English Version
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৩:০৭

পিলখানা ট্র্যাজেডি বিস্ফোরক মামলার বিচার এ বছরেই সম্পন্ন হবে

অনলাইন ডেস্ক
পিলখানা ট্র্যাজেডি বিস্ফোরক মামলার বিচার এ বছরেই সম্পন্ন হবে

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের একটি মামলার বিচার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পিলখানায় ততকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দফতরে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঝুলে থাকা বিস্ফোরক মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া আইনানুযায়ী এ বছরই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন।

রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বনানীর সামরিক কবরস্থানে পিলখানা ট্র্যাজেডিতে নিহত মেধাবী সেনা সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

বনানীর সামরিক কবরস্থানে নিহতদের কবরে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদের পক্ষে তার সহকারী সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী ইফতেখারুল আলম এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা নিহতদের প্রতি স্যালুট প্রদান করেন। পরে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

এর পর শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। এ সময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।

নিহতদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ছাড়াও সব সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে কোরআন খতমের ব্যবস্থা করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের এই দিনে পিলখানায় তত্কালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দফতরে ঘটে যায় এক মর্মান্তিক নৃশংস ঘটনা। সেদিন সকাল ৯টা ২৭ মিনিটের দিকে বিজিবির বার্ষিক দরবার চলাকালে দরবার হলে ঢুকে পড়ে একদল বিদ্রোহী সৈনিক। বিদ্রোহীরা দরবার হল ও এর আশপাশ এলাকায় সেনা কর্মকর্তাদের গুলি করে হত্যা করে। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর এ বিদ্রোহের অবসান হয়।ততক্ষণে রক্তাক্ত প্রান্তরে পরিণত হয় পিলখানা। পরে পিলখানা থেকে আবিষ্কৃত হয় গণকবর। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় সেনা কর্মকর্তাদের লাশ। এ হত্যাযজ্ঞে ৫৭ সেনা কর্মকর্তা, ১ জন সৈনিক, দুই সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী, ৯ বিজিবি সদস্য ও ৫ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন।

ওই বিদ্রোহের ঘটনায় দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে দায়ের করা হত্যা মামলায় বিশেষ আদালত ১৫২ জনকে ফাঁসি, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়।