English Version
আপডেট : ১৫ জানুয়ারি, ২০১৬ ২০:১৯

ইসলামিক ফাউন্ডেশন খুৎবার বাংলা ও আরবি বক্তব্যে সামঞ্জস্য রাখার উদ্যোগ নিয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসলামিক ফাউন্ডেশন খুৎবার বাংলা ও আরবি বক্তব্যে সামঞ্জস্য রাখার উদ্যোগ নিয়েছে
ফাইল ছবি

মসজিদগুলোকে যেন রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহার করা না যায়, সেজন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা জানান, কোন কোন মসজিদে জুম্মার নামাজের খুতবার সময় বাংলা বক্তব্যে এমন অনেক রাজনৈতিক বিষয়ের অবতারণা করা হয়, যা পরোক্ষভাবে জঙ্গি কার্যক্রমকে উস্কে দেয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক জানান, এমন প্রক্রিয়া বন্ধ করতে এবং খুতবায় আরবিতে দেয়া বক্তব্যের সঙ্গে যেন বাংলায় দেয়া বক্তব্যের মিল থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে তারা আগামী মাস থেকে ইমামদের প্রশিক্ষণ দেবেন। সাধারণত জুম্মার নামাজের সময় খতিবরা প্রথমে বাংলায় বক্তব্য দেন। এ বক্তব্য খানিকটা দীর্ঘ হয়। এরপর আরবিতে কম সময়ে খুৎবা পড়া হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মাওলানা শামীম মো. আফজাল বলেন,বাংলা বক্তব্যের সময় অনেক সময় রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টানা হয়।খতিবরা বাংলায় যে ওয়াজ করেন সেখানে যেন তারা আরবি খুৎবার সারমর্মটি বলেন। মসজিদ আল্লাহর ঘর। সেখানে কোরান-হাদিসের পরিপন্থী অথবা কোন রাজনৈতিক দলের কথাবার্তা মসজিদে যেন ওনারা না করেন। সেজন্য খতিবদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এজন্য এরই মধ্যে একটি খতিব কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে।

খুৎবা যেন আরবিতে দেয়া হয় সেজন্য আগামী মাস থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তিনি বলেন , আমাদের দেশের হাজার বছরের রীতি খুৎবা আরবিতে দিতে হবে। এটাই আমরা মনে করি উত্তম। খুৎবাতে কোরানের আয়াত থাকে, হাদিসের আয়াত থাকে। এবং কোরান হাদিসের আলোকেই সামাজিক সমস্যাগুলো তুলে ধরে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হিসেব অনুযায়ী দেশে প্রায় তিন লক্ষ মসজিদ আছে। সব মসজিদের খতিব এবং ইমামদের চিন্তা এবং দৃষ্টিভঙ্গি একরকম নয়। ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ঢাকার একটি মসজিদের ইমাম মুফতি তানঈম হাসান মাহমুদী বলেন, তিনি আরবি খুৎবার সাথে বাংলা বক্তব্যের সামঞ্জস্য রেখে সেটিকে উপস্থাপন করেন।

তিনি আরো বলেন,আমরা বাংলা যে বয়ানটা করি সেটাকে হুবহু আরবি খুৎবায় বলি। হাদিসের রেফারেন্স ছাড়া কোন কথা হয়না। বাংলা খুৎবায় বাড়তি কিছু বলা হয় না। যেহেতু বাংলায় সময় একটু বেশি সেজন্য বুঝিয়ে বলার জন্য বিভিন্ন উদাহরণ আসে। কিন্তু এর মূল কথাটা আরবির মধ্যে চলে আসে। 

খতিবরা যাতে জঙ্গি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায় সেজন্য সরকারের তরফ থেকে তাদের আহবান জানানো হয়েছে। দেশের মসজিদগুলোতে ইমাম এবং খতিবরা কি ধরনের বক্তব্য রাখছেন সে বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক বলেন, আমি ৬০ হাজার ওলামাকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকি। প্রতিটি ইউনিয়নে আমার আট থেকে ১২ জন ইমাম এবং ধর্ম শিক্ষক আছেন। তাদের মাধ্যমে আমার একটা নেটওয়ার্ক আছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তিনি দেশের প্রত্যন্ত এলাকার মসজিদগুলো সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখেন।