বিশ্ব আজ ভিন্ন বাংলাদেশকে দেখছে: প্রধানমন্ত্রী
যারা বাংলাদেশকে দারিদ্র্য ও দুর্যোগের দেশ বলে জানতো, তারা আজ ভিন্ন বাংলাদেশকে দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিপন্ন মানবতাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব উদার বাংলাদেশকেই দেখল। শনিবার (৭ অক্টোবর) সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে বিশিষ্ট নাগরিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সামনে দেয়া এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় প্রধানমন্ত্রীকে বিশিষ্ট নাগরিক, সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা দেয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বসভায় তুলে আনা আমার লক্ষ ছিল। সেটা আমরা পেরেছি। এটুকু বলবো, যা কিছু দেশের জন্য করতে পেরেছি, যা কিছু অর্জন, সবই এদেশের মনুষের সমর্থনে, এ দেশের মানুষের দোয়ায়।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা প্রথমে দ্বিধাগ্রস্ত থাকলেও রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের মাত্রা দেখে তাদের জন্য বাংলাদেশের দরজা খুলে দিয়েছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পদক্ষেপের কারণেই মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সঙ্কট এখন বিশ্বাবাসীর মনোযোগের কেন্দ্র। বাংলাদেশ যদি এ অবস্থান না নিত তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এত দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারত না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক চাপে মিয়ানমার এখন আলোচনায় এসেছে। আমরা আশা করছি, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করতে পারবো।
সীমান্তে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর তৎপরতা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশিদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল যে, তারা যুদ্ধ চায়। কিন্তু আমরা সতর্ক ছিলাম। কোনো ধরনের উস্কানিতে আমরা পা দেইনি।
তিনি বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তাদের আইডি কার্ড করে দিচ্ছি। তাদের জন্য থাকার ব্যবস্থা, স্যানিটেশন, খাদ্যের ব্যবস্থা করেছি।
রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠানোর ব্যাপারেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারা যাতে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে থাকতে পারে, শিশুরা লেখাপড়া করতে পারে তারও ব্যবস্থা করতে হবে। এসব ব্যাপারে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বেড়েছে। সেটা আমাদের ধরে রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ওখানে (দেশের বাইরে) থাকলেও দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। রোহিঙ্গাদের খোঁজখবর নিয়েছি। এখন তো সবকিছু ডিজিটাল। তাই ওখান থেকেই কাজকর্মও সেরেছি।’
তার সরকারের সফলতার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, একটানা দু'বার দেশে ক্ষমতায় থাকার কারণে দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়েছে। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে তাদের কারণে ৭৫ এর পর দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি হয়। আমরা দেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে এসেছি। নিজেদের ভাগ্য নয়, আমাদের চাওয়া পাওয়া নেই।
পদ্মা সেতু সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে হেয় করা হয়েছে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা প্রচারণা চালানো হয়েছে। কিন্তু আমাদের আত্মবিশ্বাস ছিল। আমরা চ্যালেঞ্জ দিয়েছি বিশ্বব্যাংকে। আমরা মানুষের জন্য রাজনীতি করি, দেশের জন্য রাজনীতি করি। আল্লাহর রহমতে তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি।
প্রধানমন্ত্রী তার পিত্তথলীর অপরেশন সফল হওয়ায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং সুস্থ শরীরে যাতে দেশ পরিচালনা করতে পারেন সেজন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।
এর আগে সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে নামেন। জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন। পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সভায় যোগদান ছাড়াও বেশ কয়েকটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। সাধারণ অধিবেশনে যোগদান শেষে ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে ভার্জিনিয়া যান তিনি। সেখানে যাওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ২৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় একটি হাসপাতালে তার পিত্তথলিতে অস্ত্রোপচার হয়। বুধবার ভার্জিনিয়া থেকে লন্ডন পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে নির্ধারিত সময়ের পাঁচদিন পর আজ দেশে ফিরলেন শেখ হাসিনা।


