English Version
আপডেট : ২৭ মার্চ, ২০১৮ ০৯:১১

বর্ণাঢ্য আয়োজনে বঙ্গভবনে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

অনলাইন ডেস্ক
বর্ণাঢ্য আয়োজনে বঙ্গভবনে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

মহান স্বাধীনতার ৪৭তম বার্ষিকী উদযাপনের জন্য বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়েছিল বঙ্গভবনে। খ্যাতনামা শিল্পীদের সুরের মূর্ছনাসহ নানা আয়োজনে সরকার প্রধান থেকে শুরু করে বিভিন্ন দলের রাজনীতিক, কূটনীতিক, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার এবং শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে নিয়ে দিবসটি উদযাপন করলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আজ সোমবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাষ্ট্রপ্রধানের এই সংবর্ধনায় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের উপস্থিতিতে সরগরম ছিল বঙ্গভবনের সবুজ প্রাঙ্গণ। লাল-সবুজ পাতা দিয়ে তৈরি একটি পতাকা অনুষ্ঠানে আনে ভিন্নমাত্রা।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ; সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকাল পৌনে ৫টায় স্ত্রী রাশিদা খানমকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গভবনের মাঠে আসেন রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে পৌঁছান তার কিছুক্ষণ আগে।

রাষ্ট্রপতি সস্ত্রীক মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় জাতীয় সংগীত। এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কুশল বিনিময় করেন। পরে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবারের সদস্যসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তারা। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেওয়ার পাশাপাশি তাদের সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেন মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ। এরপর বঙ্গভবনের মাঠে ভিভিআইপি এনক্লোজারে স্বাধীনতা দিবসের কেক কাটেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।   পরে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিদেশি অতিথি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, গণমাধ্যমের সম্পাদক, তিন বাহিনীর প্রধানসহ সমারিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তারা। 

অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত এলাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে বসেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানাও ছিলেন অনুষ্ঠানে, ছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদও। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, এইচ টি ইমাম, মসিউর রহমান। 

ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, ব্রিটিশ হাই কমিশনার এলিসন ব্লেইক, চীনের দূত ঝ্যাং জুয়ো, ডিপ্লোম্যাটিক কোরের ডিন ভ্যাটিক্যানের দূত জর্জ কোচেরি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূত রেনসে টিরিংক, জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোইয়াসু ইজুমিসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের এই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন অতিথি হয়ে। নাট্যব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম, পীযূষ বন্দ্যোপ্যাধ্যায়সহ শিল্পাঙ্গনের বিভিন্ন পরিচিত মুখ বঙ্গভবনের এই অনুণ্ঠানে ছিলেন। ভারতের প্রেস ক্লাবের সভাপতি গৌতম লাহিড়ী ও সাধারণ সম্পাদক বিনয় কুমারও বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আর অনুষ্ঠানে গান গেয়ে শোনান শিল্পী রথীন্দ্র নাথ রায়, রফিকুল আলম, ফাহমিদা নবী, হৈমন্তী রক্ষিত, কোনাল ও হায়দার হোসেন।