English Version
আপডেট : ২৩ জুলাই, ২০১৬ ১৪:০১

সামান্য লোভে হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই

উজ্জ্বল রায়
সামান্য লোভে হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই

লোভী শিকারী কারণে হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখি ও তাদের দৃষ্টিনন্দন বাসা। খাবারের জন্য ঝাঁক বেঁধে বাবুই পাখি নামে ধানসহ নানা অনাবাদী জমিতে। এ সুযোগে লোভী শিকারীরা জাল পেতে ধরে শত শত বাবু। প্রতিটি বাবুই থেকে সর্বোচ্চ দেড়শ গ্রাম মাংস পাওয়া যায়। সামান্য লোভে এভাবেই বাবুই পাখি নিধন চলছে অহরহ। বাবুই শিকার অব্যাহত থাকলে একদিন বিলুপ্তি হবে বুদ্ধিমান বাবুই পাখি।

দেশের অনেক জেলায় এখন আর চোখে পড়েনা বাবুই পাখির কারুকার্যে তৈরি দৃষ্টিনন্দন বাসা ও বাবুই। দেখতে ছোট হলেও বুদ্ধিতে সব পাখিকে  হার মানায় বাবুই। আগেকার সময়ে দেশের বিভিন্ন পল্লী এলাকায় চোখে পড়ত দৃষ্টিনন্দন বাবুই পাখির বাসা। কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান বাংলার সেই ঐতিহ্যবাহী নিপুণ বাসা তৈরির কারীগর বাবুই পাখি ও তার বাসা।

পাখিটি সু-নিপুণভাবে খড়ের ফালি, ধানের পাতা, তালের কচিপাতা, ঝাউ কাঁশবনের লতাপাতা দিয়ে সু-উঁচু তালগাছ নারিকেল গাছে চমৎকার আকৃতির বাসা তৈরি করত বাবুইরা। এ বাসা যেমন দৃষ্টিনন্দন তেমনি মজবুত। মাঝে-মধ্যে খেজুর কিংবা অন্যান্য গাছের শাখাতেও দৃষ্টিনন্দন বাসাটি বাঁধে। ছোট পাখিটি বুদ্ধিমান ও মেধাবী বলেই এরা সুন্দর বাসা তৈরি করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও প্রবল ঝড়ের বাতাসে সাথে মোকাবেলা করে টিকে থাকে তাদের বাসা। মুক্ত বুননের বাবুই পাখির বাসাটি টেনেও ছেড়া খুব কঠিন। এরা এক বাসা থেকে আরেক বাসায় যায়, পছন্দের সঙ্গী খুঁজতে।

সঙ্গী পছন্দ হলে স্ত্রী বাবুইকে সঙ্গী বানানোর জন্য খাল-বিল ও ডোবায় গোসল করে ফূর্তিতে নেচে বেড়ায় গাছের ডালে ডালে। পরে এরা উঁচু তালগাছ, নারিকেল গাছ বা সুপারি গাছের ঢালে বাসা তৈরির কাজ শুরু করে। স্ত্রী বাবুই পাখি প্রেরণা পেয়ে পুরুষ বাবুই খুবই শিল্পসম্মতভাবে নিপুণ বাসা তৈরি করে।

স্ত্রী বাবুই ডিম দেওয়ার সঙ্গে পুরুষ বাবুই খুঁজতে থাকে আরেক সঙ্গীকে। পুরুষ বাবুই এক মওসুমে একাধিক বাসা তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ এরা ঘর-সংসার করতে পারে একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে, তাতেই স্ত্রী বাবুই’র বাধা নেই। প্রজনন প্রক্রিয়ায় স্ত্রী বাবুই ডিমের তাপ দেওয়ার দু’সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চা দেয় এবং ৩/৪ সপ্তাহ পর বাবুই বাচ্চা ছেড়ে উড়ে যায়। স্ত্রী বাবুই দুধ- ধান সংগ্রহ করে এনে বাচ্চাদের খাওয়ায়। হারিয়ে যাওয়া বাবুই পাখি গত কয়েক বছর আগেও দেশে চোখে পড়ার মতো ছিল বিভিন্ন জেলায়।

মানব সমাজের এক শ্রেণির লোভী শিকারীর নিধন কারণে হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখি ও তাদের বাসা। তাই বাবুই শিকার অব্যাহত থাকলে এ দেশে থেকে একদিনের বাবুই পাখির বিলুপ্তি ঘটবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।। তাই দেশের এই পাখিটির  বিলুপ্তির হাত থেকে রেহাই পেতে দেশের সচেতন মানুষদের ঐক্যবন্ধ হওয়ার প্রয়োজন।