English Version
আপডেট : ১০ আগস্ট, ২০১৭ ০৫:৩৯

বিমানের ক্ষতি ৪০ কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক
বিমানের ক্ষতি ৪০ কোটি টাকা

চলতি বছর হজ ফ্লাইট পরিচালনায় চরম বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ বিমান। যাত্রী সংকটের কারণে গতকাল বুধবার পর্যন্ত বিমানের ১৯টি হজ ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানকে ৪০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাতে হচ্ছে।

বিমানের বলাকা অফিসে গতকাল দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এ এম মোসাদ্দিক আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর আটকা পড়া ৯ হাজার হজযাত্রী পাঠাতে জেদ্দা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া গেছে ১৪টি স্লট। এর মধ্যে সাতটি স্লটই ব্যবহার করা যাবে না। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এখন পর্যন্ত ১৯টি হজ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সর্বশেষ আজও (গতকাল) দুটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ অবস্থায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে হজ ফ্লাইট চালু রাখাকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। পরিস্থিতি বেশ কঠিন, তবে এখনো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ’

বিমানের এমডি বলেন, ‘ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কারণে প্রায় ৪০ কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের সুযোগ হারিয়েছে বিমান।

আর বাতিল হওয়া ১৯টি ফ্লাইটে ৯ হাজার ৮৮৭ হজযাত্রী সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল। অন্য দেশেও হজ ফ্লাইট নিয়ে এমন পরিস্থিতি হয় কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্য দেশে এমনটা হয় না। কারণ অন্যান্য দেশে বেশির ভাগ মানুষ সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যান। আর আমাদের দেশে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বেশি মানুষ হজে যাচ্ছেন। ’
আর্থিক ক্ষতি প্রসঙ্গে মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, ‘হজ ফ্লাইটের শুরুতেই আমরা লাভ-লোকসানের হিসাব করি না। হজ অপারেশনের শেষে হিসাব করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত যেসব ফ্লাইট বাতিল হয়েছে তাতে ৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের সুযোগ ছিল। বিমান সাধারণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। সমস্যা উত্তরণে সব কিছু করব। ’

হজ এজেন্সিগুলোর টিকিট বরাদ্দে অনিয়ম হয়েছে—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে বিমানের এমডি বলেন, ‘মাস দুয়েক আগে আমরা হজ পলিসি ঠিক করেছি। সেগুলো সব এজেন্সিকে জানানো হয়েছে। আমাদের কাছে ১১৫টি এজেন্সি টিকিটের জন্য আবেদন করেছে। তা ছাড়া এখনো আমরা প্রতিদিন ফ্লাইটের তথ্য এজেন্সিগুলোকে জানাচ্ছি। ’ অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সব হজযাত্রীকে সময়মতো জেদ্দা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আমি আশবাদী। ’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আলী আহসান বাবু, জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দ আহসান কাজী, জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ প্রমুখ।