হজ ফ্লাইট শুরু ৪ আগস্ট প্রতিশ্রুত কোটা বাড়েনি
চলতি বছরের হজ নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। প্রস্তুতি চলছে হজে যাওয়ার। এক লাখ এক হাজার ৭৫৮ জনকে হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে প্রেরণের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সৌদি সরকারকে বাড়তি ৫ হাজার হজযাত্রী অনুমোদনের অনুরোধ জানানো হলেও তাতে সাড়া মেলেনি। ফলে অনেকে নিবন্ধন করেও এবার হজে যেতে পারছেন না। তাদেরকে আগামী বছরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এর আগে সৌদি সরকার বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছিল তারা কোটা বাড়াবে। অতিরিক্ত ৫ হাজার জনকে হজ পালনের সুযোগ দেবে। এর প্রেক্ষিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় কোটা বাড়ানোর লিখিত অনুরোধ জানায়। ইরানিরা হজে যাচ্ছে না বলে ঘোষণা দিলে বাংলাদেশ আশাবাদী হয় যে, বাড়তি সুযোগ মিলবে। তবে শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এদিকে, আগামী ৪ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্স যৌথভাবে বাংলাদেশের হজ যাত্রীদের পরিবহন শুরু করবে। হজ ফ্লাইট চলবে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আর ফিরতি ফ্লাইট ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ১৬ অক্টোবর। আগামী ৩ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে হজ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমান পথে সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমের সম্ভাবনা থাকায় এবার বিশেষ নিরাপত্তা এবং চেকিংয়ে কড়াকড়ি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাড়ানো হবে নজরদারি। লাগেজ নিয়ে প্রতিবার যে ঝামেলা হয় তা নিরসনের উদ্যোগ হিসাবে এবারও হাজীদের ফ্লাইট ফেরার আগেই জমজমের পানি আসবে। বাংলাদেশ বিমানবন্দরে অবতরণের পর প্রত্যেক হাজীকে ১০ লিটার করে জমজম কূপের পানি দেওয়া হবে। গত বছর প্রত্যেক হজযাত্রী সর্বোচ্চ ৩০ কেজি মালামাল বহন করতে পারতেন। তবে এবার হাজীদের দু’টি লাগেজের ওজন ৪৬ কেজি হতে পারবে। জানা গেছে, গত ১১ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা যে হজ প্যাকেজ অনুমোদন করেছে, তাতে এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোরবানিসহ প্যাকেজে ৩ লাখ ৬০ হাজার ২৮ টাকা এবং কোরবানি ছাড়া প্যাকেজে ৩ লাখ ৪ হাজার ৯০৩ টাকা খরচ হবে। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মূল খরচ ধরা হয় এক লাখ ৫৫ হাজার ৪৪১ টাকা। এর সঙ্গে খাওয়া-বাড়ি ভাড়া যোগ করে এজেন্টরা প্যাকেজ ঠিক করেছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর (৯ জিলহজ) হজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছর যে এক লাখ এক হাজার ৭৫৮জন বাংলাদেশি হজ পালন করতে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে রয়েছে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯১ হাজার ৭৫৮ জন এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার। এজন্য থাকবে বিমানের ১১২টি বিশেষ ফ্লাইট ও ৩২টি নির্ধারিত ফ্লাইট। আর ফিরতি যাত্রীদের জন্য থাকবে ১০৫টি বিশেষ ফ্লাইট ও ২৯টি নির্ধারিত ফ্লাইট। হজ প্রস্তুতি ও ফ্লাইট নিয়ে সমপ্রতি বিমান মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে বৈঠকে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিমানের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, হজযাত্রী বা হজ এজেন্সির ব্যাংক একাউন্ট স্টেটমেন্টে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এর প্রতিস্বাক্ষর এবং গাইড ফি বাবদ হজযাত্রীদের প্রায় পৌনে তিন কোটি হাতিয়ে নিচ্ছে । সমপ্রতি এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও। সংসদীয় কমিটি বলছে, হজযাত্রীদের জিম্মি করে এই টাকা আদায় অব্যাহত রেখেছে হাব। কমিটির সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি এমপি জানান, হাজী প্রতি ২০০ টাকা করে জমা না করলে হাব প্রতিস্বাক্ষর করছে না। হাজি প্রতি ২০০ টাকা করে হলে ৮৮ হাজার ২০০ হাজির জন্য এক কোটি ৭৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা হয়। এই বিশাল অংকের টাকা হাব কেন নেবে, তাও জানতে চান নজিবুল বশর। তিনি বলেন, বেসরকারি পর্যায়ের হজযাত্রীদের জন্য গাইড রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৫৫২ জন। এই গাইড প্রতি হাব নেতারা তিন হাজার টাকা করে ১ কোটি টাকার বেশি জমা নিচ্ছেন। এই বিশাল অংকের টাকা হাবের নেতৃবৃন্দ দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাত্ করছেন। এটি বন্ধ করতে নীতিমালা সংশোধন করা জরুরি।


