বন্যার্তদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করবে আওয়ামী লীগ
দেশের উত্তরাঞ্চলের কোটি বন্যা দুর্গতদের সাহায্য করে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এরই অংশ হিসেবে ঈদ উল আযহায় দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি দলটির সকল স্তরের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি থাকবে বানভাসী মানুষের পাশে।
আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঈদ আনন্দ বন্যা দুর্গতদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেবে। এবার না হয় ঈদ আনন্দটা বন্যা দুর্গতদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিলাম। আশঙ্কা ছিলো বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হবে। উত্তরাঞ্চলের পর দেশের মধ্যাঞ্চলেও বন্যার পানি ঢুকে পড়বে। কিন্তু এখন সে শঙ্কা কেটে গেছে। আপাতত, দেশে আর নতুন করে বন্যার ঝুকি নেই। এ পরিস্থিতিতে আমাদের দল বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াবে।’
শুধু ঈদই নয়- বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুর্গতদের পাশে থাকবে বলে জানান আওয়ামী লীগের এ নেতা।
রুটিন ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ঈদের দিনে দলটির পক্ষ থেকে পশু কোরবানি করে দুর্গতদের মাঝে মাংস বিতরণ করা হবে।
আওয়ামী লীগের কোন কোন নেতা ঈদ উপলক্ষে উত্তরাঞ্চল সফর করবেন তা এখনও নিশ্চিত করে জানানো হয়নি দলটির পক্ষ থেকে। এবছর ঈদ ফিতরের আগে ভয়াবহ ভূমিধসে পাহাড়ি জনপদের মানুষের পাশে ছিল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকসহ নেতারা।
আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় অনেক নেতা এবং বন্যা দুর্গত অঞ্চলের আওয়ামী লীগের সাংসদ-স্থানীয় নেতাকর্মীর বাইরে অধিকাংশ নেতাকর্মীই ঈদ করবেন নিজ নিজ এলাকায়। নির্বাচনের আগ দিয়ে দলের সকল নেতাকর্মীকে জনসম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলে হাইকমাণ্ড থেকে।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন: বাংলাদেশের মানুষের জন্য এবারের ঈদটা একদিকে আনন্দের অন্যদিকে বিষণ্নতার। ধর্মীয় অনুশাসন প্রতিপালন ও অর্থনৈতিক বিবেচনায় ঈদ আনন্দের উপলক্ষ হলেও দেশের বেশকিছু জেলার মানুষ বন্যার কারণে দুর্ভোগের পড়ায় এবারের ঈদ বিষণ্নতারও।
ধর্মীয় অনুশাসন পালন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সবসময় অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে দাবি করে তিনি বলেন:’ আমাদের নেতাকর্মীরা এলাকাবাসীকে নিয়ে ঈদের আনন্দ যেমন করবে তেমনি দুর্গত এলাকাগুলোতে বন্যার্তদের পাশেও দাঁড়াবে।’
এরই মধ্যে নিজ নিজ এলাকাসীর সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে এলাকায় পৌঁছে গেছেন এলাকা ভিত্তিক সংসদ সদস্যরা। বাদ যাননি সিনিয়র নেতারাও।গতকাল (বৃহস্পতিবার) থেকেই নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন দলটির বর্ষীয়ান নেতা বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
গতকাল ডোমেস্টিক এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি সিলেট পৌঁছান। আজ শুক্রবার সিলেটে অবস্থান করে আগামীকাল শহরের ‘সিলেট শাহী ঈদগাহ’ ময়দানে নিজ নির্বাচনী এলাকার জনসাধারণের সঙ্গে ঈদের জামায়াতে অংশ নেবেন এবং কোরবানি করবেন।এই সময়ে তিনি বড় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ না নিলেও জনসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এবং ওই দিনই বিমানের আরেকটি ফ্লাইট ধরে ঢাকা ফিরে আসবেন।
এক্ষেত্রে একটু ব্যতিক্রম থাকছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। ঢাকাতে ঈদ উদযাপন শেষে ৬ সেপ্টেম্বর নিজ নির্বাচনী এলাকা সিলেট-৬ বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ সফরের যাবেন তিনি। এ সফরে ৫ দিন নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি জনসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করবে। ৫ দিনের সিলেট সফর শেষে ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা ফিরবেন তিনি।
সভাপতি-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরের মতো এবারও ঢাকাতেই ঈদ উদযাপন করবেন। ঈদের দিন সকালে সকালে তিনি তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দলের নেতাকর্মী, কবি-সাহিত্যিক, বুুদ্ধিজীবীসহ জনসাধারণের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
এরপর কূটনীতিক, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি।
ঈদের এ সময়ে দলের সদস্য সংগ্রহ অভিযান আরও বেগবান করা চিন্তা রয়েছে দলটির। এবারের সদস্য সংগ্রহ অভিযানে আওয়ামী লীগ নতুন ৫০ লাখ নতুন সদস্য সংগ্রহের টার্গেট নিয়েছে। সদস্য সংগ্রহ অভিযান কর্মসূচির মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো।


