English Version
আপডেট : ৩ অক্টোবর, ২০১৭ ১৮:৫৬

৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করলেন মুক্তিযোদ্ধা সোনা মিয়া

অনলাইন ডেস্ক
৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করলেন মুক্তিযোদ্ধা সোনা মিয়া

চাকরি দেয়ার কথা বলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণ করেছেন টাঙ্গাইলের এক মুক্তিযোদ্ধা। ধর্ষণের ফলে ওই স্কুলছাত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।ধর্ষকের নাম সোনা মিয়া মুন্সী (৬৫)। তিনি টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের বাংড়া দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা। নির্যাতিত ওই স্কুলছাত্রী করটিয়া আবেদা খানম গালস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী।
বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার কথা বলে এক সপ্তাহ পার হলেও কোনো প্রতিকার পায়নি নির্যাতিত স্কুলছাত্রীর পরিবার। সেই সঙ্গে অন্তঃসত্ত্বার সন্তান নষ্ট করার জন্য অভিযুক্ত সোনা মিয়া বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ।

নির্যাতিত স্কুলছাত্রীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রীর পরিবার নিরীহ হওয়ায় বিভিন্নভাবে টাকা পয়সা দিয়ে সহযোগিতা করে আসছিলেন নথখোলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সোনা মিয়া মুন্সী। এই সূত্র ধরে মেয়েটির বাড়িতে যাতায়াত করতেন সোনা মিয়া।

গত ৭ মাস আগে মেয়েটির মা স্কুলছাত্রীকে সোনা মিয়ার বাড়িতে এক হাজার টাকার জন্য পাঠায়। সোনা মিয়া মেয়েটিকে একা পেয়ে ঘরের ভেতর ধর্ষণ করে। ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে না বলার হুমকি দেয়া হয়। মেরে ফেলার হুমকি দেয়ায় মেয়েটি বিষয়টি কাউকে জানায়নি।

সম্প্রতি মেয়েটির পেট উঁচু দেখে গত রোববার করটিয়ার একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে আল্ট্রাসনোগ্রাম করালে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে ডাক্তার জানায়। পরে মেয়েটি তার পরিবারের কাছে ধর্ষণের বিবরণ দেন। বিষয়টি অভিযুক্ত সোনা মিয়াকে জানালে মেয়েটির পেটের সন্তান নষ্ট করার জন্য তিনি এক লাখ টাকা দিয়ে মীমাংসার কথা জানায়।

নির্যাতিত মেয়েটির মা বলেন, আমার একমাত্র মেয়েটি যখন পেটে তখন স্বামী অন্যজনকে বিয়ে করে আমাকে ছেড়ে চলে যায়। আমি মেয়েকে নিয়ে ভাইয়ের বাড়িতে থাকি। সোনা মিয়া বিভিন্নভাবে টাকা পয়সা দিয়ে সহযোগিতা করে আসছিলেন। মেয়েকে চাকরি দেবেন বলে বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন সোনা মিয়া।

গত সাত মাস আগে এক হাজার টাকা ধার আনার জন্য মেয়েকে তার বাড়িতে পাঠালে সোনা মিয়া ধর্ষণ করে। সেই সঙ্গে বিষয়টি কাউকে জানালে মেয়েকে হত্যার হুমকি দেয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাশিল ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা রাজিক বলেন, আমি বিষয়টি শুনে নির্যাতিত স্কুলছাত্রীর বাড়িতে যািই। এ ধরনের ঘৃণিত কাজের জন্য অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। বিষয়টি মীমাংসার কথা বললেও এখনও সমাধান হয়নি।

এ বিষয়ে বাসাইল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম খান বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় নির্যাতিত স্কুলছাত্রী ও তার মা থানায় এসেছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এ প্রসঙ্গে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না বলেন, বিষয়টি শুনে আমি সোমবার দুপুরে মেয়েটির বাড়িতে গিয়েছিলাম। মেয়েটির অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।