ফিরতে শুরু করেছেন হজ যাত্রীরা
পবিত্র মক্কায় বিদায়ি তাওয়াফ শেষে হাজিরা ইতোমধ্যেই নিজ নিজ দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে আগামীকাল বুধবার থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে। চলবে আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। হজযাত্রীদের সুবিধার্থে বিমান ঢাকা থেকে যাত্রার আগে হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইটের বোর্ডিং কার্ড দিয়ে দিয়েছে। জানা যায়, চলতি হজ মৌসুমে বিমান লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত হজযাত্রী পরিবহন করেছে। মোট ৬৪ হাজার ৮৭৩ জন হজযাত্রীকে নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছে দিয়েছে বিমান। যদিও পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন। প্রসঙ্গত গত ২২ জুলাই সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশকোনার হজ ক্যাম্পে হজ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বিমান ২৪ জুলাই থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১৮৭টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে হজ ফ্লাইট পরিচালিত হয় ১৩৩টি। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে ১৫টি ফ্লাইট এবং সিলেট থেকে চারটি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করে বিমান। এবারই প্রথম বিমান চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করে। হজযাত্রী সংকটের কারণে বিমানকে ২৪টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। নির্বিঘ্নে যাত্রা নিশ্চিত করতে পরে সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে অতিরিক্ত আরও ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। স্বাভাবিকভাবে পবিত্র হজের সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা এর আগেই শেষ হয়েছে। তবে যেসব হাজি এর আগে মদিনায় যাননি তারা পালাক্রমে মদিনা মোনাওয়ারা যাচ্ছেন। সেখান থেকে কেউ মদিনা এয়ারপোট হয়ে সৌদি আরব ত্যাগ করবেন, অনেককেই আবার সড়কপথে মদিনা থেকে জেদ্দা হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যাবেন। সহিহ মুসলিম শরীফের হাদিস অনুযায়ী বিদায়ি তাওয়াফ করা ওয়াজিব। হজরত রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হাজিরা বায়তুল্লাহর সঙ্গে শেষ সাক্ষাত না করে যেন ফিরে না আসে। আর হজরত উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) একবার বিদায়ি তাওয়াফ করে এক অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যান। এরপর তিনি আবার বিদায়ি তাওয়াফ আদায় করেন। তাই মক্কা ত্যাগ করার আগে গতকাল সোমবারও সারাদিন হারাম শরিফে প্রচ- ভিড় দেখা গেছে। হাজিরা বিদায়ি তাওয়াফ করছেন, কেউ নফল তাওয়াফ করছেন। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি তাওয়াফের জায়গাগুলো লোকে লোকারণ্য ছিলো। হাজিরা নিচতলা, দোতলা, তিনতলা ও মসজিদে হারামের ছাদে তাওয়াফ করেছেন। মিকাতের বাইরে যেসব হাজিরা এসেছেন, তাদের জন্য মক্কা মোকাররমা ত্যাগ করার সময় বিদায়ি তাওয়াফ করা ওয়াজিব। আর যারা মক্কা এলাকার ভেতরে থাকেন, তাদের জন্য বিদায়ি তাওয়াফ মোস্তাহাব। ফরজ তাওয়াফ করার পর কেউ যদি নফল তাওয়াফ করে থাকেন, তাহলেও তার বিদায়ি তাওয়াফ আদায় হয়ে যাবে। তবে বিদায়ি তাওয়াফ আলাদাভাবে করে নেওয়াই ভালো। বিদায়ি তাওয়াফে কোনো রমল, ইজতেবা ও সায়ি নেই। শুধু কাবা শরীফকে ৭ চক্করে তাওয়াফ করে ও দুই রাকাত নামাজ আদায় করতে হয়। নামাজ শেষে খুব অনুনয়-বিনয় করে চোখের পানি ছেড়ে দোয়া করতে হয়। বিদায়ি তাওয়াফের ভিড়, মসজিদে হারামের ছাদ থেকে তোলা ছবিতে মসজিদের হারামে সারাদিন দেখা গেছে, পরিচিতরা একে অপরের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছেন। সবার চোখে বিরহের অশ্রু। আপনজনকে হারানোর ব্যথা মনে নিয়ে কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে মোনাজাত করছেন। বাংলাদেশের মাদারীপুর থেকে হজ করতে আসা মামুনুর রশিদ বলেন, আমার ফিরতি ফ্লাইট বুধবার, জানা নেই জীবনে কোনো দিন আর আসতে পারবো কিনা, তাই যতক্ষণ মক্কায় আছি এই সময়টুকু মসজিদে হারামেই কাটিয়ে দিতে চাই। মানুনুর রশিদের মতো অনেকই আছেন, যারা নিজ নিজ দেশে চলে যাবেন তারা সোমবার বিদায়ি তাওয়াফ, নফল তাওয়াফ ও মসজিদে হারামে নামাজ আদায় করে সময় কাটিয়েছেন। নারীদের কেউ বিশেষ সমযের কারণে বিদায়ি তাওয়াফ করতে না পারলেও কোনো ক্ষতি নেই। তার ওপর দম ওয়াজিব হবে না। তাওয়াফে জিয়ারত (ফরজ তাওয়াফ) আদায়ের পর থেকে যে কোনো সময় বিদায়ি তাওয়াফ করা যায়। তবে উত্তম হলো- দেশে ফেরার আগে বিদায়ি তাওয়াফ করা।


