English Version
আপডেট : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:১৫

ব্যস্ততা বেড়েছে নড়াইলের কামারপাড়ায়

অনলাইন ডেস্ক
ব্যস্ততা বেড়েছে নড়াইলের কামারপাড়ায়

সামনে কোরবানী ঈদ তাই ব্যাস্ততা বেড়েছে নড়াইলের বিভিন্ন এলাকার কামারপাড়ার কামারশালাগুলোতে। আদিকাল থেকে  নড়াইলের কামারদের তৈরী জিনিস পত্রের সুনাম রয়েছে।

সারা বছরই এখানকার কারিগরদের তৈরী বিভিন্ন জিনিস পত্র বাইরের জেলায় নিয়ে বিক্রয়  করেন ব্যাবসায়ীরা।  আর কুরবানী ঈদের সময় চাহিদা বেড়ে যায়। তাই কুরবানিকে সামনে রেখে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে নড়াইলের কামারদের তৈরী জিনিস পত্র যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়।

কামারপাড়ায় ঘুরে দেখা গেছে, কামারশালার অন্ধকার ঘরে লোহা পেটানোর শব্দ আর শান দেবার যন্ত্র ঘুরছে অবিরাম ।  কয়লায় আগুন ধরাতে  হাপরের  বিশ্রাম নেই, কামারশালার পাশে বাড়ছে  পোড়া কয়লার  স্তুপ। একদিকে খদ্দেরের চাপ অন্যদিকে  হাটের খুচরা দোকানে লোহা লক্কড়ের সব অস্ত্রপাতি তৈরী করতে দিন রাত কাজ করে চলেছেন তারা। খদ্দেরের অর্ডার মতো বাড়তি কাজের জন্য  কদিনের জন্য অতিরিক্ত লোক নিয়োগ করতে হয়েছে কামারশালায় ।

জানা যায়, এখানকা তৈরী জিনিস পত্র জেলার চাহিদা মিটেয়ে পার্শবর্তী  জেলা মাগুরা, যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, ঝিনায়দাহ, গোপালগঞ্জ, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাবসায়ীরা এসে নিয়ে যাচ্ছে।

বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যাবসায়ীরা জানান, নড়াইলের কামারদের তৈরী জিনিস পত্রের মান খুব ভাল। অনেক দিন ব্যাবহার করা যায়। সারা বছর নড়াইল থেকে এ সকল লোহার তৈরী জিনিস পত্র ক্রয় করে বিভিন্ন জেলাতে বিক্রয় করে তাদের ভাল লাভ হয়। বিশেষ করে কুরবানী ঈদের সময় বিভিন্ন জেলার মালের চাহিদা থাকে অনেক বেশি। এসময় লাভ হয় বেশি।  সারা বছরে টুকিটাক কাজ থাকলে ও কোরবানী ঈদের এই  সময়টায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন কামারেরা ।

খদ্দেরের পছন্দের মতো তৈরী করেন বিভিন্ন  সাইজের চাপাতি, গরু জবাই করা বড় ছুরি , চামড়া ছোলার ছোট ছুরি, দা, বটি, কুড়াল আর ছোট চাকুর মতো লোহার সব অস্ত্র । এগুলো সবই ব্যবহার হবে কোরবানীর পশু জবাই থেকে শুরু করে মাংশ ছাড়ানো আর হাড় কাটার কাজে । কেউ কেউ আবার গতবারের পুরাতন ছুরি ধার (শান) করিয়ে নিচ্ছেন নতুনভাবে কোরবানী করার জন্য ।

বিভিন্ন সুত্রে  জানা গেছে, জেলায় বিভিন্ন হাট, বাজার ও বিভিন্ন গ্রামে তিন শতাধিক কামারশালা রয়েছে, আর এই পেশার  সাথে জড়িত আছে ১৫শতাধিক লোক। জেলার আশেপাশের হাটগুলোর লোহার অস্ত্রপাতির দোকান গুলোতেও কোরবানী আসলে ভীড় বেড়ে যায়, এবছরও তার ব্যাতিক্রম হয়নি । জেলার রূপগঞ্জ হাট, তুলারামপুর , মাইজপাড়া ,শিংগা সহ সব হাটের একই চিত্র ।

ঈদের ১০ দিন আগে থেকেই ক্রেতারা ভীড় করছেন  গরু কিম্বা ছাগল জবাই এর  জন্য উপযুক্ত  অস্ত্র কিনতে । অনেকে এখনো কোরবানির গরু না কিনলে ও আগেভাগে অস্ত্র কিনে গুছিয়ে  রাখছেন । একেক টি চাপাতি ৪শ টাকা কেজি, জবাই এর ছুরি ৪’শ থেকে ৫’শ টাকা, ছোট ছুরি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এসকল কামার শালায় ।

কামাররা জানায়, সারা বছর তাদের কাজের চাপ বেশি থাকেনা, সামান্য পরিমান কাজ প্রতিদিন, কিন্তু ঈদের সময় তাদের কাজের ব্যাস্থতা বেড়ে যায় কয়েক গুন। বছরে অন্যান্য সময়ে একজন কামার কারিগর দিনে ৩শ ৫০ টাকা থেকে ৪শ টাকা এবং একজন হেলপার (সহযোগি) ২শ থেকে আড়াইশ টাকা রোজগার করেন।  কিন্তু বর্তমানে তারা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ কাজ করছে। আর তাদের ইনকামও বেড়ে গেছে। বর্তমানে একজন কারিগর দিনে ১ হাজার থেকে ১৫শ টাকা এবং একজন হেলপার (সহযোগি) ৬শ থেকে ৮শ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করছে।

পৈত্রিক পেশা ধরে রাখলে ও আধুনিকতার ছোয়া লাগেনি কামারশালাগুলোতে । তাই এসকল কামার পরিবারের ছেলে মেয়েরা নতুনভাবে এই কাজে আসছে না । সরকারী ভাবে ও কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়না প্রান্তিক এসকল জনগোষ্ঠিকে আধুনিক করার ।

নড়াইলের জেলা প্রশাসন থেকে আশ্বাস পাওয়া গেলো ভবিষ্যতে এ সকল জনগোষ্ঠির লোকদের প্রশিক্ষত করে আধুনিক যন্ত্রপাতির সাথে সম্পৃক্ত করে তাদের জীবনমান উন্নত করার ।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন, নড়াইল শিল্প সাহায়াক কেন্দ্রের উপ ব্যাবস্থাপক, জানান, নড়াইলের কারিগরদের তৈরী জিনিসি পত্রের মান খুবই ভাল, এসকল জিনিসের ব্যাপক চাহিদা  রয়েছে। কারিগররা নিজেরা  যদি উৎসাহিত হয়ে নতুন করে কোন প্রতিষ্ঠান করতে চায় আমরা তাদেরকে সাহায্য করবো। কামারদের আধনিকায়ন করার জন্য তাদেরকে কারিগরি প্রশিক্ষন দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।