English Version
আপডেট : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০৬:৪০

বৃষ্টিতে দরপতন জমবে আজ

অনলাইন ডেস্ক
বৃষ্টিতে দরপতন জমবে আজ

মো. আলতাফ হোসেন থাকেন বনশ্রী বি-ব্লকের ৫ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে। সকাল ১০টার পরপরই ছেলে সালমানকে নিয়ে আফতাব নগর পশুহাটের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়েছেন। বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। ছাতা নিয়ে রাস্তায় গিয়েও কিছুটা ভিজতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু কোরবানির পশু কেনার আনন্দে যেন ভাটা পড়েনি। ৮৫ হাজার টাকা দিয়ে তিনি মাঝারি আকারের একটি গরু কিনে বাসায় এসেছেন।

গতকাল সকাল থেকে দেড়-দুই ঘণ্টা বৃষ্টির পরও পশুর হাটগুলোতে ক্রেতার কমতি ছিল না। বৃষ্টিতে ভিজে অনেকেই পশু কিনে বাড়ি ফিরেছে। তবে বৃষ্টির পর হাটের চেহারা অনেকখানি মলিন হয়ে গেছে। কাদা মাড়িয়ে হাটে চলাফেরা করতে হয়েছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির কারণে পানি জমে গেছে।

তবু পশুর দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকায় সন্তুষ্টি ছিল সবার মধ্যে। তবে কোনো কোনো হাটে গরু অসুস্থ হয়ে পড়ার দৃশ্যও চোখে পড়েছে। গতকাল আফতাব নগর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, পুরো হাটে শামিয়ানা টানিয়ে সারিবদ্ধভাবে কোরবানির পশু বেঁধে রাখা হয়েছে। আবার অনেক গরু বৃষ্টির মধ্যে ভিজেছে। এরই মধ্যে সকাল থেকে এ হাটে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকেই বৃষ্টিতে ভিজে নিজের পছন্দের কোরবানির পশু কেনার চেষ্টা করে। যাচাই-বাছাই শেষে পশু কিনে নিয়ে যায়। যাদের বাসাবাড়ি কম দূরত্বে রয়েছে, তারা হেঁটেই পশু নিয়ে গেছে। আবার যাদের গন্তব্য অনেক দূরে, তারা পিকআপ ভ্যানে করে পশু নিয়ে গেছে।

মহানগর প্রজেক্ট এলাকা থেকে পরিবারের চারজনকে নিয়ে পশু কিনতে এসেছেন জিল্লার আবেদিন। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর আমি দুই ছেলে ও ছোট ভাই মিলে কোরবানির পশু পছন্দ করে কিনে একসঙ্গে হেঁটে বাসায় আসি। এবার একটি গরু ৭০ হাজার টাকায় কিনেছি। হাসিল দেওয়ার পর তা নিয়ে বাসায় যাব। ’

এ বছর গরুর দাম কেমন—প্রশ্নে তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় খুব একটা বেশি মনে হয়নি। এ হাটের ইজারাদার আব্দুল রহমান রুবেল বলেন, ‘হাটে প্রচুর গরু এসেছে। সকাল থেকে ক্রেতা আসতে শুরু করেছে। বৃষ্টির কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বেচাবিক্রিও পুরোদমে শুরু হয়েছে। আমরা শতকরা পাঁচ টাকা হারে হাসিল রাখছি। আর বৃষ্টির কারণে কোনো ব্যবসায়ীর যাতে সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। ’

পোস্তগোলা শ্মশানঘাট হাটের ইজারাদার মাইনুদ্দিন চিশতী বলেন, ‘সকাল থেকে টানা বৃষ্টির কারণে ব্যবসায়ী ও পশু ভিজে গেছে। আমরা কিছু শামিয়ানা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু খুব একটা কাজ হয়নি। ’ মেরাদিয়া হাটের ইজারাদার মো. শরীফ জানান, এ হাটের বেশির ভাগ ক্রেতা বনশ্রী ও দক্ষিণ বনশ্রী আবাসিক এলাকার মানুষ। ক্রেতারা কাছের হওয়ায় বৃষ্টির কারণে বিক্রিতে খুব একটা প্রভাব পড়েনি। তবে এ হাটের ১৬টি গরু নিয়ে আসা কুষ্টিয়ার ব্যবসায়ী সামসুদ্দিন মোড়ল কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর আমার সব গরু ভিজে গেছে। বৃষ্টির পর মোটাসোটা গরু অনেকটা শুকনা মনে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে অনেকে দাম কম বলছে। আমার মাঝারি আকারের এ গরু ৬৫ থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দাম চাচ্ছি। দুটি গরু ৮২ হাজার টাকা করে বিক্রি করেছি। ’

এদিকে রাজধানীর কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটগুলোতে দেশি জাতের গরু কিনতে ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল বেশি। তারা মাঝারি আকারের দেশি গরু বেশি ক্রয় করছে। অনেক ব্যাপারী গরু বিক্রির পর বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তাও দিচ্ছে। নিজস্ব ভ্যান আর শ্রমিক দিয়ে গরু পৌঁছে দিচ্ছে। আফতাব নগর হাট থেকে এক লাখ ১৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছেন নিকেতনের বাসিন্দা লুত্ফর রহমান চৌধুরী। তিনি জানান, গরু বিক্রি করার সময় বিক্রেতার অফার ছিল বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার। সেই মোতাবেক তাঁর গরুটি বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজধানীর সর্ববৃহৎ পশুর হাট গাবতলীতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। একই কেনাবেচার ধুম ছিল উত্তর শাহজাহানপুর-খিলগাঁও রেলগেট বাজারসংলগ্ন মৈত্রী সংঘের মাঠের হাট, ঝিগাতলা হাজারীবাগ মাঠ, রহমতগঞ্জ খেলার মাঠের হাট, কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধসংলগ্ন হাট, ধূপখোলা ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব মাঠের হাট, পোস্তগোলা শ্মশানঘাটসংলগ্ন হাট, দনিয়া কলেজ মাঠসংলগ্ন হাট, সামসাবাদ মাঠের হাট (আরমানিটোলাসংলগ্ন), কাউয়ার টেকের (সাদেক হোসেন খোকা মাঠ) হাট, হাজারীবাগ বেড়িবাঁধসংলগ্ন হাট, পোস্তগোলা শিল্প এলাকার হাট, লালবাগ বেড়িবাঁধসংলগ্ন হাট, কমলাপুর টিটিপাড়া হাট, উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের প্রথম গোলচত্বরসংলগ্ন খালি জায়গার হাট, ভাটারা (সাঈদ নগর) পশুর হাট, বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিংয়ের (আফতাব নগর) পূর্বাংশের খালি জায়গার হাট, মোহাম্মদপুর বছিলা বুদ্ধিজীবী সড়কসংলগ্ন পুলিশ লাইনের খালি জায়গার হাট, মিরপুর সেকশন-৬ ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গার হাট, মিরপুর ডিওএইচএসসংলগ্ন সেতু প্রপার্টিজসংলগ্ন ফাঁকা জায়গা ও খিলক্ষেত ৩০০ ফুট সড়কের পাশের হাটেও ক্রেতাদের ভিড় ছিল।