টাইগারদের জয়ে প্রধানমন্ত্রীর আনন্দ অশ্রু
স্বাধীনতার মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে আবারও জয় বাংলাদেশের। মিরপুরে শের-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ। আর ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর শেখ হাসিনার চোখ বেয়ে ঝরেছে আনন্দ অশ্রু।
জিতলেই ফাইনাল, এমন সমীকরণের ম্যাচে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি দেখতে মাঠে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ছোট বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং তার স্ত্রী পেপ্পি সিদ্দিককে নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
খেলার ফাঁকে ফাঁকে স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় দেখানো হচ্ছিল প্রধানমন্ত্রীকে। সরকার প্রধান বা রাষ্ট্র প্রধানদের আবেগ প্রকাশে চাপা থাকলেও জাতির জনকের কন্যা নিজের আবেগকে তা করেননি। এই দিনে তিনিও শামিল হলেন সবার সঙ্গে। হাসলেন। কাঁদলেন। দেশের পতাকা উড়ালেন। এক পর্যায়ে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি শেখ হাসিনা।
আনন্দ অশ্রু গড়িয়ে পড়তে থাকে তার দুচোখ বেয়ে। চশমা খুলে চোখ মুছতেও দেখা যায় তাকে। তখন শেখ হাসিনার পাশে ছিলেন তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল।
পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ। বেশ উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে টাইগাররা। ফলে আগামী ৬ মার্চ এশিযা কাপের ফাইনালে মহেন্দ্র সিং ধোনির মুখোমুখি হবে মাশরাফি বাহিনী।
এর আগে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই বাংলাদেশি বোলারদের আক্রমণের মুখে পড়ে পাকিস্তান। পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনে প্রথম আঘাত হেনেছিলেন পেসার আল আমিন, দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই খুররম মনজুরকে উইকেট কিপার মুশফিকুর রহিমের তালুবন্দি করান তিনি। পরে চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে পাকিস্তানের আরেক ওপেনার সারজিল খানকে বোল্ড করেন স্পিনার আরাফাত সানি।
অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা পঞ্চম ওভারের পঞ্চম বলে মোহাম্মদ হাফিজকে এলবিডব্লিউ এর ফাঁদে ফেলেন। পরে নবম ওভারের দ্বিতীয় বলে তাসকীন আহমেদের বলে সাকিব আল হাসানের ক্যাচে পরিণত হন উমর আকমল।
তবে ৮.২ ওভারে ২৮ রানে ৪ উইকেট হারানো পাকিস্তানকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন শোয়েব মালিক ও সরফরাজ আহমেদ। পরে ১৬.৪ ওভারে আরাফাত সানি শোয়েব মালিককে সাব্বিরের ক্যাচে পরিণত করে এ জুটি ভাঙ্গেন। শোয়েব মালিক ৩০ বলে ৪১ রান সংগ্রহ করেন। পরে অন্য ব্যাটসম্যানরা তেমন সুবিধে করতে না পারলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে সরফরাজ আহমেদ ৪২ বলে ৫৮ রান সংগ্রহ করেন। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ইনিংসটি সাজিয়েছেন তিনি। আর তার এ হাফসেঞ্চুরিতে ভর করেই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। বাংলাদেশের পক্ষে আল আমিন হোসেন ৩ উইকেট নিয়েছেন।
জবাবে ১৩০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশও। ইনিংসের ১.৪ ওভারে মোহাম্মদ ইরফানের বলে এলবিডব্লিউ হন ওপেনার তামিম ইকবাল, ৪ বলে ৭ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। পরে সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমান ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালান। কিন্তু ব্যক্তিগত ১৪ রানে শহীদ আফ্রিদির বলে নবম ওভারের প্রথম বলে আউট হয়ে যান সাব্বির রহমান। তবে অন্যপ্রান্তে ঠিকই সাবলীল ব্যাটিং করে রানের চাকা গতিশীল রেখেছিলেন ওপেনার সৌম্য সরকার। কিন্তু ১৩.২ ওভারে ব্যক্তিগত ৪৮ রানে আমিরের বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি। পরের ওভারে মুশফিকুর রহিমও শোয়েব মালিকের এলবিডব্লিউ এর শিকার হন। এসময় বাংলাদেশ কিছুটা চাপে পড়লেও বল আর রানের ব্যবধান কম থাকায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতেই ছিল। কিন্তু মোহাম্মদ আমিরের বলে ১৭.২ ওভারে সাকিব আল হাসান বোল্ড হয়ে গেলে ম্যাচে তীব্র উত্তেজনা ফিরে আসে।
কিন্তু মাঠে নেমেই বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফির ঝড়ো ব্যাটিং বাংলাদেশকে নিশ্চিত জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আমিরের প্রথম দুই বলেই দুটি চার মেরে বল ও রানের ব্যবধান কমিয়ে আনেন তিনি। আর আত্নবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা পাকিস্তানি বোলারদের একাধিক নো বল বাংলাদেশের জয়কে আরও সহজ করে তুলে। পরে মাহমুদুল্লাহ’র ১৫ বলে ২২ রান ও মাশরাফির ৭ বলে ১২ রানের ইনিংসে ৫ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।


