English Version
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৩:৫৭

নির্বাচনী মাঠে বিএনপির ৩০০ তরুণ নেতা

অনলাইন ডেস্ক
নির্বাচনী মাঠে বিএনপির ৩০০ তরুণ নেতা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপিতে মনোনয়ন চান তিন শতাধিক তরুণ নেতা, যারা বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সিনিয়রদের চেয়েও বেশি নিবেদিত ছিলেন দলীয় কর্মসূচিতে। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির এসব নেতার রাজনৈতিক পরিপক্বতাও ইতোমধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত। জানা গেছে, এবার বিএনপির মনোনয়নে বেশি সংখ্যক তরুণ নেতা প্রাধান্য পাবেন। দলের এমন নীতির সুযোগে ইতোমধ্যে উঠেপড়ে লেগেছেন এসব উদীয়মান তরুণ নেতা। মনোনয়নপ্রত্যাশী কয়েকজন তরুণ নেতা মনে করেন, আগেরদিনের নাম-করা নেতারা শুধুই অলঙ্কারে পরিণত হয়েছেন। রাজনীতির জন্য যা দরকার, তা তারা করছেন না। তাদের কারণে বিভিন্ন আসনে বিএনপির প্রতি মানুষের অনীহাও সৃষ্টি হয়েছে। তারা নিজেদের সম্পদ এবং দলকে জিম্মি করার কাজেই ব্যস্ত ছিলেন গত এক দশকে।

তরুণ নেতাদের মধ্যে অধিকাংশই অঙ্গ ও সহযোগী দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর বাইরে আছেন বেশ কিছু তরুণ ব্যবসায়ী নেতা। সব মিলিয়ে তিন শতাধিক নেতার সরব হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও মনোনয়ন পেতে পারেন সর্বোচ্চ ৫০-৬০ জন তরুণ নেতা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে তরুণদের জয়জয়কার। নবীন-প্রবীণের সমন্বয় করায় দল অনেকটাই চাঙ্গা। নীতিনির্ধারকরাও তরুণদের ওপর আস্থাশীল হয়ে উঠছেন। এর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে আগামী সংসদ নির্বাচনে।

মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে মেধাবী এবং উদ্যমী তরুণরা বেশকিছু কারণে এগিয়ে থাকবেন। বিশেষ করে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে তারাই ছিলেন সক্রিয়। ক্ষমতায় থাকাকালে অনেকে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করলেও দলের দুর্দিনে তারা কেটে পড়েন। নিজ সম্পদ এবং পরিবার রক্ষায় ছিলেন ব্যস্ত। এসব সুবিধাবাদী সাবেক মন্ত্রী-এমপির পরিবর্তে উদ্যমী তরুণদের মনোনয়ন দেওয়ার পক্ষে দলের বড় একটি অংশ। জানা গেছে, ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে আসছে বিএনপি। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫ জনের মতো তরুণ নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৭ জন এমপির পাশাপাশি কয়েকজন মন্ত্রীও হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও এই ধারা অব্যাহত ছিল। দলের চরম দুর্দিনেও ওই নির্বাচনে শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী-আবুল খায়ের ভূঁইয়া-ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফার মতো তরুণ নেতারা এমপি নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি।

সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকায় যারা মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যে তোড়জোড় শুরু করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীম (ঢাকা-১০), যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব (ঢাকা-১২), সাবেক ছাত্রনেতা বজলুল বাসিত আঞ্জু (ঢাকা-১৫), যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান (ঢাকা-১৪), যুবদলের ঢাকা মহানগর (উত্তর) সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর ও তরুণ ব্যবসায়ী নেতা বাহাউদ্দিন সাদী (ঢাকা-১৮)। এই আসনে দুই তরুণ নেতা আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন। যুবনেতা এসএম জাহাঙ্গীর এবং তরুণ ব্যবসায়ী ও জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ বাহাউদ্দিন সাদীর সঙ্গে সৃষ্ট বিরোধ ঢাকার বিএনপিতে ব্যাপক আলোচিত বিষয়। তবে অধিক সংখ্যক স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতৃত্ব সঙ্গে রেখে মনোনয়ন-দৌড়ে নিজেকে ভালোভাবে এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন তরুণ ব্যবসায়ী বাহাউদ্দিন সাদী। তরুণ দুই মনোনয়নপ্রত্যাশী বিরোধে শক্তিশালী অবস্থানে আছেন সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম।

ঢাকা-৭ আসন থেকে প্রয়াত নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা ছাড়াও মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম রাসেল এই আসনে নির্বাচন করতে চান। ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শেখ রবিউল আলম (ঢাকা-১০), মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কমিশনার আহসান উল্লাহ হাসান, বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক (ঢাকা-১৬), এছাড়া গুলশানের যেকোনো একটি আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন নির্বাহী কমিটির তরুণ নেতা তাবিথ আউয়াল।

