English Version
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:৪২

এস এম সুলতান স্বর্ণ পদক পেলেন চিত্রশিল্পী হাশেম খান

উজ্জ্বল রায়,
নিজস্ব প্রতিবেদক
এস এম সুলতান স্বর্ণ পদক পেলেন চিত্রশিল্পী হাশেম খান

নড়াইল: বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের নামে প্রবর্তিত ‘সুলতান স্বর্ণ পদক ২০১৬’ পাচ্ছেন চিত্রশিল্পী হাশেম খান (৭৪)। 

আগামী ২১ জানুয়ারি মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে গুণী শিল্পী হাশেম খানকে সুলতান পদক প্রদান করা হবে। সুলতান ফাউন্ডেশনের সভাপতি জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ বিষয়টি নিশ্চিত করে। 

জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি শিল্পী হাশেম খান তার প্রতিক্রিয়া বলেন, ‘যে কোনো প্রাপ্তি মানুষকে আনন্দ দেয়। এ আনন্দ ছাড়া আর কি বলতে পারি। সুলতান এমন একজন শিল্পী, তাকে সম্মানিত করতে গিয়ে আমরা নিজেরাই সম্মানিত হচ্ছি। সুলতান অবশ্যই এ দেশের ব্যতিক্রমীধর্মী শিল্পী এবং বৈরী পরিবেশের মধ্যে দিয়ে তিনি শিল্পচর্চা করে গেছেন। এটা আমাদের তরুণদের জন্য প্রেরণা হয়ে থাকবে বলে আমি মনে করি।  সুলতানের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্নধারা। সুলতান যেমন নিজকে আবিষ্কার করেছেন, সেই ভাবেই বাংলাদেশের চিত্রকলার জগতে সুলতানের যে বলিষ্ঠ পদচারণা; সেটাও আমাদের সম্পদ বলে মনে করি। আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি।’ 

নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের পাঠানো তথ্য ও ছবির ভিত্তিতে জানা যায় হাশেম খান ১৯৪২ সালের ১৬ এপ্রিল (৩ বৈশাখ) চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার সেকদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

কর্মজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগে ১৯৬৯ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত অধ্যাপনা করেন। বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানের অলংকরণের প্রধান শিল্পী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯২ সালে একুশে পদক এবং ২০১১ স্বাধীনতা পদক অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি দেশ এবং বিদেশে অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন। বইয়ের প্রচ্ছদের জন্য ১৬বার জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র কর্তৃক পুরস্কৃত হয়েছেন। ২০০৭ সালে বাংলা একাডেমি তকে সম্মানসূচক ফেলো মনোনীত করে। তিনবার অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। মৃৎশিল্পে বিশেষ স্কলার অর্জন করেছেন। জাপানে পুন্তক চিত্রণে স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেছেন তিনি। হাশেম খান একজন সুলেখকও। শিল্পকলা বিষয়ক বইসহ তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ২০টি। 

এদিকে, ২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মূল্যমানের ছয়টি ডাকটিকিট উদ্বোধন করেন। তার মধ্যে হাশেম খানের স্বাধীনতা সংগ্রাম ভিত্তিক চারটি ডাকটিকিট রয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের কার্যকরী বোর্ডের সভাপতি ছাড়াও বিভিন্ন জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। 

হাশেম খানের পুরো নাম মো: আবুল হাশেম খান। তার স্ত্রী পারভীন হাশেম। মেয়ে কনক খান ও ছেলে শান্তনু খান। হাশেম খান ১৯৫৬ সালে মেট্রিক পাশ করে ভর্তি হন তৎকালীন গভর্ণমেন্ট আর্ট কলেজে (বর্তমান চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)। ১৯৬১ সালে চিত্রকলায় প্রথম শ্রেণীতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশ-বিদেশে তার বেশ কয়েকটি চিত্র প্রদর্শনী হয়েছে। বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের অন্যতম দিকপাল তিনি। 

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের খ্যাতিমান এই শিল্পী রঙ-তুলিতেই ফুটিয়ে তুলেছেন বহমান সময়। রেখেছেন সৃজনশীলতার অনন্য স্বাক্ষর।