English Version
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২১:০৩

পাকিস্তানী ব্যাংকের বাংলাদেশ শাখার উধাও টাকা জঙ্গিদের কাছে!

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানী ব্যাংকের বাংলাদেশ শাখার উধাও টাকা জঙ্গিদের কাছে!

পাকিস্তানের অন্যতম বাণিজ্যিক ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের (এনবিপি) ঢাকা শাখা থেকে এক হাজার ৮৫০ কোটি রুপি দূর্নীতি হয়েছে। এ ঘটনায় সাত বাংলাদেশিসহ ব্যাংকটির ১৬ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে পাকিস্তানের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো-ন্যাব।

ভারতীয় একটি অনলাইন পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানী এই ব্যাংকের বাংলাদেশ শাখার কোটি কোটি মার্কিন ডলার স্রেফ ঋণ প্রদানের নামে বেহাত হয়ে গিয়েছে। জঙ্গি সংগঠনগুলিকে মদত করতেই কি দুর্নীতি?

পাকিস্তানী এই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কর্পূরের মতো উবে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলি ঘিরেই সন্দেহ দানা পাকছে। সূত্রের খবর, এই সব প্রতিষ্ঠানের একাংশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে বাংলাদেশের একাধিক জঙ্গি সংগঠন। তেমনই কিছু প্রতিষ্ঠান ভারত সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় রীতিমতো সক্রিয়। গোয়েন্দা রিপোর্টে আগেই বলা হয়েছে, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া বাংলাদেশের কিছু এলাকায় তাদের বিশেষ তৎপরতা আছে।

ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে ‘ন্যাব’ জানিয়েছে, ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এই দুর্নীতি হয়। ঠিক পরের বছরে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের রিপোর্টে ৬১৯টি সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন সংস্থা কেমন করে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে অর্থের জোগান দেয় তাও বলা হয়েছিল। পাশাপাশি, জালিয়াতি সহ ৭১টি অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য উঠে আসে।

অর্থাৎ ২০১২ সালের পর এই বিপুল পরিমাণ অর্থের কোনও সঠিক হিসেবে মেলেনি। আর ২০১৪ সালে ঘটেছিল বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ। তদন্তে পরে উঠে আসে, জঙ্গি সংগঠন জেএমবি (জামাত উল মুজাহিদিন বাংলাদেশ) কেমন করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে নাশকতার বীজ ছড়ানোর কাজ চালাচ্ছিল।

আরও প্রশ্ন, পাকিস্তানি ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে বেরিয়ে যাওয়া টাকা ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে পৌঁছে গিয়েছিল জেএমবি কোষাগারে?

সূত্রের খবর, ঘুরপথে পৌঁছে যাওয়া অর্থ দিয়ে অত্যাধুনিক প্রক্রিয়ায় সন্ত্রাসবাদকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের ভূখ-ে। একইভাবে ভারতে থাকা জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছেও পৌঁছে গিয়েছে সেই টাকা।

খাগগড়াগড় বিস্ফোরণ তদন্তে নেমে গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছিল, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠান ও তাদের গতিবিধির কথা। রিপোর্টে বলা হয়েছিল, উর্দু ও বাংলাতে একাধিক ব্যক্তি রেডিও সংযোগে সংকেত বাক্য বিনিময় করে। আন্তর্জাতিক সীমান্তের দু’পারে কয়েকশো মিটার ব্যবধানে এই রেডিও বার্তা ধরা পড়েছিল।

পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর ২০১৬ সালে ফে নাশকতায় রক্তাক্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। ঢাকার গুলশন এলাকায় হোলি আর্টিজান ক্যাফের ভিতর হামলা চালায় জঙ্গিরা। কুপিয়ে-গুলি করে খুন করা হয় বিদেশীদের। হামলার দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার জানায় গুলশন হামলায় জড়িত নব্য জেএমবি।

সেই তদন্তে উঠে আসে, বাংলাদেশ লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা পর্যন্ত কিভাবে ছড়িয়েছে জঙ্গি জাল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় জানায়, প্রতিবেশী বাংলাদেশের সীমান্তে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ও লস্কর ই তইবার মতো জঙ্গি গোষ্ঠী অন্তত ৫০টি জঙ্গি শিবির চালাচ্ছে। পরে ঢাকা-নয়াদিল্লি যৌথ জঙ্গি দমন কর্মসূচির জেরে আপাতত পিছু হটেছে জঙ্গিরা।

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আসাম, মেঘালয় ও মিজোরাম সংলগ্ন বাংলাদেশের ভূখ-েও জঙ্গি শিবিরের কথা উঠে এসেছে। সম্প্রতি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার অভিযোগ করেন, সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশে সক্রিয় কিছু জঙ্গি গোষ্ঠী। তাঁর এই মন্তব্যের পরই নড়েচড়ে বসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়। উত্তর পূর্বাঞ্চল এলাকার আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় বাড়িয়ে দেওয়া হয় নিরাপত্তা।

অতি সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় ভুয়ো ফেসবুক পোস্ট ঘিরে হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এই ঘটনায় জড়িত কিছু উগ্র গোষ্ঠী যারা প্রতিবেশী রাষ্ট্রে বিশেষ পরিচিত। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামাত ইসলামির আর্থিক মদতে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান তীব্র ভারত বিরোধী অবস্থান নেয়। সূত্রের খবর, বিভিন্ন সংস্থার নামে জমা হওয়া টাকা সরাসরি চলে গিয়েছে জামাত ফান্ডে। একইভাবে বিপুল অর্থ ঢুকেছে নব্য জেএমবি তহবিলে।