এছাড়া সারাদেশে আরো অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা সময় দিচ্ছেন এলাকায়। সম্প্রতি উদযাপিত ঈদুল আজহায় নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় জনসংযোগে ব্যস্ত ছিলেন এসব তরুণ মনোনয়নপ্রত্যাশী। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব দীর্ঘদিন ধরে রয়েছেন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে। এবার তিনি পাবনার ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া থেকে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার জন্য কাজ করছেন। বিএনপির সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি ফেনী-৩, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স ময়মনসিংহ-১ এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম-৯ আসনে প্রার্থী হতে চান। ছাত্রদলের একসময়কার ব্যাপক আলোচিত নেতা সানাউল হক নীরু নরসিংদীর বেলাবো থেকে নির্বাচন করতে চান।

এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু এবার লক্ষীপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম আজাদ মুন্সীগঞ্জ-২, যুবদলের সহ-সভাপতি ফরহাদ হোসেন আজাদ পঞ্চগড়-১ এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক ইলিয়াস খান এবার বরিশাল-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেতে চান। বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল ফরিদপুর-২ এবং বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলীম সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ-চৌহালী আসনে। নরসিংদী-৪ আসনে মনোনয়ন-দৌড়ে এবার যুক্ত হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলও। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, সালাউদ্দিন ভূঁইয়া শিশির ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কৃষকদলের নেতা তকদির হোসেন জসিম ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, শেখ মোহাম্মদ শামীম ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, আকরামুজ্জামান বিপ্লব কুমিল্লা-৩, যুবদলের সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম কুমিল্লা-৮, ময়মনসিংহ-১০ আসনে আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, তাঁতীদলের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু চাঁদপুর-৫, ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোস্তফা খান সফরী চাঁদপুর-২, যুবদলের দফতর সম্পাদক কাজী রফিক চাঁদপুর-৪, ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি জয়ন্ত কু-ু ঝিনাইদহ-১, ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি হায়দার আলী লেলিন ভোলা সদর, বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু নাটোর-১, ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন মাদারীপুরের কালকিনি, বিএনপির সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আমিরুজ্জামান শিমুল ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর-মহেশপুর) থেকে মনোনয়ন চাইছেন। বিএনপির সংস্কৃতি বিষয়ক সহ-সম্পাদক জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মনির খানও এই আসনে প্রার্থী। ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) হামিদুল ইসলাম হামিদ ও সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, পটুয়াখালী-১ অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহার, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) মুনির হোসেন, পটুয়াখালী-৩ আসনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান মামুন।

যুবদলের ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) সভাপতি রফিকুল আলম মজনু ফেনী সদর, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু ঝালকাঠি-২, বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা মুনির হোসেন পটুয়াখালীর দুমকীতে দলীয় মনোনয়ন পেতে চান।

তারকা ফুটবলার সাঈদ হাছান কানন নোয়াখালী-৬ এবং জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন নীলফামারী-৪ থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন এবার। সাবেক ছাত্রনেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া, ইডেন কলেজের সাবেক ভিপি হেলেন জেরিন খান মাদারীপুর, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কলমাকান্দা-দুর্গাপুর এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ফরিদপুর-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে অনেকটাই নিশ্চিত। বিএনপির টিকিটে খুলনা-৪ থেকে মনোনয়ন পাচ্ছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলালও।

নওগাঁ-৬-এ মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সাবেক এমপি মোতাহার হোসেন চৌধুরীর ছেলে ছাত্রদলের সাবেক নেতা মামুন চৌধুরী। সিরাজগঞ্জ-৬ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম। পঞ্চগড়-২ আসনে সাবেক এমপি মোজাহার হোসেন মারা যাওয়ায় ছাত্রদলের সাবেক নেতা ফরহাদ হোসেন আজাদ একক প্রার্থী হিসেবে এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। মাদারীপুর-১ থেকে তরুণ নেতা জামান কামাল মোল্লা নূরুদ্দীন অনেকটা এগিয়ে আছেন। এছাড়া কিশোরগঞ্জ-৫ থেকে ছাত্রদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এবং তরুণ ব্যবসায়ী নেতা শফিকুল আলম রাজন মনোনয়ন-দৌড়ে এগিয়ে আছেন। সাবেক এমপি মারা যাওয়ায় এবার তার মনোনয়ন পাওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম-২ আসনে বিগত সময়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন যুদ্ধাপরাধী মামলায় ফাঁসি হওয়া সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। এই আসনে এবার তার স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী এবং ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী ছাড়াও তরুণ সাংবাদিক নেতা কাদের গনি চৌধুরী মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন।