English Version
আপডেট : ১১ অক্টোবর, ২০১৭ ১৫:১১

বছরে ১৫ হাজার নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়!

অনলাইন ডেস্ক
বছরে ১৫ হাজার নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়!

আজ সারা দেশে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস-২০১৭ পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে ১৯টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত মোর্চা ‘বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম’-এর উদ্যোগে ২০১৩ সাল থেকে দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে।

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৫ হাজার নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। আর মারা যান আট হাজারের মতো। সচেতনতা আর না জানার জন্য এই রোগ প্রতিনিয়ত বিস্তার লাভ করছে। আমাদের দেশে ৪০ বছরের পর নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। পুরুষের চেয়ে নারীদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে ১০০ শতাংশ বেশি।

স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক প্রতিরোধ, সূচনায় নির্ণয় ও স্ক্রিনিং, উপযুক্ত ও পরিপূর্ণ চিকিৎসা বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে স্তন ক্যান্সার নারীদের কাছে একটি আতঙ্কের নাম। নারীরা তাদের নিজেদের এই গোপন অঙ্গের রোগগুলো সহজে কারো কাছে বলতে চান না। ফলে তারা স্তন ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

বেশিরভাগ নারী নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন নয়। স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। তবে যেসব মা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান না, তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৫ হাজার নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। আর মারা যান আট হাজারের মতো। আমাদের দেশে ৪০ বছরের পর নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে থাকে।

বিভিন্ন কারণে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। কিছু হচ্ছে নিয়ন্ত্রণযোগ্য আর কিছু অনিয়ন্ত্রণযোগ্য।
নিয়ন্ত্রণযোগ্য কারণ-
সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো : অনেক নারী আছেন, যারা সন্তানদের বুকের দুধ খাওয়ান না। এতে করে একদিকে সন্তান অপুষ্টিতে ভোগে, আরেক দিকে মায়ের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই অবশ্যই সন্তানকে দেড় থেকে দুই বছর বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।
মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর রক্তক্ষরণ : বেশিরভাগ নারীর ৫০ বছর বয়স অতিক্রম করলে মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। ৫০ বছর বয়সের পর নারীদের যদি মাসিক বন্ধ হয়ে রক্তক্ষরণ হয়, তবে তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে।
লাল ও চর্বিযুক্ত মাংস না খাওয়া : লাল ও চর্বিযুক্ত মাংস স্তন ক্যান্সারে ঝুঁকি বাড়ায়। তাই লাল ও চর্বিযুক্ত পরিত্যাগ করতে হবে। এ ছাড়া প্রোটিনজাতীয় খাবার যেমন- মাছ, গরু ও খাসির মাংস, দুধ, ডিম স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
অতিরিক্ত স্বাস্থ্য : আপনার স্বাস্থ্য যদি বেশি বেড়ে যায় অথবা আপনি যদি অতিরিক্ত মোটা হয়ে যান। এসব নারীর স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে।
দেরিতে বিয়ে : যেসব নারী ৩০ বছরের অধিক পর বিয়ে করেন, তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে। আর ৩০ বছরের মধ্যে যারা বিয়ে করেন তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কম।

অনিয়ন্ত্রণযোগ্য কারণ-
অনিয়মিত মাসিক : অনিয়মিত, দীর্ঘস্থায়ী বা নির্দিষ্ট সময়ের আগে মাসিক হলে তা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া অনেক কিশোরী আছে যাদের ১৩-১৪ বছরের মধ্যে মাসিক হওয়ার কথা থাকলেও দেখা যায় ১০ বছরেই মাসিক হয়ে যায়; তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। অবিবাহিত ও নিঃসন্তান : অবিবাহিত ও নিঃসন্তান নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। কারণ তারা সন্তানকে কখনো স্তন পান করাননি, তাই ঝুঁকি বেশি থাকে।
বংশগত : বংশগত কারণে নারীদের স্তন ক্যান্সার হয়। যেমন কারো মায়ের যদি স্তন ক্যান্সার হয়, তবে মেয়েরও হতে পারে।