English Version
আপডেট : ২৫ এপ্রিল, ২০১৬ ২০:২১

সাড়ে চার বছরে সীমান্তে বিএসএফের হাতে ১৪৬ বাংলাদেশি হত্যার শিকার হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক
সাড়ে চার বছরে সীমান্তে বিএসএফের হাতে ১৪৬ বাংলাদেশি হত্যার শিকার হয়েছে

গত সাড়ে চার বছরে বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় নাগরিক ও বিএসএফ কর্তৃক ১৪৬ জন বাংলাদেশি হত্যার শিকার হয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

আজ সোমবার (২৫এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সিলেট ৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত সাড়ে চার বছরে বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় নাগরিক ও বিএসএফ কর্তৃক ১৪৬ জন বাংলাদেশি হত্যার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত হত্যার শিকার পাঁচজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিএসএফ কর্তৃক হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি অবৈধ পারাপারসহ বিভিন্ন অপরাধের কারণে গত আড়াই বছরে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশের (বিজিবি) হাতে আটক ৪২৩ জন ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্ত হত্যা বন্ধের জন্য দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী প্রাণঘাতী মারণাস্ত্রের পরিবর্তে সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ব্যবহার করছে।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিজিবি সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি সীমান্তে বসবাসকারী জনসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর। এরপরও বিভিন্ন কারণে সীমান্তে বিচ্ছিন্নভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটেই চলেছে। ২০১২ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত সীমান্তে ১৪৬ জন বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২০১২ সালে ৩৪ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। ২৪ জনকে বিএসএফ এবং ১০ জনকে ভারতীয় নাগরিকরা হত্যা করেছে। ২০১৩ সালে হত্যাকাণ্ডের শিকার ২৮ জনের মধ্যে ১৮ জন বিএসএফের হাতে এবং ১০ জন ভারতীয় নাগরিকদের হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন। ২০১৪ সালে বিএসএফর হাতে ২৪ জন এবং ভারতীয় নাগরিকদের হাতে ১৬ জন মিলিয়ে মোট ৪০ জন হত্যার শিকার হন। এরপর ২০১৫ সালে ৩৯ জন হত্যার শিকার হন; যার মধ্যে ৩৮ জন বিএসএফের হাতে এবং একজন ভারতীয় নাগরিকদের হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন।

মন্ত্রী আরও জানান, অবৈধ পারাপারসহ বিভিন্ন অপরাধের কারণে গত আড়াই বছরে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশের (বিজিবি) হাতে আটক ৪২৩ জন ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে ২০৯ জন, ২০১৫ সালে ১৭৪ জন এবং চলতি বছরের এ পর্যন্ত ৪০ জন ভারতীয়কে হস্তান্তর করা হয়।