English Version
আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১১:৩২

উৎপাদন কম হলেও চালের দাম বাড়ার কারণ ভিন্ন

অনলাইন ডেস্ক
উৎপাদন কম হলেও চালের দাম বাড়ার কারণ ভিন্ন

পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চালের দাম।  উত্তরাঞ্চলের বড় পাইকারি মোকাম নওগাঁয় অস্থির চালের বাজার দর।  সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৮ থেকে ১০ টাকা।  নাজির ৪৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৫, জিরা ৫০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬০, স্বর্ণা ৪০ থেকে বেড়ে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

হাতেগোনা কিছু মিলার মৌসুমের শুরুতেই ধানের বড় মজুদ গড়ে চালের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।  সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ অবস্থায় সরকারের কঠোর নজরদারি না থাকলে চালের বাজারে আরও ভয়াবহ অবস্থা হতে পারে।

মহাদেবপুর উপজেলার সরস্বতীপুরের মিল মালিক মো. রাশেদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘ধানের বাজারদর অনেক বেশি।  তাই বেশি দাম দিয়ে ধান কিনে এর চাল বাজারে ছাড়লে আমাদের লোকশান হবে।  এখন ধান কিনে রাখছি।  আরও মূল্য বৃদ্ধি পেলে ধান থেকে চাল করে বাজারে ছাড়বো।  আর মৌসুমের শুরুতে যে ধান কিনেছিলাম তা এখন বাজারে ছাড়ছি।’   

নওগাঁ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদীন মুকুল জানান, ধানের উৎপাদন কম হওয়ার কারণে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে বিষয়টি এমন নয়।  দেশে বড়-বড় মিলাররা ধানের অবৈধ মজুদ করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।  মৌসুমের শুরুতে কম দরে ধান ক্রয় করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার বৃদ্ধি করে এখন চালের দাম বাড়িয়েছে।

নওগাঁ একুশে পরিষদ সভাপতি অ্যাড. ডিএম আব্দুল বারি জানান, মিল মালিকদের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।  এ অবস্থায় মিলগুলোতে সরকারের কঠোর নজরদারি বাড়ালে ও যথাযথ ভাবে বাজার মনিটরিং করা গেলে দ্রুতই চালের দরে স্বস্তি ফিরবে। 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিল মালিক ও চাল ব্যবসায়ীরা।  তারা উল্টো অভিযোগ করছে সরকারের চাল সংগ্রহ নীতিমালাকে।

নওগাঁ ধান ও চাল আড়তদার সমিতির সভাপতি নিরদ বরণ সাহ চন্দন বলেন, ‘খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আমাদের দেশে প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি লোক আছে।  এ কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার কারণে প্রভাব পড়েছে বাজারে। ’

নওগাঁ জেলা মিল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ চকদার জানান, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর মজুদ অর্ধেকেরও কম আছে মিল মালিকদের কাছে।  চালের দাম বৃদ্ধির বড় কারণ সরকারের ভুল চাল সংগ্রহ কার্যক্রম। মিল মালিক নেতারা বার বার সরকারকে চাল সংগ্রহের বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে আসলেও তা মানেননি সরকার। 

নওগাঁ জেলা প্রশাসক ড. মো. আমিনুর রহমান জানান, চালের দর নিয়ন্ত্রণে।  এরইমধ্যে মোকামগুলোতে শুরু হয়েছে অভিযান।  মজুদ পাওয়া গেলে ভোক্তা অধিকার আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।