English Version
আপডেট : ২৮ আগস্ট, ২০১৭ ০৫:৫৯

ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে কমছে সুদ

অনলাইন ডেস্ক
ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে কমছে সুদ

শেয়ারবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের প্রতি তেমন আগ্রহ নেই। তাদের বাজারে টানতে সুদহার সাড়ে ৭ থেকে কমিয়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনতে সম্মতি দিয়েছে অর্থ বিভাগ। এতে ভালো সাড়া মিলবে বলে ধারণা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্র জানিয়েছে, ফান্ডের প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা অলস পড়ে আছে। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতেই সুদহার কমানো এবং ফান্ডের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক আমাদের সময়কে বলেন, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে আমরা বেশকিছু প্রণোদনার প্রস্তাব দিয়েছি। পাশাপাশি ফান্ডের মেয়াদ বাড়ানোরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটি কার্যকর হলে এ ফান্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে।
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তা তহবিলের অব্যবহৃত অর্থের ব্যবহার বাড়াতে বিদ্যমান নীতিমালা অপরিবর্তিত রেখে শুধু সুদের হার কমানো হবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে অর্থ বিভাগের সম্মতি মিলেছে।
জানা গেছে, বর্তমানে তহবিলের সুদের হারের মধ্যে ৫ শতাংশ নেয় সরকার, আইসিবির সার্ভিস চার্জ নেয় ১ শতাংশ ও মার্চেন্ট ব্যাংক বা স্টক ব্রোকারেজ হাউসের ১ দশমিক ৫ শতাংশ। সব মিলে সাড়ে ৭ শতাংশ সুদ রয়েছে। সুদহার কমানো হলে সরকার নেবে ৪ শতাংশ, আইসিবির সার্ভিস চার্জ ১ শতাংশ ও মার্চেন্ট ব্যাংক বা স্টক ব্রোকারেজ হাউস ১ শতাংশ নেবে। সব মিলে সুদ হবে ৬ শতাংশ।
সূত্র জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর সহায়তায় এ ফান্ডটি শুরুতে ভালো সাড়া পায়। মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী ঋণ নিয়ে আবার অনেকে ফেরত দিয়েছে। এরই মধ্যে ফান্ডটির মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। নতুন মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারকে গতিশীল করার চিন্তা থেকে ফান্ডটির মেয়াদ আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। বিএসইসিও এ ব্যাপারে একমত। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ফান্ডটির মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর কথা। তাদের মতে, বর্তমানে ফান্ড থেকে ঋণ নিলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই তা পরিশোধ করতে হবে। এত স্বল্প সময়ের জন্য ঋণ নিয়ে বর্তমান বাজারে মুনাফা করা কঠিন হবে। এ কারণে অনেকে ঋণ নিচ্ছে না।
মার্চেন্ট ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরুর দিকে সাতটি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে ৭৫১ বিনিয়োগকারীর ২৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা ছাড় হলেও কেউ টাকা নিতে আসেনি। এ কারণে পুঁজিবাজারের সব পক্ষই এর মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে।
২০১০ সালে শেয়ারবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করতে ৯০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে। ওই তহবিল থেকে বিনিয়োগকারীদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস থেকে নেওয়া ঋণের সুদ মওকুফ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।