English Version
আপডেট : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০৬:৪৮

সুনামগঞ্জে ঈদ বোনাসসহ ভাতা পাচ্ছেন না মুক্তিযোদ্ধার পরিবার

অনলাইন ডেস্ক
সুনামগঞ্জে ঈদ বোনাসসহ ভাতা পাচ্ছেন না মুক্তিযোদ্ধার পরিবার

 সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে দুই ঈদের বোনাসসহ এক প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার পরিবার গত ৯ মাস ধরে ভাতা পাচ্চেন না। জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তালকপ্রাপ্ত প্রথম পক্ষের স্ত্রীর নানামুখী অভিযোগের কারণে আটকে আছে ঈদ বোনাস ও ভাতার টাকা।

এদিকে ঈদ বোনাস ও ভাতার টাকা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার সাত সন্তান।

এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কয়েকদফা নিষ্পক্তির উদ্যোগ নিলেও বিষয়টির আজও সূরাহা হয়নি। এর ফলে ঈদুল আযহার আনন্দ থেকে এবারও বঞ্চিত হতে হচ্ছে অসহায় মুক্তিযোদ্ধার বিধাব স্ত্রী ও তার সন্তানদের।

সংশ্লিস্ট সুত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়দল উওর ইউনিয়নের মৃত মাহমুদ হোসেনের ছেলে ভাতা প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী বার্ধক্য জনিক কারনে মৃত্যু বরণ করেন। আবদুল মান্নান একই গ্রামের মৃত পজর রহমানের মেয়ে আদরচাঁন প্রথম পক্ষের স্ত্রী হিসাবে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে আদরচাঁন বেগমকে ১৯৭৬ সালে তিনি তালাক দেন।

প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর আদর চাঁন বেগম ব্রাম্মণ বাড়িয়ার চুন্ডা গ্রামের নানু মিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান উপজেলার আমতৈল গ্রামের আলী চাঁনের মেয়ে জহুরা খাতুনকে বিয়ে করেন। স্বামী জীবিত থাকাকালীন সময়ে জহুরা খাতুনের সাত সন্তানাধি নিয়ে সুখের সংসার ভালোই কাটছিলো।

এদিকে আবদুল মান্নানের মৃত্যুর তিন দিন পর মহল বিশেষের প্ররোচনায় তালাক প্রাপ্ত প্রথম স্ত্রী আদর চাঁন বেগম প্রয়াত আবদুল মান্নানের উওরাধিকারী সনদ আনতে ব্যার্থ হয়ে ভাতার নমিনী দাবি করে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে একটি অভিযোগ দাখিল করে।

আদরচাঁন বেগমের সহোদর ভাই ক্বারী আবু তালেব স্বীকার করেন, প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান তালাক দেয়ার পর তিনি নিজেই দ্বিতীয়বার ব্রাম্মণ বাড়িয়ার চুন্ডা গ্রামের নানু মিয়ার নিকট বোনকে বিয়ে দেন, এতে করে তালাক প্রাপ্ত হওয়ার পরও তার ভাতার দাবি করাটা অন্যায়।

এ ব্যাপারে আদরচাঁন বেগমের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বললেন, প্রথম স্ত্রী হিসাবে আমিও ভাতার দাবিদার। তালাক দেয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি কোন রকম সদুক্তর দিতে পারেননি।  

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. রফিকুল ইসলাম বললেন,  ঘটনার সত্যতা জানতে সরজমিনে গেলে আদরচাঁন বেগমের সহোদর ভাই ও গ্রামবাসী স্বীকার করেন আবদুল মান্নান তাকে তালাক দেয়ার পর ব্রাম্মণবাড়িয়ায় তাকে বিয়ে দ্বিতীয়বার বিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন ভাতার প্রকৃত দাবিদার আবদুল মান্নানের দ্বিতীয় স্ত্রী জহুরা খাতুন।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত  নির্বাহী অফিসার ও সহকারি কমিশনার (ভুমি ) মো. রফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার জানান, এটা দ্বীর্ঘ দিনের একটি ঝামেলা, আমি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। কমিটির রিপোর্ট পেলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাতা প্রাপ্তির বিষয়টি সুরাহা করা হবে।