English Version
আপডেট : ১৭ মার্চ, ২০১৮ ০৬:৪৭

উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জন করলো বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জন করলো বাংলাদেশ

প্রাথমিকভাবে উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এটি চূড়ান্ত হতে অপেক্ষা করতে হবে আরো তিন বছর। অর্থাৎ ২০২১ সাল পর্যন্ত। স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসতে তিনটি সূচক মাথাপিছু আয় ১২৪২ মার্কিন ডলার, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতায় পাশ করেছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার এ বিষয়ে প্রাথমিক যোগ্যতার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)। জাতিসংঘের ওয়েবসাইট এবং অন্যান্য বিভিন্ন সূত্র থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, তিন বছর পর গত সোমবার বৈঠক শুরু করে জাতিসংঘের এই কমিটি। বৈঠকটি শেষ হয় শুক্রবার। এই বৈঠকেই প্রাথমিক যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী, ধারাবাহিকভাবে ২০২১ সাল পর্যন্ত অর্জনের সাফলতা ধরে রাখতে হবে বাংলাদেশকে। তাহলেই চূড়ান্ত সাফল্য আসবে হাতের মুঠোয়।

নিয়ম অনুযায়ী, এলডিসি উত্তরণের জন্য ১ হাজার ২৪২ মার্কিন ডলার মাথাপিছু আয় হতে হয়। সেখানে পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব মতে বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার। এছাড়া মানবসম্পদের উন্নয়নে ৬৬ পয়েন্ট অর্জন করতে হয়। সেখানে বাংলাদেশ ৭২ দশমিক ৯ পয়েন্ট অর্জন করেছে। সবশেষ অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে ২৪ দশমিক ৯। এটি ৩২ পয়েন্টের উপরে থাকলে কোনো দেশকে অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর বলা হয়।

অন্যদিকে ফেসবুক স্ট্যাটাসে শুক্রবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম লিখেছেন, “জাতিসংঘের উন্নয়ন বিষয়ক কমিটি বৃহস্পতিবার রাতে নিউইয়র্কে বৈঠকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ থেকে উত্তরণের সব সূচক প্রথমবারের মতো অর্জন করেছে। শুক্রবার তারা আমাদের জাতিসংঘে স্থায়ী মিশনে এটা নিশ্চিত করে একটা চিঠি হস্তান্তর করবে। নিয়ম অনুযায়ী, তিন বছর পরপর দুইবার এটা অর্জন করলেই চূড়ান্তভাবে কোনো দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ ঘোষণা করা হয়। আমাদের এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে এবং ২০২১ সালে আবারও নিশ্চিত করতে হবে একই সূচকগুলো অর্জনের মধ্যদিয়ে। সবাইকে অভিনন্দন।”

এলডিসি থেকে উত্তোরণে তিনটি নির্ণায়কের যে কোনো দু’টির উত্তরণ মান অর্জন করলে অথবা মাথাপিছু জিএনআই উত্তরণ মানের দ্বিগুণ হলেই এই স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘ। তবে এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের নির্ধারিত তিনটি শর্তই বাংলাদেশ অর্জন করেছে। জাতিসংঘের নির্ধারিত মান ২০১৮ সালে মাথাপিছু আয় এক হাজার ২৩০ মার্কিন ডলার থাকার কথা বলা হলেও ‘জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)-র দেওয়া হিসাব অনুসারে এই সূচকে বাংলাদেশের অর্জন এক হাজার ২৭২ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-’র হিসেবে যা এক হাজার ২৭১ মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় শর্তে মানব সম্পদ বিষয়ক সূচকে জাতিসংঘের নির্ধারিত মান ৬৬ বা তার বেশি হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশর অর্জন সিডিপির হিসেবে ৭২ দশমিক আট ভাগ এবং বিবিএস এর হিসেবে ৭২ দশমিক নয় ভাগ। জাতিসংঘের নির্ধারিত তৃতীয় শর্তে অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে উত্তরণের মান ৩২ বা তার কম নির্ধারিত থাকলেও সিডিপির হিসেবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন ২৫ এবং বিবিএস এর হিসেবে ২৪ দশমিক আট ভাগ।

এ উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত দেশব্যাপী এক সপ্তাহের উৎসব পালন করবে প্রশাসন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের স্বাক্ষর করা এক আদেশের মাধ্যমে সরকারের সব বিভাগের সচিব বরাবর লেখা চিঠিতে এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওই আদেশে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার তাগিদ দেওয়া হয়।

জানা গেছে, বাংলাদেশকে এই সম্মানের স্থানে নিয়ে যাওয়ার কারিগর হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ২২ মার্চ এই সম্বর্ধনা দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। এ উপলক্ষে প্রস্তুতিও চলছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনিুষ্ঠিত হতে পারে।

এদিকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জাতিসংঘের তালিকায় প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু উপলক্ষে আগামী ২২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। ওইদিন থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সপ্তাহব্যাপী আনন্দ র‌্যালি পালন করবে সরকার। ওইদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানাতে ওইদিন আনন্দ র‌্যালি বের হবে। এছাড়া সপ্তাহব্যাপী সারাদেশে আনন্দ র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন রকম ডিসপ্লে করবে। ওইদিন রাজধানীতে ভিড় হতে পারে। সেজন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকবে।’

এ উপলক্ষে যে সব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- অনুষ্ঠানকে নান্দনিক, আকর্ষণীয় ও সাড়ম্বর করতে এবং বিশেষ সেবা সপ্তাহ পালন উপলক্ষে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উদ্যোগে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে নাগরিক সুবিধাগুলো জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে দৃশ্যমান সেবাদান ও মান নিশ্চিত করা হবে। দেশের প্রতিটি বিভাগে বিভাগীয় কমিশনার, প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসক, প্রতিটি উপজেলায় ইউএনওর উদ্যোগে আলোচনা, সেমিনার, চিত্র প্রদর্শনী, ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, আনন্দ শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হবে। তাছাড়া এলাকাভিত্তিক নৌকাবাইচ, লাঠিখেলা, ফুটবল, কাবাডি, ক্রিকেটসহ জনপ্রিয় খেলার প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ উপলক্ষে তথ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায়, প্রিন্ট মিডিয়ায় গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠান, তথ্যধর্মী লেখা আহবান, সম্পাদকীয় লেখা প্রকাশ, টিভি, রেডিওতে টিভিসি, থিম সং প্রচারসহ টক শো’র আয়োজন করা হবে।