English Version
আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০৬:৩৪

যে তিন কারণে বিএনপি আলোচনার বাইরে

অনলাইন ডেস্ক
যে তিন কারণে বিএনপি আলোচনার বাইরে

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপি এখন অনেকটাই পর্দার অন্তরালে চলে গেছে। সভা সেমিনারে দু’একটা চমক লাগানো বক্তব্য দেয়া ছাড়া দলীয় কোনো কর্মসূচি নেই বললেই চলে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এলেও বিএনপির প্রত্যাশিত সেই জোড়ালো অবস্থান চোখে পড়ছে না। এমনকি বিশ্ব জুড়ে সাম্প্রতিক আলোড়ন সৃষ্টি করা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও দলের বক্তব্য ও কর্মসূচিও গতানুগতিক।

এমন পরিস্থিতিতে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনীতির মাঠে উষ্ণতা ছড়ানোর মতো কোনো ইস্যুই পাচ্ছে না দলের শীর্ষ নেতারা। এর ওপর আবার দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে থেকে গেছেন দলীয় প্রধান। যে কারণে অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

কয়েক মাস পড়েই সিটি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে দলে যে প্রস্তুতি থাকা দরকার তা আর নেই। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেয়ার কথা তা-ও এখন আলোচনার বাইরে। বলা যায়, সাম্প্রতিক কয়েকটি কারণে একেবারেই আলোচনার বাইরে চলে গেছে প্রায় একদশক ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বৃহৎ এ দলটি।

স্বাধীনতার পর তিন তিনবার দেশের ক্ষমতায় দলটি কেন আলোচনার বাইরে রয়েছে, তার তিনটি কারণের কথা বলছেন বিশিষ্টজনরা। মোটাদাগে এসব কারণ হচ্ছে- রোহিঙ্গা সংকট, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থান আর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বব্যাপী প্রশংসার জোয়ারে ভাসা।

রোহিঙ্গা সংকটে নিষ্ক্রয়তা
হঠাৎ করে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন ও গণহত্যার কারণে স্রোতের মতো বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে। প্রথম দিকে ইস্যুটি গোটা বিশ্বে তেমন গুরুত্ব না পেলেও শেখ হাসিনা তাদের দিকে মানবতার হাত বাড়ানোতে পরিস্থিতিতে পাল্টে গেছে। বিশ্বনেতারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনার ভূমিকার প্রশংসা করছেন। পাশে দাঁড়িয়েছে জাতিসংঘ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এ ইস্যুতে শতভাগ সফল হলেও বিপাকে পড়েছে বিএনপি।

সূত্রমতে, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমুল নেতাকর্মী পর্যন্ত এ ব্যাপারে কার্যক্রম চালাচ্ছে। সবার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছুটে গেছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে।

শুধু দলীয় প্রধানই নন, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ একাধিক নেতা একাধিকবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে ত্রাণ ও নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন। পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ভারত ও চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ রোহিঙ্গাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। এক্ষেত্রে বিএনপি প্রধান দূর দেশে থাকায় নেতাদের অনেকেই নীরব হয়ে গেছেন।

খালেদা জিয়া
দীর্ঘদিন লন্ডনে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া
গেল ১৫ জুলাই লন্ডনে পাড়ি জমান দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া। চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার আর দেশে ফেরেননি। এমনকি কবে ফিরবেন তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না নেতারা। গোটা বিশ্ব যখন বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন তখন বিএনপি প্রধানের নীরবতায় অনেকেই সমালোচনা করছেন।

মূলত, দলীয় প্রধান দেশের বাইরে থাকায় রোহিঙ্গা ইস্যুকে কাজে লাগাতে পারছে না বিএনপি। তবে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল অবধি নেতাকর্মীরা ইস্যুটিকে কাজে লাগানোর জন্য বিচ্ছিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সেটাও চোখে পড়ার মত নয়।

এর মধ্যেই ক্ষমতাসীন দলের নেতারা অভিযোগ তুলছেন, দেশ যখন রোহিঙ্গা সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছে তখন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া লন্ডনে বসে সরকার উৎখাতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি ইসরাইল ও পাকিস্তানের গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন বলেও তথ্য দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এসব বক্তব্যের কারণে বিএনপি আরো বেশি চাপে পড়ছে।

নবম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিএনপি তেমন কোন জনমত তৈরি করতে পারেনি। সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময় উপযোগী পদক্ষেপের কারণেই সরকারের বিপক্ষে কোনো ইস্যু তৈরি করতে বার বার ব্যর্থ হচ্ছে বিএনপি। এমনটাই ধারণা করেছেন স্বয়ং বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্রমতে, দশম জাতীয় নিবার্চন নিয়ে আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে বিএনপি বড় কোনো কর্মসূচি পালন করতে মাঠে নামেনি। এছাড়াও বন্যা, দ্রব্যমূলের লাগামহীনতা, সর্বশেষ রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আলোচনায় আসতে না পারায় বিএনপির তৃণমুল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা জানান, বিএনপি যখনই আন্দোলন বা অন্য কোনো ইস্যু নিয়ে মাঠে নামেন ঠিক তখনই প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা সময় উপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সর্বশেষ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীনসহ বিভিন্নভাবে জনমত তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। বিশ্ববাসীর কাছে ওই ইস্যুটি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছেন। এতে শতভাগ সফলও হয়েছেন।

বিপরীত দিকে, রোহিঙ্গা মুসলিমদের জাতীয়তাবাদী ও বিএনপি ধারার রাজনীতির সমর্থক হিসেবেই ধরা হয়। সে কারণেই রোহিঙ্গাদের পাশে থেকে, তাদের পক্ষে উচ্চকণ্ঠ হওয়ার কথা বিএনপির। তবে দলীয় চেয়ারপারসন লন্ডনে থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে খানিকটা হতাশা বিরাজ করছে। ফোনে বা অন্য কোনো মাধ্যমে নিদের্শনাও পাচ্ছেন না নেতাকর্মীরা। এতে করে আলোচনা থেকে দূরে সরে গেছে বিএনপি।