English Version
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০৭:৪৬

রাজনীতির মাঠ শূন্য, তাই ফিরছেন না খালেদা

অনলাইন ডেস্ক
রাজনীতির মাঠ শূন্য, তাই ফিরছেন না খালেদা

প্রায় এক মাস থেকে দেশের রাজনীতির মাঠ দখল করে নিয়েছে রোহিঙ্গা ইস্যু। ওই ইস্যু নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। এমনকি সাধারণ মানুষও রোহিঙ্গা ইস্যুতে নজরদারি করছেন। আর এতে চাপা পড়ে গেছে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রণয়নের ইস্যুটি। আর তাই বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ারও দেশে ফিরতে দেরি হচ্ছে। এমনই আভাস পাওয়া গেছে দলীয় সূত্রগুলো থেকে।

সূত্রমতে, চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য গেল ১৫ জুলাই যুক্তরাজ্য যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া। চিকিৎসার পাশাপাশি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দলীয় কার্যক্রম, আগামী নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা নির্ধারণসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন।

তবে হঠাৎ করেই মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা কক্সবাজার দিয়ে স্রোতের মতো বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসতে থাকে। এক পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। ঝড় উঠে দেশে বিদেশে। ফলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে আসে নিরবতা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিগুলোও স্থবির হয়ে পড়ে।

নির্বাচনী কার্যক্রম স্থবির হওয়া আর রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশে বিদেশে নানা আলোচনার ঝড়ের মুখে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ব্যাপারে সরকারের ভূমিকা পর্যবেক্ষণ আর তার খুঁত বের করা ছাড়া মূলত দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির আর কিছু করার নেই। এ পরিস্থিতিতে লন্ডনে বসে বিশ্রাম নেয়া আর প্রিয়জনদের কাছাকাছি থাকাতেই কেটে যাচ্ছে বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার সময়।

সূত্র আরো জানায়, রোহিঙ্গা ইস্যু তৈরির পর থেকে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে লন্ডনে অবস্থানরত দলীয় নেতারা দেখা করার অনুমতিও পাচ্ছেন না। এতে দেশেও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তেমন কোনো কর্মসূচিও দিতে পারছে না দলটি। তবে আজ মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়সারাভাবে কক্সবাজার গিয়েছেন। রোহিঙ্গাশিবির পরিদর্শনের জন্য সেখানে অবস্থান করেছেন।

এদিকে, বিএনপির এমন স্থবিরতাকে নানা ভাবে কটাক্ষ করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি আর নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে বিএনপির সম্ভাব্য আন্দোলন চাপা পড়ছে বলে আশ্বস্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। সেই সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের দেশে না ফেরা নিয়ে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছেন জনগণের মধ্যে।

ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা কক্সবাজার সফরে গিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন ও তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করে ফিরে এসেছেন। দলীয় প্রধানের নির্দেশে নেতাকর্মীরাও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবিক বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে দলীয়ভাবেও চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল চীন সফরে গিয়ে সফল হয়েছেন।   

এর মধ্যে গেল ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হিসেবে পাঁচ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া ও তাদের পাশে দাঁড়ানোয় দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা গোটা বিশ্বের নেতাদের কাছে প্রশংসিত হচ্ছেন। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মুসলিম ও অমুসলিম দেশের নেতা ও সরকার প্রধানরাও ছুটে আসছেন বাংলাদেশে।

তবে এমন মুহূর্তে বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার দেশে অনুপস্থিতি নানাভাবে অনুভব করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে সমালোচনায় মুখর হয়ে পড়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একাধিকবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে এসেছেন। দেশের এমন পরিস্থিতিতে লন্ডনে বসে থাকায় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সমালোচনাও করছেন।

মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজার শহরে একটি অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপি এখন চরম সংকটে। কারণ দেশের এই সংকট মুহূর্তে বিএনপির চেয়ারপারসন লন্ডনে বসে আছেন। তিনি এক মাস পর আসবেন, দুই মাস পর আসবেন, এভাবে বার বার তারিখ দিচ্ছেন। তবে কেন তিনি আসছেন না তার কারণও জানতে চেয়েছেন। তবে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের প্রশ্নের কোনো নেই। এমনকি বিএনপি প্রধান কবে দেশে ফিরবেন তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না।  

সূত্রমতে, বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া লন্ডনে বসে তার বড় ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেই দলের স্থায়ী কমিটির তিনটি শূন্য পদ পূরণ, দলের বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়সহ রাজনৈতিক কর্মকৌশল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল আনা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে পরামর্শ করছেন। সেই সঙ্গে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীও চূড়ান্ত করছেন বলে ধারণা করছেন অনেকেই।

প্রসঙ্গত, চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য গেল ১৫ জুলাই লন্ডন যান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পরদিন বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। লন্ডন পৌঁছার পর থেকে বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তবে যুক্তরাজ্য যাওয়ার পর আগস্টের শুরুর দিকে একদিন মাত্র তাকে প্রকাশ্যে দেখা গেছে লন্ডনের একটি সুপার শপে। ছেলে তারেক রহমান এবং পুত্রবধূ জোবায়দা রহমানকে নিয়ে পণ্য যাচাই করতে।

গেল ৯ আগস্ট লন্ডনের মনফিল্ড হাসপাতালে বিএনপি নেত্রীর চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে বলেও জানায় দলটি। নেতারা জানান, ঈদুল আজহার পর ১০ সেপ্টেম্বর দলীয় প্রধানের চোখ ও হাঁটুর চূড়ান্ত পরীক্ষা করা হয়েছে।