English Version
আপডেট : ৫ এপ্রিল, ২০১৬ ০২:০০

'তনুর ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত নেই, পরিবারের প্রত্যাখ্যান'

নিজস্ব প্রতিবেদক
'তনুর ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত নেই, পরিবারের প্রত্যাখ্যান'

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর প্রথম ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। 

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. ডা. কে পি সাহা  সোমবার তার ব্যক্তিগত চেম্বার নগরীর বাদুরতলায় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এই হত্যাকাণ্ডের ১৫ দিন পর প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক দল। 

ডা. কে পি সাহা বলেন, প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামত নেই। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা যায়নি। শরীরে যে দুটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে তা মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট কারণ নয়। এ ছাড়া ভিসেরা প্রতিবেদনে কোনো বিষক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তিনি আরো বলেন, ২১ মার্চ ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. শারমিন সুলতানা প্রথম ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন।   ময়নাতদন্তে কোনো প্রভাবে তারা প্রভাবিত হয়েছেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. কে.পি বলেন, পৃথিবীর ৫ ভাগ ময়নাতদন্তে মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।  ‘কোনো প্রভাব ময়নাতদন্তকে প্রভাবিত করেনি। চিকিৎসক যা পেয়েছেন, তাই উল্লেখ করেছেন।’    তবে তনুর পরিবারের দাবি- তার মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন ছিল। মাথায় আঘাতের বিষয়ে মন্তব্য করেননি ডা. সাহা। এছাড়া তনুর মাথার লম্বা চুল কাটা ছিল। তারা ডাক্তারের দেয়া এমন রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।    গত ২০ মার্চ রাত সাড়ে ১০টার দিকে তনুর লাশ সেনানিবাসে বাসার দুই-তিন শত গজ দূর থেকে উদ্ধার হয়।  

এদিকে তুন হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে আজও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের অলিপুর এলাকায় ২০ মার্চ রাতে একটি কালভার্টের কাছ থেকে তনুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তনুর বাবা ইয়ার হোসেন কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলাটির তদন্ত এখন ডিবি করবে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী তনু কলেজ থিয়েটারে যুক্ত ছিলেন। তিনি টিউশনি করে ফেরার পথে খুন হন।