English Version
আপডেট : ১১ নভেম্বর, ২০১৭ ১৬:২৩

আওয়ামী লীগের দাবি মেনে নেবে ইসি

অনলাইন ডেস্ক
আওয়ামী লীগের দাবি মেনে নেবে ইসি

আগামী সংসদ নির্বাচনে বর্তমান আইন দিয়ে নির্বাচন করবে ইসি। ফলে সংলাপে আওয়ামী লীগ যে দাবি করেছিল সেটি মেনে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে রবিবার একটি বৈঠক করবে কমিশনাররা। ঐ বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধন্ত হবে।

ইসি সূত্র জানায়, সংলাপে বিএনপি চেয়েছিল নতুন আইনে সংসদীয় সীমানা নির্ধারণ করতে। আর আওয়ামী লীগের দাবি ছিল সীমানা পরিবর্তন না করে বর্তমান আইন দিয়ে নির্বাচন দিতে।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, রোডম্যাপ ধরে নতুন আইনে সীমানা করতে গেলে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি হাতে নেই ইসির। জানুয়ারিতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, সামনে স্থানীয় নির্বাচন, সীমানা নিয়ে খসড়া প্রকাশের পর নিষ্পত্তি, শত শত মামলা জটিলতাসহ নানা ধরনের বিষয় রয়েছে। সর্বোপরি ইসি প্রস্তাবিত আইনের খসড়া মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক ও সংসদের অনুমোদনের মতো বড় বিষয় রয়েছে। সরকারের সাড়া না পেলে নতুন আইন নিয়ে কাজ করার চেয়ে বিদ্যমান অধ্যাদেশের আলোকেও প্রস্তুতি রাখতে হচ্ছে জানান কর্মকতারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, কোন আইনে সীমানা পুনর্নিধারণ হবে তা আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। আগামী বৈঠকে এ ব্যাপারে কমিশনাররা সিদ্ধান্ত নেবে। কমিশন যে সিদ্ধান্ত নেবে সচিবালয় তা বাস্তবায়ন করবে।

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘সীমানা নিয়ে আমাদের অবস্থান জানানো হয়েছে। এখন বিএনপি’র কথা না শুনে আওয়ামী লীগের মতো করলে তো বিতর্ক হবে। সীমানা নিয়ে তো বিতর্ক আছেই, ভালো হয় যদি ইসি সুষ্ঠু ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।’

ইসি সচিবালয়ের পক্ষ থেকে কমিশন সভার জন্যে প্রস্তুত করা প্রস্তাবে বলা হয়েছে- বিদ্যমান সীমানা পুননির্ধারণ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ রহিত করে একটি নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। নতুন আইনটি অনুমোদন করে কার্যকর করা সম্ভব হলে এ আইনের আলোকে জেলাভিত্তিক বর্তমান আসন সংখ্যার পরিবর্তন এনে নতুন করে সীমানা নির্ধারণ সম্ভব ছিল।

‘নতুন আইনটি চূড়ান্ত করে অনুমোদন পেতে যে সময়ের প্রয়োজন তারপর নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুননির্ধারণ করা কোনোভাবেই সম্ভব না।’

কারণ, নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার অন্তত ছয় মাস আগেই সীমানা নির্ধারণ গেজেট জারি করা প্রয়োজন বলে মত দেওয়া হয়।

শঙ্কা নিয়ে ইসি সচিবালয় বলেছে, ‘নতুন আইনের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকলে এটা করা সম্ভব হবে না। পরে নির্বাচন অনুষ্ঠান অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।’

ইসি সচিবালয় কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যামান নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ দিয়েই সংসদীয় আসনের সীমানায় ছোটখাটো পরিবর্তন এনে একাদশ সংসদ নির্বাচন দিতে চায় ইসি। এ লক্ষ্যেই সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত কার্যপত্র প্রস্তুত করেছে ইসি।

বিদ্যমান আইনটি রোহিত করে বাংলায় নতুন যে আইন প্রণয়নের প্রস্তাবণা তৈরি করা হচ্ছে সেটি দিয়ে আপাতত সীমানা পুননির্ধারণ সম্ভব নয়। এটি চূড়ান্ত অনুমদন পেলে দ্বাদস সংসদ নির্বাচনে ব্যবহার করা হতে পারে। প্রস্তাবিত আইন প্রণয়নে বিলম্বের কারণে নতুন আইনটি কার্যকর হচ্ছে না।

ইসির আইন শাখার কর্মকর্তারা বলেন, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সামরিক ফরমান দ্বারা জারিকৃত অধ্যাদেশসমূহ বাতিল ঘোষিত হয়। অন্যান্য অধ্যাদেশের সাথে নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ এর কার্যকারিতা লোপ পায়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ৬ নং আইন দ্বারা অন্যান্য কতিপয় অধ্যাদেশের সাথে উক্ত অধ্যাদেশটি কার্যকর রাখা হয়েছে। ফলে বিদ্যমান আইনটি দিয়ে আগামী সীমানা পুননির্ধারণে কোন সমস্যা নেই। এক্ষেত্রে বিলুপ্ত ছিটমহল এবং নতুন উপজেলা বা প্রশাসনিক এলাকা বিভিন্ন সংসদীয় আসনের যুক্ত করার কম-বেশি চিন্তা-ভাবনা রয়েছে।

সংলাপে বিএনপি চেয়েছে ২০০১ সালে সংসদীয় আসনের যে সীমানা ছিল সেটি ফিরিয়ে আনতে। কারণ ২০০৮ সালে অধিকাংশ আসন পরিবর্তন করে ইসি। আর আওয়ামী লীগ চায় বর্তমান আসন।

বিএনপির অভিযোগ ২০১৮ সালে তাদের আসনগুলোকে ভেঙ্গে দলকে বিপদে ফেলানো হয়েছে। কারণ যে এলাকায় বিএনপির দুটি আসনে ভাল সমর্থক ছিল সেখানে ১টি করা হয়েছে। ফলে দলীয় একটি আসন কমে গেছে। আবার একই আসনে বিএনপি সমর্থিত এলাকা অন্য আসনের মধ্যে ডুকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

ইসির তথ্য মতে, এর আগে ২০০১ সালেও ১৯৯৫ সালের সীমানার গেজেট বহাল রাখা হয়েছিল। ১৯৮৪, ১৯৯১ সালের পর ২০০৮ সালে সংসদীয় আসনে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়। এক-এগারো পুনগর্ঠিত ড. শামসুল হুদার কমিশন সারাদেশের পার্বত্য ৩টি জেলা বাদে ২৯৭ আসনেই পরিবর্তন নিয়ে আসে। এর মধ্যে ১৩৩টিতে পরিবর্তন আনা হয় বড় পরিসরে। এই ব্যাপক সীমানায় ভাংচুর ও তছনছ করার মাধ্যমে ঢাকায় আসন বাড়ে ৮টি, কমে জেলাতে আসন সংখ্যা। সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, বরগুনা, বরিশাল ও ফরিদপুরে একটি করে আসন কমে। ২০০৮ সীমানা বহাল রেখে ২০১৩ সালে অল্প কিছু আসনে পরিবর্তন এনে দশম সংসদ নির্বাচন দেয় ইসি।