English Version
আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৭:৪৩

মিয়ানমারকে থামাতে চীন-রাশিয়াকে পাশে চায় বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
মিয়ানমারকে থামাতে চীন-রাশিয়াকে পাশে চায় বাংলাদেশ

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে আন্তর্জাতিক মহলে প্রধান বাধা এখন চীন ও রাশিয়া। মিয়ানমারের সেনা প্রধানকে চাপ দেয়ার ক্ষেত্রে এ দেশ দুটিই প্রধান ভূমিকা নিতে পারে। সে কারণেই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভারে ভারাক্রান্ত বাংলাদেশ যদি চীন ও রাশিয়াকে পাশে আনতে পারে তাহলে সমস্যার আশু সমাধান বের হবে।

এমন পরামর্শই দিয়েছেন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট তাকেদা আলেমুও। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের আগে নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্টের বৈঠক করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এ মোমেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা সঙ্কট অবসানে মিয়ানমারকে চাপ দিতে চীনকে মানানোর পরামর্শ দেন তাকেদা আলেমু।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক ওই স্থায়ী প্রতিনিধি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, মিয়ানমারে কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নে চীনের সমর্থন দরকার বলে নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট (তাকেদা) মনে করেন। তার মত হচ্ছে, একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক অনেক ইস্যুর সঙ্গে মিয়ানমার ইস্যুকে একীভূভ করলে সমস্যা সমাধান বিলম্বিত হতে পারে।

নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট আরো বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) উচিৎ হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে লবিং জোরদার করা। বিশেষ করে চীনের সহায়তা দরকার। কারণ মিয়ানমারের ব্যাপারে চীন খুবই ‘সেনসেটিভ’।

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের জন্য সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। যদিও আগে থেকেই ৪ লাখের বেশি শরণার্থীর ভার বহন করে আসছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা শরণার্থী সঙ্কট নিয়ে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। সহিংসতা বন্ধ করতে মিয়ানমারে প্রতি আহ্বানও জানিয়ে আসছে।

তবে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে কেবল রাশিয়া ও চীন। এর মধ্যে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেক বেশি পুরোনো। তাছাড়া বিভিন্ন ইস্যুতে রাশিয়া সরকারের সঙ্গেও রয়েছে বাংলাদেশের নানামুখী সম্পর্ক। এসব সম্পর্কের সূত্র ধরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদের পাশে পাওয়ার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক রওনা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সঙ্কটের মূল কারণগুলো তুলে ধরে তা নিরসনে বাংলাদেশের প্রস্তাব বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।