English Version
আপডেট : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২৩:৪৯

মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাও করবে মুসলমান ও বৌদ্ধরা

অনলাইন ডেস্ক
মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাও করবে মুসলমান ও বৌদ্ধরা

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও গণহত্যার প্রতিবাদে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে আলটিমেটাম দিয়েছেন ইসলামী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও মুসল্লিরা। সেই সঙ্গে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর দূতাবাস ঘেরাও করার ঘোষণাও দিয়েছে।

শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে রাজধানীর পুরানা পল্টনের সড়কে বিক্ষোভ করে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিশের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মুসল্লিরা। সমাবেশ থেকে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেয়া হয়।

এর আগে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমার দূতাবাসে স্মারকলিপি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বৌদ্ধরা। একই স্মারকলিপি ঢাকায় জাতিসংঘের স্থানীয় কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে পাঠাবেন তারা।

জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশের সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজ আয়োজিত এক মানববন্ধনে একথা জানান বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা। এ সময় বৌদ্ধরা নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের প্রতি সহমর্মিতা এবং বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আহ্বানও জানানো হয়।

সূত্রমতে, জুমার নামাজের পর মুসল্লিরা পুরানা পল্টনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিম ঘোষণা দিয়ে বলেন, ১১ সেপ্টেম্বর প্রতি জেলায় তারা বিক্ষোভ সমাবেশ করবেন। ১২ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করবেন। পরদিন ১৩ সেপ্টেম্বর দূতাবাস ঘেরাও করা হবে।

বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে পুরানা পল্টন থেকে দৈনিক বাংলা পর্যন্ত সড়কের একপাশের রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফজলুল বারী বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন জাহেলি যুগকেও হার মানিয়েছে। এই যুগেও এমন হতে পারে তা আমাদের ধারণা নেই। প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশের মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে আলটিমেটাম দিন।

অপরদিকে, প্রেসক্লাবে বাংলাদেশের সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজের মুখ্য সমন্বয়ক অশোক বড়ুয়া মানববন্ধনে বলেন, বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় সব মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, অহিংস নীতি ও গৌতম বুদ্ধের সর্বজীবে দয়ার অনুসারী। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি হিংসা দিয়ে কখনো হিংসার অবসান হয় না। তাই মিয়ানমার সরকার ও জনগণকে অহিংস পথে সমস্যা সমাধানের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

অশোক বড়ুয়া বলেন, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড ফেলোশিপ অব বুদ্ধিস্টের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারকে এ নির্যাতন বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে চাপ দেয়া হবে। বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আগামী ১০ অক্টোবর মিয়ানমার দূতাবাসে স্মারকলিপি দেয়া হবে। যার অনুলিপি বাংলাদেশে জাতিসংঘের স্থানীয় কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে পাঠানো হবে।

মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন- আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথের, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের সভাপতি ডা. অসীম রঞ্জন বড়ুয়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি ঢাকা অঞ্চলের সভাপতি দিলিপ চন্দ্র বড়ুয়া, আশুলিয়া বিহারের অধ্যক্ষ আসীন জীন রক্ষী প্রমুখ।