English Version
আপডেট : ২৫ মার্চ, ২০১৮ ১৫:৩১

সরকারের ধারাবাহিকতার জন্যই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ

অনলাইন ডেস্ক
সরকারের ধারাবাহিকতার জন্যই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ

সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার জন্যই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে পেরেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে ১৮ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে স্বাধীনতা পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় আসা বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে এরইমধ্যে সম্মানজনক অবস্থানে এসেছে। বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রাকে অব্যহত রাখতে হবে। দেশের জন্য আরও সম্মান বয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বীরের জাতি, কারও কাছে মাথা নত করে আমরা থাকব না, কারও কাছে হাত পেতে চলব না। এসময় দেশ গঠনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতির পিতা সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে গড়ে তুলেছিলেন। এ সময়ে প্রদেশ থেকে রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া নতুন একটি দেশ স্বল্পোন্নত দেশের স্বীকৃতি পেয়েছিল। ৭৫ এ হত্যাকাণ্ডের পর দেশ আরও পিছিয়ে যায়। আমরা ৪৩ বছর পর স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে এসেছি। এটি দুর্ভাগ্য যে, অনেক পরে আমাদের এই স্বীকৃতি অর্জন করতে হল।

স্বাধীনতা পদক পুরস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই পদক পুরস্কার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমে আরও উদ্বুদ্ধ হবে। দেশকে তারা আরও ভালোবাসতে পারবে বলে আশা করি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।

পদকপ্রাপ্তরা হলেন- স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য প্রয়াত কাজী জাকির হাসান, শহীদ বুদ্ধিজীবী এমএমএ রাশীদুল হাসান, প্রয়াত শংকর গোবিন্দ চৌধুরী, এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ বীরউত্তম, প্রয়াত এম আব্দুর রহিম, প্রয়াত ভূপতি ভূষণ চৌধুরী ওরফে মানিক চৌধুরী, শহীদ লেফটেন্যান্ট মো. আনোয়ারুল আজিম, প্রয়াত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, শহীদ আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, শহীদ মতিউর রহমান মল্লিক, শহীদ সার্জেন্ট জহরুল হক ও আমজাদুল হক। সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং কৃষি সাংবাদিকতায় চ্যানেল আইয়ের পরিচালক (বার্তা) শাইখ সিরাজকে এ সম্মাননা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া অধ্যাপক ডা. একে এমডি আহসান আলী চিকিৎসাবিদ্যায়, অধ্যাপক একে আজাদ খান সমাজসেবায়, সেলিনা হোসেন সাহিত্যে এবং ড. মো. আব্দুল মজিদ খাদ্য নিরাপত্তায় এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পান।

স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দিচ্ছে সরকার। স্বাধীনতা পদকের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রাম স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, তিন লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেয়া হয়।