English Version
আপডেট : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১২:৩৩

অফিস পাড়ায় ছিল ছুটির আমেজ

অনলাইন ডেস্ক
অফিস পাড়ায় ছিল ছুটির আমেজ

মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৩ দিনের সরকারি শেষে অফিস খুললেও ছুটির আমেজ কাটেনি। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে কর্মদিবসের প্রথম দিনে ছিলনা তেমন কোনো কর্মব্যস্ততা। রাজধানীর বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল জমে ওঠেনি। ঈদুল আজহায় এবার৩ দিন ছুটির মধ্যে দুদিনই শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি পড়ে গেছে। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হিসেবে এবার তারা ছুটি কম পেয়েছেন। বাড়তি ছুটি না পাওয়ায় অনেকে এবার ঢাকাতেই ঈদ করেছেন বলে আজ সোমবার অফিস খোলার পর প্রথম কর্মদিবসে উপস্থিতি ছিল অন্যান্য ঈদের পর অফিস খোলার প্রথম দিনের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি।
সাধারণত দৈনিকবাংলা থেকে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত ফুটপাতে পথচারীদের ব্যাপক ভিড় থাকে স্বাভাবিক সময়ে। কিন্তু ঈদের ছুটি কাটিয়ে ব্যাংক-বীমা অফিস খুললেও পান-সিগারেটের দুই-একটা দোকান ছাড়া ফুটপাত অনেকটাই খালি। এছাড়া বিভিন্ন অফিসের গাড়ির পার্কিং না থাকায় রাস্তাও অনেকটা ফাঁকা। দুই লেইনের রাস্তাটা যে এত বড় তা- তা অন্য সময় বোঝার উপায় থাকে না।
আজ সচিবালয়ে উপস্থিতির হার ৭৫ শতাংশের বেশি হবে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ধারণা দেন। উপস্থিতি ভালো হলেও ছুটির পর প্রথম দিনের অফিস কেটেছে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়, কোলাকুলি আর খোশগল্পে। সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের অভ্যর্থনা কক্ষটি সব সময় সরগরম থাকলেও ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে অনেকটাই ফাঁকা দেখা যায়।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সকালে দপ্তরে এসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ে দিন শুরু করেন। পরে তিনি সাংবাদিকের সঙ্গেও কথা বলেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুসহ কয়েকজন মন্ত্রী নিজ নিজ দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ঈদের কুশল বিনিময় করেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল হজ পালনে সৌদি আরব রয়েছেন। তবে মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব সকালেই তাদের দপ্তরে আসেন। 
রাজধানীর অফিসপাড়া হিসেবে খ্যাত মতিঝিলেও আজ ছিল ঈদের ছুটির আবহ। সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খুললেও স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য এখনও ফেরেনি। এদিন যারা কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন, তারা পরস্পরের সঙ্গে কুশল বিনিময়, খোশগল্প আর টুকটাক দাপ্তরিক কাজ করেই কর্মঘণ্টা পার করছেন। যারা ঢাকা বা আশপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন অফিস করেন, ছুটির পর সোমবার তারা যথারীতি কর্মস্থলে এসে যোগ দিয়েছেন। আর যারা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামে গিয়েছিলেন, তাদের অধিকাংশই এখনও ফিরতে পারেননি। কাউকে কাউকে দুপুরে এসেও কর্মস্থলে যোগ দিতে দেখা যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ইনফরমেশন সিস্টেম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের যুগ্ম পরিচালক বিশ্বজিৎ কুমার দে বলেন, ঈদের ৩ দিনের ছুটি শেষ হলেও অনেকে বাড়তি দুই-একদিন ছুটি নিয়েছেন। তবে অফিসে রুটিন কাজকর্ম চলছে। সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার সিরাজুল ইসলাম ফকির বলেন, ঈদের ছুটি কাটিয়ে অনেকে কাজে যোগ দিয়েছে। দূরত্ব বিবেচনায় অনেকে বাড়তি ছুটি নিয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে কর্মব্যস্ততা এখনও অতটা নেই। 
ব্যাংক কর্মকর্ত জানান, অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেও এদিন খুব বেশি ব্যস্ততা নেই। আর গ্রাহকের উপস্থিতি কম থাকায় ব্যাংকে লেনদেনের চাপও সেভাবে নেই। এ কারণে নিয়মিত কর্মদিবসের মত কর্মব্যস্ততা নেই আজ। স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততা শুরু হতে আরও দুই থেকে তিন দিন লেগে যাবে। 
এছাড়া মতিঝিলের একটি ব্রোকার হাউজের কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, নিয়মিত যে কর্মব্যস্ততা থাকে, আজ ততটা নেই। ঈদের ছুটি কাটিয়ে আমাদের অধিকাংশ কর্মীই ফিরেছে। কেউ কেউ বাড়তি ছুটি নিয়ে এখনও ঢাকার বাইরে আছে।
অন্যদিকে অন্যদিনের মত কর্মব্যস্ততা না থাকলেও ঢাকা শেয়ার বাজারে এদিন লেনদেন শেষ হয়েছে ঊর্ধ্বমুখী সূচক নিয়ে। বাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩২ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৩৮ পয়েন্ট হয়েছে। তবে ঈদের আগের শেষ কর্মদিবসের চেয়ে লেনদেন কমে হয়েছে ৬৬৭ কোটি টাকা। মতিঝিলে কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের বর্ধিত কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, তাদের সহকর্মীদের ২০ শতাংশ এখনও ছুটিতে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে মোটামুটি সবাই কাজে ফিরবেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি ব্যাংকের সঙ্গে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান, অনেক গ্রাহকের লেনদেন থাকে। একইসঙ্গে ওইসব প্রতিষ্ঠান বা গ্রাহকরা যদি লেনদেন না করেন, তাহলে আমাদের কর্মব্যস্তাতাও কম থাকবে- এটাই স্বাভাবিক। এসব আর্থিক-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবারের ঈদযাত্রা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন। তাদের কেউ কেউ স্বস্তির কথা বলেছেন, আবার অনেকে প্রকাশ করেছেন ক্ষোভ। নিয়মিত কর্মদিবসে যে সংখ্যক যানবাহন চলাচল করে, সোমবার মতিঝিল এলাকা ঘুরে তেমনটা চোখে পরেনি। যান চলাচল ছিল একেবারেই কম।