English Version
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি, ২০১৬ ১১:১১

মেট্রোরেল কাজ শুরু হলে ভয়াবহ যানজট হবে: দক্ষিণ মেয়র

নিজস্ব প্রতিবেদক
মেট্রোরেল কাজ শুরু হলে ভয়াবহ যানজট হবে: দক্ষিণ মেয়র

যানজট নিরসনে সরকারের মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হলে ঢাকায় ভয়াবহ সড়ক যানজট হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র। এ দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে রবিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সেমিনারে এমন আশঙ্কার কথা জানান মেয়র সাঈদ খোকন। এসময়ে একই কথায় ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক একমত প্রকাশ করেন।

মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘মেট্রোরেলের কাজের প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকটা খোঁড়াখুঁড়িতেই ঢাকার যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, কাজ শুরু হলে অবস্থা কোথায় যায় তা চিন্তার বিষয়। পুরো কাজ শুরু হলে যানজটের ভয়াবহ অবস্থা হবে। তাই এ বিষয়ে কী করা যায়, কীভাবে মানুষের দুর্ভোগ আরও কমানো যায় সেই উদ্যোগ এখনই নেওয়া যেতে পারে।’ তবে কাজগুলো হয়ে গেলে যানজট কমে যাবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা অযোগ্য শহরে পরিণত হওয়ার অন্যতম কারণ যানজট উল্লেখ করে সাঈদ খোকন বলেন, ‘যানজট নিরসন সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়, মূল দায়িত্ব ট্রাফিক বিভাগ এবং পুলিশের। সিটি করপোরেশন সহযোগিতা করতে পারে মাত্র।’ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সরকারের যে কয়েকটা বিভাগ কাজ করে তাদের মধ্যে একেবারেই সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এসময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তুলনায় দক্ষিণে যানজট কম বলে দাবি করেন দক্ষিণের মেয়র।

রাজধানীতে ধারণক্ষমতার অধিক জনসংখ্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যতই চেষ্টা করি যানজট সমস্যার সমাধান কঠিন। ঢাকার আশপাশে কয়েকটি স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তুলে ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে হবে।’ ১৫ দিনের জন্য হলেও রাজধানীর ভিআইপি রোডে পরীক্ষামূলকভাবে জোড়-বিজোড় পদ্ধতি চালু করার দাবি জানান সাঈদ খোকন।

উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বলেন, ‘মেট্রোরেলের কাজ চলাকালীন কঠিন সময় উপলব্ধি করতে হবে। যানজট নিরসনে উত্তর সিটি করপোরেশনে ২১ থেকে ২২টি ইউলুপ তৈরি করতে হবে।’ কাজগুলো করতে সময় লাগবে, তবে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

আনিসুল হক বলেন, ‘৫টি রুটে ৫টি কোম্পানির তিন হাজার ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য একটি বড় সিন্ডিকেটকে নাড়া দিতে হচ্ছে।’

নগরীর ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে ১২০০ নতুন উন্নত ক্যামেরা লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ট্রাফিক সিগন্যালে লাইটগুলো এক রকম সিগন্যাল দেয়, বাধ্য হয়ে ট্রাফিক পুলিশ আরেক সিগন্যাল দিচ্ছেন। ক্যামেরাগুলো লাগানো হলে ট্রাফিক পুলিশরা ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমে বসে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবেন।’

অতীতের পরিকল্পনাকারীদের দূরদর্শিতার অভাবেই রাজধানীর অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন, ডিসিপ্লিনে না আনতে পারলে ঢাকার যানজট নিরসন সম্ভব নয়। যানজটের যন্ত্রণা লাঘব করতে রাস্তার আশপাশে পার্কিং বন্ধ করতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘রিকশা বন্ধ করা উচিত। যদি তা সম্ভব না হয় অন্ততপক্ষে লাইসেন্সবিহীন রিকশাগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিত।’

‘রাজধানীর ট্রাফিক জ্যাম সমস্যা, চ্যালেঞ্জ এবং সমাধানের পথ’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের প্রকৌশল বিভাগ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েট সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স বিভাগের প্রফেসর ইঞ্জিনিয়ার ড. মো. মিজানুর রহমান। সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কবির আহমেদ ভূঁইয়া, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ট্রাফিক) অতিরিক্ত কমিশনার গোলাম ফারুখ প্রমুখ।