English Version
আপডেট : ১০ অক্টোবর, ২০১৭ ১৪:০৫

আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক
আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে পাকিস্তান

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরো ব্যবস্থা নিতে বললে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিল পাকিস্তান। এ মাসের শেষেই ইসলামাবাদ সফরে আসছেন মার্কিন বিদেশ সচিব রেক্স টিলারসন এবং ভারপ্রাপ্ত সহসচিব অ্যালিস ওয়েলস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আফগান নীতি নিয়ে আলোচনা করতেই তাদের পাকিস্তানে আসা। তার আগে পাক প্রশাসনের এক কর্তাব্যক্তিকে উদ্ধৃত করে সে দেশের সংবাদপত্র দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) নিয়ে কোনো চাপ তারা মেনে নেবে না।

আগস্টে নতুন আফগান নীতি ঘোষণা করে ইসলামাবাদের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের মুক্তক্ষেত্র জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, জঙ্গিদের মদদ দেওয়া বন্ধ না করলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে। ওই কর্তা এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব যদি ইসলামাবাদকে আরো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তবে সরকারের একটাই করণীয়-বার্তালাপ বন্ধ করা।’

তিনি আরো জানিয়েছেন, মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে তারা খতিয়ে দেখবেন পাকিস্তানের সঙ্গে আমেরিকা সম্পর্ক রাখতে চায় কি না। আফগান নীতিতে পাকিস্তানের আপত্তি গ্রাহ্য করে মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব যদি কোনো বার্তা দেন, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পরবর্তী ধাপে আলোচনা করবে ইসলামাবাদ। মার্কিন প্রতিনিধিদলকে তারা বোঝাবেন, সন্ত্রাস দমন করতে পাকিস্তানও অনেক মূল্য দিয়েছে। তাদের আলোচনায় সিপিএসইও উঠবে। বিতর্কিত এলাকা দিয়ে এই প্রকল্প নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানিয়ে আমেরিকা আগেই আপত্তি জানিয়েছে।

জঙ্গি দমনে পাক ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিক আমেরিকা, বলল চীন : বিপদের বন্ধু বড় বন্ধু, আবারও প্রমাণ করল চীন! জঙ্গিদের মদদ দেওয়া বন্ধ করানোর জন্য যখন ইসলামাবাদের ওপর উত্তরোত্তর চাপ বাড়াচ্ছে আমেরিকা, ঠিক তখনই বুক চিতিয়ে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে পড়ল চীন। শনিবার বেইজিংয়ের পক্ষে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে বলা হয়েছে, জঙ্গি দমনে পাকিস্তান ‘যেসব সক্রিয় ভূমিকা’ নিয়েছে আমেরিকা বরং তার ‘পূর্ণ স্বীকৃতি’ দিক। জঙ্গি দমনে পাক প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা পাক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। কূটনীতিকরা বলছেন, এভাবে ইসলামাবাদের পাশে বেইজিংয়ের দাঁড়িয়ে পড়ার অর্থ, যা পাকিস্তান বললে বিশ্বের কাছে তেমন গ্রহণযোগ্য মনে হতো না, সেই কথাটাই পাকিস্তান চীনকে দিয়ে বলিয়ে নিল বা ইসলামাবাদকে তার সব সময়ের বন্ধু বোঝাতে চীন কথাটা বলে দিল। কারণ, এই সেদিন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড বলেছিলেন, ‘জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলেছে পাক গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স বা আইএসআই।

‘ইসলামাবাদের এই আচরণ বদলানো উচিত ’ তারই জবাবে শনিবার চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে বলা হয়েছে, ‘জঙ্গি সন্ত্রাস দমনের লড়াইয়ে পাকিস্তান রয়েছে বিশ্বে একেবারে সামনের সারিতে। কারণ কয়েক বছর ধরে জঙ্গি দমনের জোর লড়াইটা লড়ে চলেছে পাকিস্তান। আর তার জন্য তাকে বিপুলভাবে আত্মত্যাগও করতে হয়েছে। তাই আমরা মনে করি, জঙ্গি দমনে পাকিস্তান কয়েক বছর ধরে যে ভূমিকা নিয়ে চলেছে, এবার তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।