English Version
আপডেট : ৮ আগস্ট, ২০১৭ ১৭:২৮

একটি কনডম বাঁচাতে পারে নতুন মায়ের জীবন

একটি কনডম বাঁচাতে পারে নতুন মায়ের জীবন
নাইরোবির এক ধাত্রী আ-আন মুলিঙ্গে এই কিটের ব্যবহার করে কজন মায়ের জীবন বাঁচিয়েছেন।

 

বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মাতৃমৃত্যুর অন্যতম একটি কারণ হলো বাচ্চা জন্ম দেবার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। কিন্তু এর সমাধান কী?

 

সমাধান আছে, একটি কনডম সম্বলিত ৫ ডলারেরও কম মূল্যের একটি কিট পারে নতুন এই মায়ের মৃত্যু ঠেকাতে। আর এই সস্তা কিটটিতে রয়েছে একটি কনডম, একটি ক্যাথেটার বা মূত্রনিষ্কাশনযন্ত্র এবং একটি সিরিঞ্জ।

 

এই তিনটি সরঞ্জাম ব্যবহার করেই মায়ের মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব।

 

বিশ্বে প্রতি দুই মিনিটে গর্ভাবস্থায় ও সন্তান জন্মদানের সময় একজন মায়ের মৃত্যু ঘটে। এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো ব্যাপক হারে রক্তক্ষরণ। আর এর সমাধান হলো 'ইউবিটি কিট'। কিন্তু এর জন্য ৪০০ ডলারেরও বেশি খরচ করতে হয়। উন্নয়নশীল দেশের অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্যই এটা ব্যয়বহুল।

 

কিন্তু এরই নতুন সংস্করণ এসেছে যা দামে অনেক সস্তা, এর নাম 'ইএসএম ইউবিটি কিট'।

 

একটি কনডম, ক্যাথেটার ও সিরিঞ্জযুক্ত এই কিটটির মূল্য পাঁচ ডলারেরও কম।

 

বর্তমানে আফ্রিকাজুড়ে ধাত্রীদের এই কিট ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

 

কেনিয়ার নাইরোবির এক ধাত্রী আ-আন মুলিঙ্গে বলছেন, "এই পদ্ধতি ব্যবহার করে আমরা কজন মায়ের জীবন বাঁচিয়েছি। সন্তান জন্মদানের সময় কোনো নারীর যখন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়, তখন আমরা এটা ব্যবহারের পরই রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়"।

 

"একটা কনডমের মধ্যে ক্যাথেটার ঢুকিয়ে কনডমের মুখের কাছের অংশটি বেঁধে ফেলি এবং কনডমটি হাত দিয়ে জরায়ুর ভেতরে ঢুকিয়ে দিই। এরপর সিরিঞ্জ দিয়ে ক্যাথেটারে ভেতরে স্যালাইন ঢুকিয়ে ফুলিয়ে দিই কনডমটি। এটি ফুলে ওঠায় জরায়ুর মুখ বন্ধ হয়ে যায় এবং রক্তক্ষরণ থেমে যায়" বলেন নাইরোবির এই ধাত্রী।

 

গত বছর মিস মুলিঙ্গের জীবনে নতুন এক অভিজ্ঞতা হয়েছে।

 

"সন্তান জন্ম দেয়ার পর ওই মায়ের প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল অপসারিত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁর প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রক্ত অবিরত পানির মতো গড়িয়ে পড়তে থাকে"।

তখন আ-আন মুলিঙ্গের হাতে সময় অনেক কম।

 

"তখন ইএসএম-ইউবিটি কিট ব্যবহারের কথা মাথায় আসে। আমি জরায়ুতে কনডম ঢুকিয়ে ফুলিয়ে দিই। পাঁচ মিনিটের মধ্যে রক্তক্ষরণের মাত্রা কমে যায়। ওই নারী সুস্থ হয়ে সন্তানসহ বাড়ি ফেরেন" - বিবিসিকে বলছিলেন মিস মুলিঙ্গে।

বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই কিট দিয়ে চিকিৎসায় সফলতার হার অনেক।

-বিবিসি বাংলা