ শিক্ষার্থীর ব্যাগের ওজন করে তাদের গড় ওজনের ২০ শতাংশের বেশি পাওয়া যায়।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আজহারুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, অতিরিক্ত ওজনের ব্যাগের কারণে শিশু মেরুদণ্ড ও হাড়ের বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে বেড়ে উঠছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ডিজি মো. আবু হেনা মোস্তাফা কামাল যুগান্তরকে বলেন, আমরা আইন তৈরি করছি।

মনিটরিং করা হচ্ছে। অভিভাবক ঐক্য ফোরাম সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শিশুর ব্যাগের ওজন যেন বেশি না হয়।