শিক্ষক অরুনের বিরুদ্ধে উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাত অভিযোগ
নড়াইলের রতডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুন মন্ডলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে। তিনি শিক্ষার্থীদের ১ বছরের (জুলাই ২০১৫ হতে জুন ২০১৬) উপবৃত্তির অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
আনিত অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে অরুন মন্ডল ব্যক্তিগত মুঠোফোনে বলেন, আমার বিরুদ্ধে শিক্ষাথীসহ অভিভাবকেরা যে অভিযোগ করেছে তা বানোয়াট। যা তদন্ত্র করলে বেরিয়ে আসবে মূল রহস্য।
অপরদিকে মিঠাপুর, ইতনা, উদয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দৌলতপুর জুনিয়র হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত কয়েকদিন ধরে সারাদিন শিক্ষার্থী ও তাদের মায়েদের বসিয়ে রেখে সন্ধ্যা হতে টাকা দেয়া শুর করে গভীর রাত পর্যন্ত চলে।
অভিযোগকারিরা জানান, টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করে রাতে টাকা দেয়া হয়। একই সাথে ৪ কিস্তির ১২ মাসের টাকা। সে হিসেবে প্রত্যেক মাসের ১শ টাকা হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ১২শ টাকা করে পাওয়ার কথা।
অথচ উল্লেখিত স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা অধিকাংশ শিক্ষার্থীর অভিভাবকের নিকট ২ কিস্তির টাকা ৬শ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বিদায় করে দেন। আবার কাউকে মাত্র পঞ্চাশ টাকা।
সচেতন অভিভাবদের ৯শ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মিঠাপুর, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ৪৭৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপ-বৃত্তির আওতায় রয়েছে ৪২৮ জন। এদের কাউকেই পূর্ণ টাকা দেওয়া হয়নি।
এনিয়ে সোমবার ১২ টার দিকে স্থানীয়দের সাথে প্রধান শিক্ষক দেওয়ানের বাকবিতন্ডা শুরু হয়।
এসময় প্রধান শিক্ষককে অর্থ আত্মসাতের সহায়তাকারি লোহাগড়া কৃষি ব্যাংক শাখার কর্মকর্তা রাকিব, পলাশ কুমার, মিলন ও সুফিয়ানের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সাধারন জনগন। রাত ১ টার দিকে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে রাখে।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে লোহাগড়ার ইউএনও সেলিম রেজা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে বাকি টাকা ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে উত্তেজিত জনতাদের শান্ত করেন। তাঁর নির্দেশে সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাকসুদুল হক মঙ্গলবার মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে বাকি টাকা বিতরন করান।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন ব্যাংক কর্মকর্তাদের পুলিশ উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে গেলেও প্রধান শিক্ষক পালিয়ে যান। পরে তাকে আত্মসাতকৃত ৫০ হাজার টাকাসহ বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা হয়।
এলাকাবাসির চাপের মুখে তিনি বাকি টাকা বন্টন করে দিতে রাজি হন।
এ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবু সাঈদ বলেন, একজন প্রধান শিক্ষক যদি এভাবে শিক্ষার্থীর টাকা আত্মসাত করেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা এদের কাছ থেকে কি শিখবে?
বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি শামসুল হক ক্ষোভের সাথে বলেন, এ ঘটনায় দ্রুত মিটিং ডেকে প্রধান শিক্ষকের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অপরদিকে বিক্ষুব্ধ অভিভাবক লক্ষী রানী বিশ্বাস জানান, তার ছেলে বিভাষ ৫ম শ্রেণিতে পড়ে তাকে তাকে মাত্র ৬শ টাকা দেয়া হয়েছে। বাকি ৬শ টাকা দেয়া হয়নি।
একইভাবে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ইমন এর মা শিল্পী, প্রসেঞ্জিত এর মা মৌসুমি সহ আরো অনেকে জানান, তাদেরকে ৬শ করে টাকা দেয়া হয়েছে। বাকি টাকার দেয়া হয়নি।
এদিকে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক দেওয়ান ও সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাকসুদুল হক জানান, একসাথে ৪ কিস্তির টাকা দিতে গিয়ে একটু সমস্যা হয়েছে। মঙ্গলবার ( ১৯ জুলাই) সন্ধ্যার আগে শিক্ষার্থীদের টাকা বুঝে দেয়া হয়েছে। এ দিকে ২০জুলাই সন্ধায় ইতনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে গিয়ে দেখা যায় ইতনা ও উদয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দৌলতপুর জুনিয়র হাইস্কুলের শত শত শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উপ-বৃত্তির টাকার জন্য অপেক্ষা করছে।
সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌলতপুর জুনিয়র হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক তছলিম টাকা দেওয়া বন্ধ করে সটকে পড়লেও বাকি ২ স্কুলের টাকা বিতরন অব্যহত থাকে ।
শিক্ষার্থী সোহাগ মাতা মাবিয়া, জহিরুল মাতা কানন নাহার ,হাসিব নাজমীন, সপ্না বিশ্বাস মাতা ভারতী বিশ্বাস জানান প্রত্যেকে ১০০-২০০ টাকা পেয়েছেন। সুভা মাতা ফরিদা, মামুন মাতা সালমা, চম্পা মাতা চামেলী,আপন মন্ডল মাতা রিপা মন্ডল, সুজন বিশ্বাস মাতা মাধুরী বিশ্বাস সহ কয়েকশ শিক্ষার্থী কোন টাকা পায়নি বলে জানান।


